Adda Station একটি বাংলা ডিজিটাল মিডিয়া ও ইউটিউব পডকাস্ট চ্যানেল, যেখানে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি, প্রশাসন, ইতিহাস, অনুসন্ধানী কেস এবং বিনোদন জগতের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে তথ্যভিত্তিক ডিপ-ডাইভ আলোচনা প্রকাশ করা হয়।
এই চ্যানেলে রয়েছে—
Celebrity Interviews | Political Discourse | IPS & Administrative Insights
The Bengal Files | Kolkata Dark History | Investigative Stories
Bengali Entertainment News & Analysis
Adda Station বিশ্বাস করে যাচাই করা তথ্য, প্রেক্ষিতভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং দীর্ঘ ফরম্যাট আলোচনায়।
Adda Station is a Bengali digital media platform and YouTube podcast channel focused on West Bengal politics, investigative storytelling, administrative interviews, and regional entertainment.
Adda Station
সেলুলয়েডের আলো যখন নিভে যায়, তখন থেকে যায় কেবল মায়ার কিছু প্রতিচ্ছবি আর বুক চিরে বেরিয়ে আসা স্মৃতির দীর্ঘশ্বাস। বাংলা সিনেমা ও দর্শকহৃদয়ের এক অপূর্ব মায়াবী অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে চলে গেলেন অভিনেত্রী মিঠু মুখার্জি। তাঁর প্রয়াণ কেবল একজন শিল্পীর চলে যাওয়া নয়, এ যেন এক সোনালি স্মৃতিকাতর সময়ের সশব্দে দরজা বন্ধ করে দেওয়া। সত্তর ও আশির দশকের যে বাঙালি যৌথ পরিবারের আঙিনায় বসে নির্ভেজাল হাসিকান্নার আস্বাদ পেত, যে বাঙালি পর্দায় এক ঝলক স্নিগ্ধ প্রেমের জন্য তৃষ্ণার্ত হয়ে থাকত—মিঠু মুখার্জির প্রয়াণে সেই বাঙালির বুকের ভেতরটা আজ দুমড়ে-মুচড়ে উঠল।
পর্দার সেই ডাগর চোখ, চপল হাসির ঝিলিক আর ঠোঁটের কোণে লুকিয়ে থাকা সামান্য অভিমান—সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন এক আশ্চর্য জাদু। যিনি কোনো কৃত্রিম নাটুকেপনা ছাড়াই অত্যন্ত সহজ ভঙ্গিতে আপামর বাঙালির মন জয় করে নিয়েছিলেন।
মিঠু মুখার্জির কথা মনে পড়লেই অবধারিতভাবে যে নামটি মনের মণিকোঠায় প্রথম ভেসে ওঠে, তা হলো পরিচালক অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়ের কালজয়ী রোম্যান্টিক কমেডি ‘মৌচাক’ (১৯৭৪)। বাঙালির যৌথ পরিবারের টানাপোড়েন, দাদার শাসন আর শ্যালক-ভগিনীপতির খুনসুটির মাঝে মিঠু মুখার্জি ছিলেন একরাশ দক্ষিণা বাতাসের মতো। রঞ্জিত মল্লিকের বিপরীতে সেই সরল, প্রাণোচ্ছ্বল তরুণীর চরিত্রে তাঁর অনায়াস অভিনয় আজও প্রতিটি দর্শকের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। মৌচাকের সেই গানগুলো মনে পড়ে? যখন ব্যাকগ্রাউন্ডে বেজে ওঠে আশা ভোঁসলের গলায় গান কিংবা পর্দার টানটান রোম্যান্স—মিঠুর অভিব্যক্তি ছিল অনবদ্য। তিনি পর্দায় এলেই যেন চারপাশের আবহ হালকা ও সুরভিত হয়ে উঠত।
‘মৌচাক’ কেবল একটি সিনেমা ছিল না, তা ছিল মধ্যবিত্ত বাঙালির নির্মল আনন্দের এক নিরাপদ আশ্রয়। আর সেই আশ্রয়ের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে মিঠু মুখার্জি তাঁর সহজাত মিষ্টি মুখের আদল আর সারল্য দিয়ে দর্শকদের বেঁধে ফেলেছিলেন এক অদৃশ্য সুতোয়। তাঁর সেই মিষ্টি হাসি যেন বাঙালির ঘরের মেয়ের প্রতিচ্ছবি। কোনো মেকি আধুনিকতা নয়, নিখাদ বাঙালি সারল্যের এক অপরূপ প্রকাশ ছিলেন তিনি।
শুধু ‘মৌচাক’ নয়, বাংলা চলচ্চিত্রে তিনি যখন পা রাখেন, তখন সুচিত্রা সেন, সুপ্রিয়া দেবী বা অপর্ণা সেনের মতো মহীরুহদের যুগ ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। সেই পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে এক নতুন ধরনের সতেজতা নিয়ে এসেছিলেন মিঠু মুখার্জি। তরুণ মজুমদারের ‘সংসার সীমান্তে’ (১৯৭৫)-র মতো চলচ্চিত্রে তাঁর উপস্থিতি প্রমাণ করেছিল যে তিনি কেবল রোম্যান্টিক কমেডির চটুল মিষ্টি নায়িকা নন, জটিল মানসিকতা ও গভীর আবেগের চরিত্র ফুটিয়ে তুলতেও তিনি সমান পারদর্শী ছিলেন। উত্তম কুমারের সঙ্গে কাজের স্মৃতি হোক বা সমকালীন শক্তিমান অভিনেতাদের সান্নিধ্য—তিনি নিজের স্বকীয়তায় সবসময় আলাদা একটি পরিচিতি তৈরি করতে পেরেছিলেন।
বাংলা সিনেমার সীমানা পেরিয়ে তিনি পা রেখেছিলেন হিন্দি সিনেমার দুনিয়াতেও। দুলাল গুহ পরিচালিত ‘খান দোস্ত’ (১৯৭৬)-এর মতো সিনেমায় তিনি রাজ কাপুর এবং শত্রুঘ্ন সিনহার মতো মহাশক্তিধর অভিনেতাদের বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন। এছাড়া ‘দিল্লাগি’ (১৯৭৮)-র মতো বহু স্মরণীয় চলচ্চিত্রেও তিনি কাজ করেছিলেন। বলিউডের ঝলমলে আলোতেও তিনি তাঁর সহজাত বাঙালি লাবণ্য এবং সরলতা হারাননি। বোম্বের চাকচিক্য তাঁকে টানলেও, তাঁর ভেতরে বাস করত এক সংবেদনশীল মন, যা বরাবর মেকি প্রচার আর সস্তা খ্যাতি থেকে দূরে থাকতে চাইত।
মিঠু মুখার্জির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি কিংবা তাঁর ব্যক্তিত্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক ছিল তাঁর নিভৃতচারিতা। খ্যাতির মধ্যগগনে থাকা অবস্থাতেই একসময় তিনি রূপোলি পর্দা থেকে সরে দাঁড়ান। যেখানে তারকারা একটু প্রচারের জন্য, এক টুকরো খবরের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন, সেখানে মিঠু মুখার্জি বেছে নিয়েছিলেন সম্পূর্ণ নীরব এক জীবন। ক্যামেরা, সাক্ষাৎকার, সংবর্ধনা আর করতালির শব্দ থেকে শত যোজন দূরে তিনি সাজিয়ে নিয়েছিলেন তাঁর নিজস্ব এক নিভৃত ভুবন। সুচিত্রা সেনের মতোই যেন এক স্বেচ্ছানির্বাসন। তিনি চাননি বয়সের ছাপ তাঁর পর্দার সেই চিরতরুণী রূপটিকে ম্লান করে দিক। তিনি চেয়েছিলেন মানুষ যেন তাঁকে মনে রাখে সেই ‘মৌচাক’-এর মিষ্টি মেয়েটি হিসেবেই।
আজ যখন তাঁর চিরতরে চলে যাওয়ার সংবাদ এল, তখন বহু যুগ পর আবার নতুন করে হাহাকার জেগে উঠল বাঙালির অন্তরে। তাঁর চলে যাওয়া যেন মনে করিয়ে দেয়, সময় কত দ্রুত বয়ে যায়। যে মানুষগুলো আমাদের শৈশব ও কৈশোরকে রঙিন করে রেখেছিলেন, রবিবারের অলস দুপুরে দূরদর্শনের পর্দায় যাঁদের দেখে মধ্যবিত্ত পরিবারের সব ক্লান্তি দূর হয়ে যেত, তাঁরা একে একে সবাই নক্ষত্রলোকের দিকে পাড়ি জমাচ্ছেন।
মিঠু মুখার্জি চলে গেলেন না-ফেরার দেশে। যেখানে কোনো ক্যামেরার ফ্ল্যাশ নেই, নেই কোনো অ্যাকশন বা কাটের নির্দেশ। কিন্তু তিনি রেখে গেলেন সেলুলয়েডে বন্দি তাঁর সেই মায়াবী চোখ দুটি, তাঁর সেই ভুবনভোলানো হাসি। যত দিন বাঙালি যৌথ পরিবারের নিখাদ আনন্দকে ভালোবাসবে, যত দিন বাংলা সিনেমার রোম্যান্টিক সুবর্ণযুগ নিয়ে আলোচনা হবে, তত দিন মিঠু মুখার্জির নাম শ্রদ্ধা ও গভীর ভালোবাসায় উচ্চারিত হবে।
রূপোলি পর্দার নিভৃতচারী সেই রাজকন্যা আজ অনন্তের পথে। বিদায়, আমাদের স্মৃতির অমলিন মৌচাক-কন্যা। আপনার রেখে যাওয়া শিল্প ও সারল্যের সৌরভ বাঙালির হৃদয়ে চিরকাল অমলিন হয়ে বেঁচে থাকবে।
#MithuMukherjee #Bengaliactor #Addastation
9 hours ago | [YT] | 116
View 10 replies
Adda Station
"আগুন লেগে গলায় জড়িয়ে গেছিল... ভেবেছিলাম এটাই আমার শেষ ছবি!" 🔥 পর্দার হিরোদের হিরো বানাতে গিয়ে যাঁরা প্রতিদিন মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়ান, তাঁদের জীবনের আসল গল্পটা ঠিক কতটা ভয়ংকর 🚨?
বেনারসি শাড়ি পরে আগুনের শর্ট দিতে গিয়ে যখন সারা গায়ে আগুন লেগে গিয়েছিল, কিংবা ১৪০ ফুট উঁচু টাওয়ারে ৬ ঘণ্টা ঝুলে থাকতে হয়েছিল—তখন বারবার মনে হয়েছিল, হয়তো এটাই জীবনের শেষ দিন 🏗️!
শুটিং ফ্লোরে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়লেও জোটে না কোনো ইনস্যুরেন্স বা মেডিকেল সুবিধা 💔! ২০ বছর ধরে একসাথে কাজ করা টলিউডের প্রথম সারির হিরোরাও আজ তাঁকে চিনতে অস্বীকার করে 😔!
স্টান্টম্যানদের জীবনের এই না-বলা যন্ত্রণা আর পর্দার পেছনের অন্ধকার সত্যিটা এবার ফাঁস হবে খোদ অ্যাকশন ডিরেক্টর চিত্ত কবিরাজের মুখ থেকেই 💣!
▶️ সম্পূর্ণ এপিসোড
🕑 আজ ঠিক দুপুর ২টোয়!
📍 শুধুমাত্র Adda Station-এর YouTube চ্যানেলে।
এই রোমহর্ষক ও ইমোশনাল এপিসোডটি কোনোভাবেই মিস করবেন না! 🛑 ক্যামেরার পেছনের আসল সত্যি জানতে এখনই ইউটিউবে Adda Station চ্যানেলটি Subscribe করুন এবং বেল আইকন (🔔) প্রেস করুন। 👇
#ChittoKabiraj #stuntman #tollywood #addastation #podcastwithroshni
3 days ago | [YT] | 91
View 0 replies
Adda Station
"অমিতাভ বচ্চনের পাশে দাঁড়িয়েও আমরা অচেনা!" 😔 অমিতাভ বচ্চন থেকে শুরু করে টলিউড-বলিউডের তাবড় তাবড় তারকাদের সাথে কাজ করেছেন! অথচ দীর্ঘ ২৫ বছরের ক্যারিয়ারে ৩০০-এর বেশি সিনেমায় কাজ করেও তাঁরা আজ সাধারণ মানুষের কাছে সম্পূর্ণ ব্রাত্য 🎬।
রূপোলি পর্দার হিরোদের হিরো বানাতে গিয়ে যাঁরা প্রতিদিন মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়ান, সেই স্টান্টম্যানদের জীবনের আসল গল্পটা কী 🚨? ২০ বছর ধরে একসাথে কাজ করা টলিউডের প্রথম সারির হিরোরা কেন আজ তাঁদের চিনতে অস্বীকার করে 💔?
মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়েও স্টান্টম্যানদের না-বলা যন্ত্রণা আর পর্দার পেছনের অন্ধকার সত্যিটা এবার ফাঁস হবে খোদ প্রখ্যাত ফাইটার চিত্ত কবিরাজের মুখ থেকেই 💣!
▶️ সম্পূর্ণ এপিসোড
🕑 আজ ঠিক দুপুর ২টোয়!
📍 শুধুমাত্র Adda Station-এর YouTube চ্যানেলে।
এই রোমহর্ষক ও ইমোশনাল এপিসোডটি কোনোভাবেই মিস করবেন না! 🛑 ক্যামেরার পেছনের আসল সত্যি জানতে এখনই ইউটিউবে Adda Station চ্যানেলটি Subscribe করুন এবং বেল আইকন (🔔) প্রেস করুন।
#ChittoKabiraj #stuntman #tollywood #addastation #podcastwithroshni
3 days ago | [YT] | 56
View 1 reply
Adda Station
সিনেমার পর্দায় হিরোদের হিরো বানাতে যাঁরা নিজেদের প্রাণ বাজি রাখেন, তাঁদের শেষ জীবনের খোঁজ কি কেউ রাখে 🎬? রিয়েল এস্টেটের কাজ ছেড়ে স্টান্টম্যান হিসেবে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে পা রেখেছিলেন চিত্ত কবিরাজ 🏗️।
দীর্ঘ ২৫ বছরে ৩০০-এর বেশি সিনেমায় কাজ করেও কেন আজ তিনি ব্রাত্য 💔? ১৪০ ফুট উঁচুতে ৬ ঘণ্টা ঝুলে থাকার হাড়হিম করা লড়াই থেকে শুরু করে, সেটে ব্রেক ফেল হওয়া গাড়ি নিয়ে অভিষেক বচ্চনের প্রাণ বাঁচানো—মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়েও কেন জোটে না প্রাপ্য সম্মান 🚨? ২০ বছর ধরে একসাথে কাজ করা টলিউডের প্রথম সারির হিরোরাও আজ তাঁকে চিনতে অস্বীকার করে 😔!
স্টান্টম্যানদের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই, ইনস্যুরেন্স নেই! পেটের দায়ে টলিউডের চেনা অভিনেতারা আজ র্যাপিডো চালাচ্ছে, ফলের দোকান দিচ্ছে 🛵! লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের পেছনের এই অন্ধকার সত্যি আর ফাইটারদের না-বলা যন্ত্রণার গল্প এবার ফাঁস হবে খোদ চিত্ত কবিরাজের মুখ থেকেই 💣!
▶️ সম্পূর্ণ এপিসোড
🕑 আজ ঠিক দুপুর ২টোয়!
📍 শুধুমাত্র Adda Station-এর YouTube চ্যানেলে।
এই রোমহর্ষক ও ইমোশনাল এপিসোডটি কোনোভাবেই মিস করবেন না! 🛑 টলিউডের আসল সত্যি জানতে এখনই ইউটিউবে Adda Station চ্যানেলটি Subscribe করুন এবং বেল আইকন (🔔) প্রেস করুন।
#ChittoKabiraj #stuntman #tollywood #AddaStation
3 days ago | [YT] | 45
View 0 replies
Adda Station
পর্দায় হিরোর যে লাফে আপনি হাততালি দেন, সেই ঝাঁপটা সত্যি কে দেয়? 🎬💥
সিনেমা দেখতে বসলে আমরা সাধারণত একটা জিনিসই খুঁজি—হিরো কোথায়? কে বাইকটা চালাচ্ছে? কে দশতলা থেকে ঝাঁপ দিচ্ছে? কে আগুনের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে? কে একসঙ্গে দশজনকে মেরে ফেলছে? 🏍️🔥
স্ক্রিনে তখন আলো। ক্যামেরা চলছে। ব্যাকগ্রাউন্ডে মিউজিক বাজছে। আর আমরা উত্তেজনায় হাততালি দিচ্ছি। 👏
কিন্তু একটা কথা কি কখনও ভেবেছেন? যে মানুষটা সত্যি সত্যি ওই ঝাঁপটা দিলেন, তাঁর নাম কী? যে বাইকটা সত্যিই ছুটল, সেটা কে চালালেন? যে ঘুষিটা সত্যিই এসে শরীরে লাগল, সেটা কে খেলেন?
আর শটটা শেষ হওয়ার পর… যে মানুষটা মাটিতে পড়ে উঠে দাঁড়ালেন, তিনি কি তারপর বাড়ি ফিরে স্রেফ একজন বাবা, একজন স্বামী, একজন পরিবারের মানুষ হয়ে যান? 💔
এই প্রশ্নগুলো নিয়েই চিত্ত কবিরাজ-এর সঙ্গে বসেছিলাম। অনেক বছর ধরে সিনেমার পর্দার আড়ালে থাকা একজন মানুষ। বাংলা ছবিতে কাজ করেছেন। হিন্দি ছবিতে কাজ করেছেন। দক্ষিণী ছবিতেও কাজ করেছেন। 🎥
কখনও হিরোর শরীর হয়ে। কখনও ফাইটার হয়ে। কখনও স্টান্টম্যান হয়ে। পর্দায় যাঁদের আমরা চিনি—সেই বড় বড় তারকাদের পাশে, তাঁদের হয়ে, তাঁদের জায়গায় এমন অনেক মুহূর্ত তৈরি করেছেন চিত্তদা, যেগুলো দেখে আমরা হয়তো হাততালি দিয়েছি… অথচ মানুষটাকে দেখিনি।
আর এই পেশায় একটা ভুলের মূল্য কখনও কখনও কয়েক সেকেন্ডের বেশি নয়। ⏳
একটা বাইক একটু এদিক-ওদিক হলেই…
একটা জাম্পের হিসেব সামান্য ভুল হলেই…
একটা পাঞ্চ ঠিক জায়গায় না লাগলেই…
একটা আগুনের শট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলেই…
একেবারে মৃত্যু! ⚠️
চিত্তদা সেই মৃত্যুকে কতবার সামনে থেকে দেখেছেন, সেটা শুনতে শুনতেই আমার নিজের গা শিউরে উঠছিল। কথা বলতে বলতে কখনও তিনি খুব স্বাভাবিক। কখনও হাসছেন। কখনও কোনও পুরনো শটের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। আর তারপর হঠাৎ এমন একটা ঘটনা বলছেন, যেখানে মনে হচ্ছে—এই মানুষটা সেদিন বেঁচে ফিরেছিলেন কী করে? কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় জানেন?
এই মানুষটা এই পেশায় এসেছিলেন শুধু নিজের স্বপ্ন নিয়ে নয়। দাদাকে দেখে। ছোটবেলায় দাদার কাজ দেখেছেন। সেই কাজের মধ্যে একটা আলাদা রোমাঞ্চ দেখেছিলেন। একটা আলাদা পৃথিবী দেখেছিলেন। ✨
আর সেই দেখাই একদিন তাঁকে নিয়ে এল সিনেমার সেটে। পাড়ার একটা ছেলে। স্টান্টের প্রতি আগ্রহ। বন্ধুর সঙ্গে চ্যালেঞ্জ। তারপর সেই চ্যালেঞ্জ থেকেই জীবনের পথ বদলে যাওয়া।
কত গল্পের শুরু যে এত ছোট একটা মুহূর্ত থেকে হয়! আমরা ভাবি, সিনেমায় আসা মানে বড় কোনও স্বপ্ন। বড় কোনও সুযোগ। হয়তো প্রথম দিন থেকেই আলো, ক্যামেরা, তারকা। 🌟
কিন্তু চিত্তদার গল্পটা সেরকম নয়। এখানে আছে পরিশ্রম। আছে শরীর ভাঙা। আছে ভয়। আছে পরিবারের চিন্তা। আছে এমন কিছু রাত, যখন বাড়ি ফিরে হয়তো শরীরের কোনও একটা জায়গা আর স্বাভাবিকভাবে নড়ছিল না। তারপরও পরের দিন আবার সেটে যেতে হয়েছে।
কারণ শুটিং থেমে থাকে না। ক্যামেরা কারও জন্য অপেক্ষা করে না। আর সংসারও অপেক্ষা করে না।
একটা শটের আগে হয়তো স্ত্রী ফোন করেছেন— “সাবধানে থেকো।” 📞
চিত্তদা হয়তো বলেছেন— “হ্যাঁ, চিন্তা করো না।” তারপর ফোনটা রেখে তিনি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন। গায়ে আগুন। অথবা একটা বাইক। 🔥🏍️
অথবা এমন একটা বিল্ডিং, যার নিচের দিকে তাকালেই বুক কেঁপে ওঠে। সেই মুহূর্তে হয়তো তাঁর নিজেরও ভয় করেছে। কিন্তু ক্যামেরা যখন বলে—“Action!” তখন ভয়টা গিলে ফেলতে হয়। কারণ ওই মুহূর্তে তিনি শুধু চিত্ত কবিরাজ নন। তিনি কারও শরীরের ডবল। কারও ফাইটার। কারও দৃশ্যের অদৃশ্য নায়ক।
আর “Cut” বলার পর? 🎬
সবাই হয়তো নায়কের দিকে ছুটে যায়। চিত্তদা উঠে দাঁড়ান। শরীরটা ঠিক আছে কি না দেখেন। তারপর আবার পরের শট।
এইভাবেই তৈরি হয় সিনেমার সেই কয়েক সেকেন্ডের ম্যাজিক। আমরা সেই ম্যাজিক দেখি। কিন্তু ম্যাজিকের পিছনের মানুষগুলোকে দেখি না।
চিত্তদার শরীরের দাগগুলোও তাই যেন একটা একটা করে গল্প। কোনওটা একটা দুর্ঘটনার গল্প। কোনওটা একটা স্টান্টের গল্প। কোনওটা এমন একটা মুহূর্তের গল্প, যখন মৃত্যুর সঙ্গে দূরত্বটা হয়তো কয়েক ইঞ্চি ছিল।
একদিন সেই দাগগুলো তাঁর ছেলে দেখেছে। হয়তো খুব সাধারণভাবেই জিজ্ঞেস করেছে— “বাবা, তোমার এটা কী হয়েছিল?”
একজন বাবা তখন কী উত্তর দেন? “সিনেমা করতে গিয়ে”? নাকি বলেন— “কিছু না, ঠিক হয়ে যাবে”? কারণ সন্তান তো বোঝে না, বাবার পেশায় প্রতিদিন একটু একটু করে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করতে হয়। সন্তান শুধু বাবাকে দেখে। আর বাবা?
বাবা সন্তানের মুখটা দেখে আবার পরের দিন কাজে বেরিয়ে যান।
এই গল্পে আরও একটা অদ্ভুত জায়গা আছে। চিত্তদা শুধু বাংলা ছবিতে থেমে থাকেননি। হিন্দি ছবির সেটেও গেছেন। দক্ষিণী ছবির সেটেও কাজ করেছেন।
বড় বড় তারকার সঙ্গে কাজ করেছেন। বড় বড় অ্যাকশন সিকোয়েন্সের অংশ হয়েছেন। কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকেই যায়—যে মানুষটা এতজন হিরোকে পর্দায় ‘হিরো’ বানালেন, তাঁর নিজের গল্পটা কতজন জানেন?
একজন অভিনেতা যখন পুরস্কার পান, তাঁর নাম ঘোষণা হয়। একজন হিরো যখন দুর্দান্ত অ্যাকশন করেন, তাঁর প্রশংসা হয়। কিন্তু সেই অ্যাকশনের পিছনে থাকা মানুষটির নাম? অনেক সময় শেষ ক্রেডিটের ভিড়ে হারিয়ে যায়।
আর এই জায়গাটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি ভাবিয়েছে। কারণ চিত্তদার গল্প শুধু স্টান্টম্যানের গল্প নয়। এটা একটা পরিচয়ের গল্প।
সারাজীবন অন্য একজনের শরীর হয়ে কাজ করতে করতে নিজের পরিচয়টা কোথায় থাকে? পর্দায় অন্যের মুখ। কাজে অন্যের শরীর। কৃতিত্বে অন্যের নাম। তাহলে নিজের জায়গাটা কোথায়?
আর যখন বয়স বাড়ে? শরীর আগের মতো থাকে না। রিফ্লেক্স একটু কমে। পুরনো চোটগুলো জানান দিতে শুরু করে। তখন কি সিনেমার দুনিয়াও একইভাবে পাশে থাকে? নাকি ক্যামেরা অন্যদিকে ঘুরে যায়?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে গিয়ে চিত্তদা শুধু একজন স্টান্টম্যান হিসেবে কথা বলেননি। কথা বলেছেন একজন স্বামী হিসেবে। একজন বাবা হিসেবে। একজন দাদা-কে দেখে স্বপ্ন দেখা ছোট্ট ছেলেটা হিসেবে। আর এমন একজন মানুষ হিসেবে, যিনি জীবনে বারবার মৃত্যুর খুব কাছাকাছি গিয়েও আবার ফিরে এসেছেন।
কিছু গল্প শুনলে আমরা অবাক হই। কিছু গল্প শুনলে ভয় পাই। আর কিছু গল্প শুনলে নিজের অজান্তেই মনে হয়— “এই মানুষটার কথা আমরা আগে জানতাম না কেন?” চিত্তদার সঙ্গে কথা বলার পর আমার ঠিক সেটাই মনে হয়েছে।
সিনেমার পর্দায় আমরা হিরো দেখি। কিন্তু সেই হিরোর একটা লাফের পিছনে হয়তো কারও ভাঙা শরীর আছে। একটা আগুনের দৃশ্যের পিছনে হয়তো কারও আতঙ্ক আছে। একটা বাইক চেজের পিছনে হয়তো একটা পরিবারের সারারাতের দুশ্চিন্তা আছে।
আর একটা “Action”-এর পিছনে হয়তো দাঁড়িয়ে আছে একজন মানুষ, যিনি জানেন—আজকের শটটা ভুল হলে হয়তো আর বাড়ি ফেরা হবে না।
তবুও তিনি দাঁড়ান। ক্যামেরা অন হয়। ডিরেক্টর বলেন—“Action!” আর তিনি ঝাঁপ দেন।
কারণ এটাই তাঁর কাজ। এটাই তাঁর ভালোবাসা। এটাই তাঁর লড়াই। আর হয়তো এটাই তাঁর সবচেয়ে বড় কষ্টও।
চিত্ত কবিরাজের সঙ্গে এই আড্ডাটা তাই আমার কাছে শুধু একটা ইন্টারভিউ নয়। এটা সেই মানুষটার সঙ্গে কিছুক্ষণ বসে থাকা, যাঁকে আমরা এতদিন পর্দার আড়ালে রেখে দিয়েছি। কিছু কথা শুনেছি, কিছু গল্প দেখেছি, কিছু ক্ষত দেখেছি।
আর বারবার মনে হয়েছে—হিরোকে আমরা অনেক দেখেছি। আজ একটু সেই মানুষটাকে দেখি, যিনি হিরোকে হিরো বানান।
চিত্ত কবিরাজ — স্টান্টম্যান, ফাইটার। একজন মানুষের জীবনের লড়াই, সিনেমার পর্দার আড়ালের গল্প।
দেখবেন। কারণ পরের বার কোনও অ্যাকশন দৃশ্যে হাততালি দেওয়ার আগে হয়তো একবার মনে পড়বে—এই ঝাঁপটা সত্যি কেউ একজন দিয়েছিল।
📌 পুরো সাক্ষাৎকার আসছে আগামীকাল দুপুর ২:০০ টায়। Adda Station এর ইউটিউব চ্যানেলে 🎙️
#addastation #tollywood j #Stuntman #behindthescenes #RealHeroes #PodcastWithRoshni
4 days ago | [YT] | 106
View 8 replies
Adda Station
"বাড়াবাড়ি করলে বরুণ বিশ্বাস হয়ে যাবি, বডিও খুঁজে পাওয়া যাবে না!" ভাই হারানোর পর যখন বিচারের আশায় দরজায় দরজায় ঘুরছে পরিবার, তখন এমনই হাড়হিম করা হুমকি দেওয়া হতো তাঁদের !
কেন সিআইডি (CID) ভবানী ভবনে ডেকে পাঠিয়েছিল বরুণের দাদাকে? বিচারের বদলে কেন মিলেছিল প্রাণনাশের শাসানি ? দীর্ঘ ১৪ বছরে ৫ বার পাল্টেছে সরকারি উকিল, কিন্তু সুটিয়ার সাধারণ মানুষের 'ভগবান' সেই মাস্টারদার মর্মান্তিক মৃত্যুর কি কোনো বিচার পেল তাঁর পরিবার?
কে সেই প্রভাবশালী নেতা, যার অঙ্গুলিহেলনে জেলের ভেতর থেকে রচা হয়েছিল এই খু*নের ব্লু-প্রিন্ট ? বরুণ বিশ্বাস হত্যার পেছনের সেই অন্ধকার সত্যি আর রাজনৈতিক চক্রান্ত এবার ফাঁস হবে খোদ তাঁর দাদার মুখ থেকেই !
▶️ সম্পূর্ণ এপিসোড
🕑 আগামীকাল ঠিক দুপুর ২টোয়!
📍 শুধুমাত্র Adda Station-এর YouTube চ্যানেলে।
এই রোমহর্ষক ও ইমোশনাল এপিসোডটি কোনোভাবেই মিস করবেন না! 🛑 সুটিয়ার আসল সত্যি জানতে এখনই ইউটিউবে Adda Station চ্যানেলটি Subscribe করুন এবং বেল আইকন (🔔) প্রেস করে রাখুন। 👇
#BarunBiswas #JusticeForBarunBiswas #Sutia #addastation #podcastwithroshni
1 week ago | [YT] | 532
View 17 replies
Adda Station
সুটিয়ার সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ছিলেন সাক্ষাৎ ভগবান ! একজন আদর্শ শিক্ষক, যিনি নিজের প্রাণের তোয়াক্কা না করে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন নারী নির্যাতন আর তোলাবাজির বিরুদ্ধে।
কিন্তু সেই প্রতিবাদের মাশুল গুনতে হলো নিজের প্রাণ দিয়ে 🩸! তাঁকে নিয়ে বড় ব্যানারে সিনেমা হলো, হাততালি আর ব্যবসাও হলো প্রচুর 🎬... কিন্তু গত ১৪ বছরেও কি সুটিয়ার সেই 'মাস্টারদা'-র মর্মান্তিক মৃত্যুর সঠিক বিচার পেল তাঁর পরিবার?
৯২ বছরের বৃদ্ধ বাবার চোখের জল আর বরুণ বিশ্বাসের খুনের পেছনের হাড়হিম করা রাজনৈতিক চক্রান্তের অন্ধকার সত্যিটা এবার ফাঁস হবে খোদ তাঁর পরিবারের মুখ থেকেই!
▶️ সম্পূর্ণ এপিসোড
🕑 আগামীকাল ঠিক দুপুর ২টোয়!
📍 শুধুমাত্র Adda Station-এর YouTube চ্যানেলে।
এই রোমহর্ষক ও ইমোশনাল এপিসোডটি কোনোভাবেই মিস করবেন না! 🛑 সুটিয়ার আসল সত্যি জানতে এখনই ইউটিউবে Adda Station চ্যানেলটি Subscribe করুন এবং বেল আইকন (🔔) প্রেস করে রাখুন। 👇
#BarunBiswas #Sutia #justiceforbarunbiswas #addastation #podcastwithroshni
1 week ago | [YT] | 496
View 16 replies
Adda Station
🔴 এক যে ছিল নেতা —
সুটিয়ার সেই রাত, আজও শেষ হয়নি যার অপেক্ষা...
একটা মানুষ। একটা গ্রাম। আর একটা প্রশ্ন, যেটা ১৪ বছরেও উত্তর পায়নি।
বরুণ বিশ্বাস। নামটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে একজন সাধারণ মাস্টারমশাই। কিন্তু সুটিয়ার মানুষ জানে, তিনি সাধারণ ছিলেন না। যেখানে সবাই চুপ করে থাকত, ভয়ে মাথা নিচু করে নিত— সেখানে তিনিই একমাত্র মানুষ, যিনি রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। আর তার জন্যই হয়তো তাঁকে থামিয়ে দিতে হয়েছিল। চিরকালের মতো।
২০১২ সালের ৫ জুলাই। একটা গুলির শব্দ। আর তারপর থেকে একটা পরিবারের ঘড়ি যেন থমকে গেছে।
কী হয়েছিল সেদিন? কারা ছিল তার পেছনে? আর কেন আজও, ১৪ বছর পরেও, এই প্রশ্নগুলোর সম্পূর্ণ উত্তর অধরা?
👉 এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতেই Adda Station নিয়ে আসছে সম্পূর্ণ ডকুমেন্টারি — আগামীকাল, ১১ সেপ্টেম্বর, দুপুর ২টোয়, শুধুমাত্র Adda Station এর ইউটিউব চ্যানেলে।
রাজ চক্রবর্তীর "প্রলয়" সিনেমার পর্দায় একবার এই গল্প পৌঁছেছিল। কিন্তু সিনেমা শেষ হয়ে যায়। আলো জ্বলে ওঠে। মানুষ হলঘর থেকে বেরিয়ে যায়। বাস্তবের গল্পটা কিন্তু থামে না— সেটা চলতেই থাকে, একটা বাড়ির ভেতরে, নিঃশব্দে।
আমরা যখন বরুণ বিশ্বাসের বাড়িতে পৌঁছলাম, দুপুর গড়িয়ে গেছে। বাড়িতে বাবা, দিদি, দাদা। একই বাড়ি— অথচ সেখানে একজন মানুষের অনুপস্থিতিটাই যেন সবচেয়ে জোরালো উপস্থিতি হয়ে আছে।
বরুণের ঘরে ঢুকলে সেটা আরও স্পষ্ট হয়। বইয়ের তাক আজও আছে। বইগুলো আছে, পাতাগুলো আছে, অক্ষরগুলো আছে। শুধু যিনি এই বই পড়তেন, তিনি নেই।
৯২ বছরের জগদীশবাবু প্রতিদিন ছেলের ঘরে আসেন। বইয়ের ওপর হাত রাখেন। কখনও একটা বই তুলে নেন, কখনও শুধু তাকিয়ে থাকেন। তারপর বসেন ছেলের ছবির সামনে। এত বছর পরেও একজন বাবা প্রতিদিন ফিরে আসেন সেই ঘরে— হয়তো উত্তর খুঁজতে নয়, শুধু কয়েক মুহূর্ত ছেলের কাছাকাছি থাকতে। বয়স শরীরকে দুর্বল করে, স্মৃতিও অনেক কিছু মুছে দেয়। কিন্তু সন্তানের জন্য বাবার অপেক্ষা— সেটা কি কখনও পুরনো হয়?
লড়াইটা আজও চলছে। মামলা চলছে, সাক্ষ্য চলছে। ২০২৬ সালেও এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। ৯২ বছরের একজন বাবা আদালতে দাঁড়িয়ে আজও ছেলের হত্যার বিচার চেয়ে যাচ্ছেন।
তারপর বরুণের দিদি দাঁড়ালেন জানলার ধারে। ঘড়িতে তখন চারটে পনেরো। এই সময়টা তাঁর স্মৃতিতে গেঁথে আছে— স্কুল শেষে বরুণ এই সময়ের ট্রেনই ধরতেন। কত সাধারণ একটা মুহূর্ত। কোনও বিশেষ দিন নয়, কোনও বড় ঘটনা নয়। অথচ ১৪ বছর পরে সেই চারটে পনেরোই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে অসহ্য একটা সময়।
ট্রেন আসে। মানুষ ওঠে, নামে। ট্রেন চলে যায়। শুধু একজন মানুষ আর ফেরেন না।
বরুণের দিদির চোখ দিয়ে তখন জল গড়াচ্ছে। সেই কান্নার কোনও শব্দ নেই। সেখানে কোনও বক্তৃতা নেই, কোনও স্লোগান নেই। আছে শুধু একজন ভাইকে হারিয়ে ফেলার শূন্যতা, আর সেই পুরনো অভ্যাস— হয়তো আজও মনে হয়, এই বুঝি দরজা দিয়ে বরুণ ঢুকবেন।
আমরা যখন বাড়ি থেকে বেরোলাম, সন্ধে নামছিল। সুটিয়ার আকাশে সূর্য ডুবছিল। জানলার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা সেই মানুষগুলোর দিকে শেষবার তাকিয়ে মনে হল— কিছু বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসা যায়, কিন্তু কিছু দৃশ্য সঙ্গে করেই ফিরতে হয়।
ফেরার পথে মনে পড়ছিল একটা লাইন—
"রাজা আসে যায়, রাজা বদলায়,
নীল জামা গায়, লাল জামা গায়,
জামা-কাপড়ের রং বদলায়।
কিন্তু দিন বদলায় কি?"
১২ সেপ্টেম্বর, বরুণ বিশ্বাসের জন্মদিন। এই দিনে তাঁকে নিয়ে কথা হবে, তাঁর প্রতিবাদের কথা আবার সামনে আসবে। কিন্তু তাঁর পরিবারের কাছে এটা শুধু একজন মানুষকে স্মরণ করা নয়— এটা ১৪ বছর ধরে বয়ে চলা একটা অপেক্ষারও নাম।
সুটিয়ার সূর্য ডুবে যাবে, রাত নামবে। কিন্তু সেই বাড়ির একটা ঘর একইভাবে থেকে যাবে। বইয়ের তাক থাকবে, ছবিটা থাকবে। আর হয়তো ৯২ বছরের একজন বাবা আবার এসে বসবেন ছেলের ঘরে। চারটে পনেরো আবার আসবে, ট্রেনও আসবে। শুধু বরুণ আর ফিরবেন না...
তাহলে সত্যিটা কী ছিল? কে ছিল এই খু*নের পেছনে? আর ১৪ বছর পরেও কেন থমকে আছে বিচার?
🎬 সম্পূর্ণ উত্তর, সম্পূর্ণ গল্প — আগামীকাল, ১১ সেপ্টেম্বর, দুপুর ২টোয়, শুধু Adda Station-এর ইউটিউব চ্যানেলে।
"এক যে ছিল নেতা" — একটা পরিবারের চোখ দিয়ে দেখুন বরুণ বিশ্বাসকে।
#AddaStation #BarunBiswas #বরুণবিশ্বাস #Podcastwithroshni
1 week ago | [YT] | 615
View 17 replies
Adda Station
"খবর মানে চিৎকার নয়, খবর মানে শুধুই খবর।" — একটা সময় বাঙালির কাছে এই কথাটাই সত্যি ছিল।
'খাস খবর' 'খোঁজ খবর' সব এক একটা নস্টালজিয়া। রাত ১০টা 'খোঁজ খবর'-এর পর্দায় কৃষ্ণকিশোর মুখার্জি। তখন খবর মানে কানের পর্দা ফাটানো ঝগড়া ছিল না, ছিল না কোনো প্যানেল বসিয়ে অহেতুক কাদা ছোঁড়াছুড়ি। ছিল শুধু বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা আর তাঁর সেই জাদুকরী উপস্থাপনা।
কোথায় হারিয়ে গেলেন তিনি? কেন আজ তাঁকে আর টিভির পর্দায় দেখা যায় না?
দীর্ঘ বহু বছর পর 'Adda Station'-এর এক্সক্লুসিভ আড্ডায় আবার ক্যামেরার সামনে এলেন কৃষ্ণকিশোর মুখার্জি। ফিরে গেলেন 'খোঁজ খবর'-এর সেই সোনালী দিনের নস্টালজিয়ায়। তবে শুধু পুরোনো স্মৃতিচারণ নয়, আজকের 'চিৎকার-সর্বস্ব' টিভি সাংবাদিকতার করুণ দশা দেখে তাঁর গলাতেও ঝরে পড়ল একরাশ আক্ষেপ, ক্ষোভ আর বিরক্তি।
চোখে চোখ রেখে খবর করতে গিয়ে "খবর আজ হারিয়ে গেছে কোলাহলে..."? — ঠিক কী বললেন তিনি? আজকের মিডিয়া নিয়ে কেন তাঁর এত অভিমান? কেনই বা তিনি সরে দাঁড়ালেন এই জগৎ থেকে?
জানতে হলে দেখুন এক লিজেন্ডের না-বলা গল্প, শুধুমাত্র Adda Station-এর ইউটিউব চ্যানেলে আজ দুপুর দুটোয়। পুরোনো দিনের হারিয়ে যাওয়া আবেগকে ফিরে পেতে আর একজন কিংবদন্তির মনখারাপের গল্প শুনতে মিস করবেন না আমাদের এই বিশেষ পর্ব!
#KrishnakishoreMukherjee #KhojKhobor #Nostalgia #addastation
2 weeks ago | [YT] | 199
View 12 replies
Adda Station
ইন্ডাস্ট্রি আমাকে ব্যবহার করতে পারল না বলে আমার কোনও দুঃখ নেই। কথাটা সেদিন খুব সহজভাবেই বলেছিলেন তিনি।
কোনও অভিযোগের সুরে নয়। কোনও আক্ষেপ মিশিয়ে নয়। কিন্তু কথাটা শুনে আমার মনে হল—কিছু কিছু মানুষ খুব সহজভাবে এমন কিছু কথা বলে ফেলেন, যার পিছনে লুকিয়ে থাকে একটা গোটা জীবনের অভিমান।
এই কথাটাও ঠিক তেমন। আমি তখন স্কুলে পড়ি। সেই বয়সে পৃথিবীটা আজকের মতো ছিল না। সারাদিন হাতে মোবাইল ছিল না। ইচ্ছে হলেই Netflix, YouTube খুলে বসে যাওয়া যেত না। কত কিছু দেখব—সেই অপশনও ছিল না।
সন্ধে নামত। বাড়ির কাজকর্ম শেষ হত। তারপর রাত বাড়তে বাড়তে যখন ঘড়ির কাঁটা দশটার দিকে এগোত, তখন আমাদের বাড়িতেও যেন একটা অলিখিত নিয়ম চালু হয়ে যেত।
চ্যানেল—আকাশ বাংলা। প্রোগ্রাম—‘খোঁজ খবর’। আজ ভাবলে অবাক লাগে, একটা অনুষ্ঠানের জন্য একটা বাড়ির সবাই একই সময়ে টিভির সামনে বসতাম। আজকের মতো নিজের নিজের ফোনে নিজের নিজের পৃথিবী ছিল না।
একটাই টিভি ছিল। আর সেই একটা পর্দাতেই আমাদের পরিচয় হয়েছিল এক সাদা চুলের ভদ্রলোকের সঙ্গে।
দরাজ গলা। গম্ভীর মুখ। কিন্তু কোথাও যেন একটা আপন করে নেওয়ার ক্ষমতা। তিনি বলতেন— “আমি কৃষ্ণকিশোর মুখার্জী। আপনারা দেখছেন ‘খোঁজ খবর’।”
তখন তো জানতাম না, এই মানুষটি আসলে সাংবাদিক নন। জানতাম না, তিনি একজন অভিনেতা। জানতাম না, তাঁর নিজের জীবনেই এমন অনেক গল্প রয়েছে, যা কোনও খবরের থেকেও বেশি নাটকীয়।
তখন শুধু দেখতাম। শুনতাম। আর অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেলে টেলিভিশনটা বন্ধ হয়ে যেত। কৃষ্ণকিশোরবাবুও যেন আমাদের ঘর থেকে চলে যেতেন। কিন্তু কিছু মুখ কি সত্যিই চলে যায়?
কিছু কিছু মুখ থেকে যায়। স্মৃতির মধ্যে। একটা সময়ের মধ্যে। আমাদের ছোটবেলার মধ্যে।
আজ এত বছর পর যখন তাঁর সামনে বসেছিলাম, একটা অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছিল। যে মানুষটাকে ছোটবেলায় টেলিভিশনের পর্দায় দেখেছি, আজ তিনি আমার সামনে।
কিন্তু পর্দার সেই কৃষ্ণকিশোর আর সামনের মানুষটা যেন এক নন। পর্দায় যাঁকে এত দৃঢ় মনে হত, তাঁর জীবনের গল্পে আছে অনেক নরম জায়গা। অনেক না-বলা কথা।
অনেকটা পথ একা হাঁটার গল্প। আর সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়—যাঁকে আমরা ‘খোঁজ খবর’-এর কৃষ্ণকিশোর বলে চিনতাম, তিনি কোনওদিন সাংবাদিকই ছিলেন না।
তিনি অভিনেতা। অভিনেতা হওয়ার স্বপ্নও অবশ্য ছোটবেলা থেকে ছিল না। ছোটবেলায় নাকি তাঁর ইচ্ছে ছিল— “বাস কন্ডাক্টর হতে চাইতাম।”
জীবন তাঁকে অন্য পথে নিয়ে গেল। তিনি হলেন শিক্ষক। তারপর একদিন অভিনয় এল তাঁর জীবনে। কিন্তু অভিনয়ের জগতে এসেও তিনি অন্য অনেকের মতো পরিচালকের দরজায় গিয়ে দাঁড়াননি। কাজ চেয়ে বলেননি—
“আমাকে একটা সুযোগ দিন।” নিজেকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিজেকে বিক্রি করতে তিনি শেখেননি। কিন্তু জীবন কখনও কখনও অদ্ভুতভাবে প্রতিদান দেয়।
যে মানুষটি কাজ চাইতে কারও কাছে যাননি, সেই মানুষটিই একদিন বাংলার ঘরে ঘরে পরিচিত হয়ে গেলেন। ‘খোঁজ খবর’ তাঁকে এমন একটা পরিচিতি দিল, যেটা হয়তো কোনও অভিনেতাও সহজে পান না।
মানুষ তাঁর অভিনয় ভুলে গেল। চরিত্রটা ভুলে গেল। শুধু মনে রাখল—কৃষ্ণকিশোর। খোঁজ খবরের সেই মানুষটা। আর হয়তো সেখানেই শুরু হল অন্য একটা গল্প। যে জনপ্রিয়তা একসময় তাঁকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল, সেই জনপ্রিয়তাই কি পরে তাঁর অভিনয়জীবনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াল?
মামলা গড়াল আদালতের চৌকাঠ পর্যন্ত। ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও তৈরি হল নানা আলোচনা। নানা কথা। নানা প্রশ্ন। কেউ জানল একটা অংশ। কেউ জানল আরেকটা অংশ। কিন্তু একজন মানুষের জীবনের পুরো গল্পটা কি কখনও বাইরে থেকে জানা যায়?
কৃষ্ণকিশোরবাবুর জীবনের সবচেয়ে কষ্টের জায়গাগুলোর একটি হয়তো এইটাই। মানুষ তাঁকে চিনত। কিন্তু তাঁকে জানত না। পর্দায় তাঁর গলা সবাই চিনত। মুখ সবাই চিনত। নাম সবাই জানত। কিন্তু পর্দার বাইরে যে মানুষটা ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছেন, তাঁর খবর ক'জন রেখেছিল?
কেন তিনি দীর্ঘ সময়ের জন্য অন্তরালে চলে গেলেন? কেন একটা সময় অভিনয় থেকে দূরে সরে গেলেন? কেন তাঁকে ইন্ডাস্ট্রি সেভাবে ব্যবহার করতে পারল না?
আর কেন এত বছর পরও তাঁর মুখ থেকে বেরিয়ে আসে— “নিজেকে বিক্রি করিনি বলে কাজ নেই!”
এই কথার মধ্যে শুধু রাগ নেই। আমার মনে হয়েছে, এর মধ্যে একটা প্রশ্নও আছে। “আমি কি একটু অন্যভাবে চললে আরও বেশি কাজ পেতাম?”
হয়তো সেই প্রশ্নের উত্তর তিনি নিজেই জানেন। হয়তো জানেন বলেই আজ এতটা নির্লিপ্তভাবে বলতে পারেন— “ইন্ডাস্ট্রি আমাকে ব্যবহার করতে পারল না বলে আমার কোনও দুঃখ নেই।”
আর একটা ঘটনা শুনে সত্যিই থমকে যেতে হয়। জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘মিঠিঝোরা’ থেকেও একটা সময় তিনি নিজেই সরে এসেছিলেন। কেন?
যে বয়সে একজন অভিনেতা আরও বেশি কাজ করতে চান, আরও বেশি মানুষের কাছে ফিরতে চান, সেই বয়সে একজন জনপ্রিয় অভিনেতা নিজেই কেন সরে দাঁড়ান? এই ‘কেন’-এর উত্তরটাই হয়তো কৃষ্ণকিশোরবাবুর জীবনের অনেকগুলো অধ্যায়ের দরজা খুলে দেয়।
আর তারপর আসে সেই দীর্ঘ অন্তরালের সময়। ১৬ বছর। ১৬ বছর মানে শুধু একটা সংখ্যা নয়। ১৬ বছর মানে একটা মানুষের জীবনের একটা বিশাল অংশ। এই ১৬ বছরে কত মানুষ বদলে যায়।
কত সম্পর্ক তৈরি হয়। কত সম্পর্ক ভেঙে যায়। কত নতুন মুখ আসে। কত পুরনো মুখ হারিয়ে যায়। বাংলা সিনেমা বদলে যায়।
টেলিভিশন বদলে যায়। দর্শকের রুচি বদলে যায়।
কিন্তু কৃষ্ণকিশোরবাবু? তিনি কোথায় ছিলেন?
কী করছিলেন? কী ভাবছিলেন? কীভাবে কাটছিল তাঁর দিনগুলো?
আজ এত বছর পর তাঁর মুখোমুখি বসে সেই প্রশ্নগুলো করতেই মনে হচ্ছিল—কিছু উত্তর হয়তো অনেক দেরিতে এলেও, একেবারে নিজের সময়েই আসে।
তবে একটা জিনিস তাঁকে ছেড়ে যায়নি। সিনেমা। আজও নিয়মিত বাংলা সিনেমা দেখেন তিনি। এই কথাটা শুনে আমার নিজেরও কেমন যেন ভালো লেগেছিল। কারণ ইন্ডাস্ট্রি থেকে দূরে থাকা আর সিনেমা থেকে দূরে থাকা—দুটো তো এক কথা নয়।
পর্দা তাঁকে যতই দূরে সরিয়ে দিক, তিনি পর্দাকে সরিয়ে দেননি। আজও অন্য অভিনেতাদের অভিনয় দেখেন।
সিনেমা নিয়ে কথা বলেন। সিনেমা নিয়ে ভাবেন।
‘গানের ওপারে’-র শুটিংয়ের একটা ছোট্ট স্মৃতিও তিনি বলেছিলেন। ঋতুপর্ণ ঘোষকে দেখেছিলেন খুব সুন্দর করে আলপনা দিতে।
কী অদ্ভুত না? একজন মানুষ কত বড় বড় ঘটনার সাক্ষী থেকেছেন। কত পরিচিত মানুষের সঙ্গে কাজ করেছেন।
কত আলো দেখেছেন। কত বিতর্কের মধ্যে থেকেছেন। কিন্তু এত বছর পরেও মনে থেকে গেছে একটা ছোট্ট দৃশ্য—
ঋতুপর্ণ ঘোষ বসে আলপনা দিচ্ছেন। হয়তো মানুষের জীবনে শেষ পর্যন্ত বড় ঘটনা নয়, এই ছোট ছোট দৃশ্যগুলোই থেকে যায়।
কৃষ্ণ কিশোর মুখার্জীর সেই না-বলা জীবনের গল্প দেখুন Adda Station এর YouTube চ্যানেলে আগামীকাল ঠিক দুপুর দুটোয়
#krisnakishoremukherjee #khojkhobor #addastation #podcastwithroshni
2 weeks ago | [YT] | 222
View 19 replies
Load more