উত্তরবঙ্গের মাঠে বাতাস বদলাচ্ছে? এনসিপি’র সফর কি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের শুরু?
রাজনীতি অনেকটা জমির মতো। কিছু জমি থাকে উর্বর, কিছু পতিত—আর কিছু জমিতে হঠাৎ করে নতুন চারা গজায়, যা সবাইকে চমকে দেয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক জমিতে এখন সেই চমকটি এনেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সম্প্রতি উত্তরাঞ্চলে এনসিপির সফর রাজনীতির মাঠে এক ধরনের নতুন আগ্রহ তৈরি করেছে। আটকে থাকা সমাজ, অবহেলিত জনগোষ্ঠী, আর হতোদ্যম তরুণদের মাঝে যেন নতুন বাতাস বইছে। প্রশ্ন উঠছে: এই আগ্রহ কি কেবল কৌতূহল, নাকি সত্যিকারের পরিবর্তনের ইঙ্গিত?
মানুষ কেন আগ্রহী হচ্ছে? এনসিপির জনসভাগুলোয় ভিড় কম নয়। আরও লক্ষণীয় বিষয়—এসব ভিড়ে শুধু মুখ চেনা রাজনৈতিক কর্মী নয়, আছেন তরুণ, শিক্ষক, কৃষক, রিকশাওয়ালা, এমনকি হাটে-বাজারের দোকানিরাও। তাদের অনেকেই বলছেন, “চেনা দলের মুখে তো আর ভরসা নাই। নতুনদের অন্তত শুনে দেখা যাক।” একটা সামাজিক জরিপ বলছে, তরুণদের ৪৮% একটা নতুন রাজনৈতিক বিকল্প খুঁজছে, যেটা দুর্নীতি থেকে দূরে থাকবে, আর কথা নয়—কাজ দিয়ে দেখাবে।
প্রচলিত রাজনীতি কেমন আছে? আওয়ামী লীগ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে শক্তিশালী হলেও গণতান্ত্রিক চর্চা ও জনসম্পৃক্ততা প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়ে পালিয়েছে। এই শূণ্যতায় বিএনপি দীর্ঘদিন পর অনাকাঙ্ক্ষিত প্রত্যাবর্তনে নেতাকর্মীরা হতবিহ্বল। মানুষ আওয়ামী লীগের কর্মকান্ড ভুলতে শুরু করেছে। আর জামায়াত ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবেই এখনো কাবি খাচ্ছে। গণমানুষের দল হতে আরও ঢের বাকি। এই পরিস্থিতিতে দুই প্রধান দলের মধ্যে মানুষ অনেকটাই "বিকল্পহীন" বোধ করছে। সেই জায়গায় এনসিপি এসেছে এক ধরনের “কৌতূহলমূলক বিকল্প” হয়ে।
এটা কি সত্যিই ভবিষ্যতের ইঙ্গিত? আমরা জানি, আগ্রহ আর আস্থা এক জিনিস নয়। আস্থা অর্জন করতে হয় সময়ের মাধ্যমে, সাহসী অবস্থান দিয়ে, আর বিশ্বাসযোগ্য কার্যক্রম দিয়ে। এনসিপি যদি এই আগ্রহকে কাজে লাগাতে চায়, তবে তার প্রয়োজন— • সময়োচিত নীতি উপস্থাপন, • সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, • নির্বাচনী মাঠে অংশগ্রহণ এবং • নির্ভরযোগ্য নেতৃত্ব। পরিবর্তন কি আসবে, নাকি থেমে যাবে? বাংলাদেশের রাজনীতি বর্তমানে এক ধরনের শূন্যতায় ঘুরপাক খাচ্ছে। সেই শূন্যতায় নতুন মুখ, নতুন কথা, নতুন আশার জায়গা তৈরি করতে চাচ্ছে এনসিপি। এটা কেবল রাজনীতির গল্প নয়—এটা বিশ্বাসযোগ্য ভবিষ্যতের সম্ভাবনা গড়ার শুরু হতে পারে, যদি তারা এই আগ্রহের আগুনকে নিভতে না দেয়। আপনি কী মনে করেন? নতুন রাজনৈতিক বিকল্প দরকার? নাকি আমরা পুরনো কাঠামোর মধ্যেই আটকে থাকব? কমেন্টে জানাতে পারেন।
দুই পক্ষই সঠিক সময়ে নির্বাচনকে কঠিন করে তুলছে ! সময় যত কমছে ততই নির্বাচন নিয়ে দুই পক্ষের ধারালো বক্তব্যে নতুন নতুন অনুসঙ্গ যুক্ত হচ্ছে যা বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নেতিবাচক প্রভাবক হিসেব কাজ করবে বলে মনে হচ্ছে । গতকাল বিএনপির তারুণ্যের সমাবেশে দলটির ভরপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং জাপানে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মোহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্যের জেরে এই ধারণা আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
নির্বাচন সরকার ঘোষিত টাইম ফ্রেমের মধ্যে হবে না এই ধারণা প্রথম তৈরি ৫ আগস্টের পর গত ওয়ান ইলাভেন নিয়ে জাতিসংঘের একটি বক্তব্যের পর। সেখানে জাতিসংঘ বলেছিলো, তৎকালীন সময়ে ১/১১ এর সময় তারা যেসব বিষয়ে মনযোগ দিতে পারেনি এবার তারা সেই দিকেই ফোকাস করবে অর্থাৎ রাজনৈতিক সংস্কার।
দ্বিতীয়ত ১৫ ফেব্রুয়ারী, যখন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে তার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া হয় তখন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সকল রাজনৈতিক দলের সামনেই ১০ মিনিটের একটা বক্তব্য দিয়েছিলেন। সেই বক্তব্য শোনার পর আমার ধারণা গুটি পাকাতে শুরু করে যে নির্বাচন হয়তো সঠিক সময়ে হচ্ছে না।
সবশেষ, জাপান সফরে দেয়া বক্তব্য, জাপানের বক্তব্য নিয়ে কথা বলার আগে দেখে আসি বিএনপির অবস্থানটা এই পর্যায়ে আসলো কী করে? ৫ আগস্টের ৭২ ঘন্টার মধ্যে বিএনপি তিনমাসের মধ্যে নির্বাচনের দাবী জানায়। এরপর প্রতিনিয়ত এই দাবীকে শক্তিশালী করার জন্য যা করার সবই করছে। এতোদিন ডিসেম্বরে নির্বাচনের দাবী থাকলেও এবারই প্রথম সিদ্ধান্ত দিয়েছে দলটি। তারেক রহমান বলছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হতে হবে। নির্বাচন ডিসেম্বরেই হবে। আপনারা প্রস্তুতি নিন। নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেন। অর্থাৎ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সবশেষ সীমানা নিশ্চিত করলো। পাশাপাশি তারেক রহমান নতুন স্লোগান দিলো দিল্লি নয়-পিন্ডি নয়, নয় অন্যকোন দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।
একই সঙ্গে মির্জা সালাহউদ্দিনদের বক্তব্যেও ছিলো নাটকীয়তায় ভরপুর কেউ বলেছেন পদত্যাগের নাটক করেছেন কেউ বলেছেন, দেশের পরিস্থিতি আওয়ামী লীগের চেয়েও খরাপ হবে।
যাইহোক তারেক রহমান যখন এই বক্তব্য দিলেন তার আগে সকালের দিকে জাপানে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং জাপান বাংলাদেশ বন্ধুত্ব লীগের সভাপতি তারো আসের সঙ্গে বৈঠক করেন ড. ইউনুস। তারো আরেকে জানান, পরিস্থিতি যেমনই হোক ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই বক্তব্যে নতুন শব্দ "পরিস্থিতি যেমনই হোক "
নির্বাচন যে নির্ধারিত সময়ে হচ্ছে না এইটা যেন তারই ইঙ্গিত। অর্থাৎ সামনে হয়তো নতুন কোন পরিস্থিতি তৈরি হতে যাচ্ছে যাতে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকেই আওয়াজ আসবে যে ঠিকাছে এই পরিস্থিতিতে না নির্বাচন পরে হোক।
পরিস্থিতিটা যেভাবে ক্রিয়েটিভ হতে পারে তাহলো তারেক রহমানের স্লোগান ঘিরে। কারণ এই স্লোগানে ভারত পাকিস্তানের পাশাপাশি পরাশক্তিদেশগুলোকেও এক কাতারে নামিয়ে আনা হলো। পাকিস্তানের যে সংকট ছিলো দিল্লির সঙ্গে সেই সংকট তৈরি হওয়ার আগেই আমরা বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি। অর্থাৎ টেরিটোরিয়াল সিকিউরিটি ও সার্বভৌমত্ব। ঠিক একই কাতারে যুক্তরাষ্ট্র চীনকে ফেলা টিক হলো কি না সেইটা অনেক বড় প্রশ্ন। অনেকে মনে করেন, ড. ইউনুস আমেরিকাপন্থি। শেখ হাসিনা যেমন দিল্লি পন্থি একইভাবে বিএনপি জামায়াতকে পাকিস্তান পন্থি হিসেবে এদেশে ট্যাগিং করা হতো। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে, দিল্লির বাস্তবতার সঙ্গে অন্যকোন দেশের বাস্তবতার মিল নেই। তাই এক কাতারে টেনে দাড় করানো অনেকটা শেখ হাসিনার ট্যাগিংয়ের মতোই। পুরো পৃথিবীর বাস্তবতা হচ্ছে পরাশক্তির বলয়ের বাইরে কোন দেশেরই যাওয়ার সুযোগ নেই। যেখানে অর্থ-শিক্ষা-স্বাস্থ্য সবকিছুর জন্যই আমরা তাদের ওপর নির্ভরশীল। এইটাকে ডিল করতে হয়। আপনি ডিল না করে যখন দিল্লি শাহীর কাতারে টেনে আনবেন, নতুন পরিস্থিতিতো তৈরি হবেই।😇😇
১৭ বছর পর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। দেশে ফেরার পর তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর গত ৩০ এপ্রিল চার স্তরের নিরাপত্তা চেয়ে একটি চিঠি দিয়েছে বিএনপি। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবারের সদস্য এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী হিসেবে ডা. জোবায়দা রহমানের জীবনে নিরাপত্তার ঝুঁকি রয়েছে। তিনি ঢাকায় অবস্থানকালে ধানমন্ডিস্থ তার পৈত্রিক বাসভবন ‘মাহবুব ভবনে’ থাকবেন।
চিঠিতে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চারটি ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। একজন সশস্ত্র গানম্যান নিয়োগের সঙ্গে গাড়িসহ পুলিশ প্রটেকশন চেয়েছে বিএনপি। এছাড়াও বাসায় পুলিশ প্রহরা এবং বাসার প্রবেশপথে আর্চওয়ে স্থাপনের জন্যও অনুরোধ জানানো হয়। আগামী সোমবার (৫ মে) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে লন্ডন থেকে দেশে ফিরবেন ডা. জুবাইদা।
পহেলা বৈশাখের "মঙ্গল শোভাযাত্রা"র নাম বদলে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ করা হলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বলছেন নাম পরিবর্তন নয় বরং আগের ঐতিহ্যে ফিরে গেছে শোভাযাত্রা ! আপনার কী মনে হয় ? @abdullahshafi87
গণতন্ত্রের প্রশ্নে শেখ হাসিনা ওয়াজেদ কি বেগম খালেদা জিয়ার ফলোয়ার ছিলেন ?
২০০৬ সালে কেয়ারটেকার ইস্যুতে যদি বিএনপি-জামায়াত সফল হইতো তাহলে কি এখনকার শেখ হাসিনার মতোই তাদের পরিণতি হতো ?
ঠিক এই কাজটাই ২০১৪ সালে শেখ হাসিনা সফলতার সঙ্গে করেছেন । কেয়ারটেকার সরকার জাস্ট বাতিল করে দিয়েছেন। ভোটাধিকার হরণে যা করা দরকার সবই করেছিলো আওয়ামী লীগ। একতরফা নির্বাচন।
অন্যদিকে, ৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ জামায়াতের দেয়া রুপরেখায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল মেনে নেয়নি। আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যেই ১৪ সালের মতো একটা নির্বাচন আয়োজন করে দলটি। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির সেই নির্বাচনে সরকার গঠন করেও শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেনি বিএনপি। আওয়ামী লীগ- জামায়াত জোট আন্দোলনের মাধ্যমে কেয়ারটেকার গভর্মেন্ট ইস্যুতে সফল হয়েছিলো! এবং মাত্র ১২ দিনের ক্ষমতায় কেয়ারটেকার সরকার গঠন করে পদত্যাগ করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া।
কিন্তু ১৪ সালে আওয়ামী লীগ বলেছিলো, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণেই ১৪'র ভোটারবিহীন নির্বাচন। মধ্যবর্তী নির্বাচন হবে। কিন্তু ৯৬ সালের মতো বিএনপি সেটি আদায় করতে ব্যার্থ হয়েছিলো। ফলাফল শেখ হাসিনার কাল্ট হয়ে ওঠা।
অবশ্য এই ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে পার্থক্য ছিলো মানবিকতার। খালেদা শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে ক্ষমতা ছাড়েন। আর শেখ হাসিনা অমানবিক হয়ে ওঠেন। অবশ্য এইটার একটা বড় কারণ হতে পারে বিডিআর হত্যাকাণ্ডের দগদগে ক্ষত।
শেখ হাসিনা ২০০১ সালে শান্তিপুর্ণভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন। এবং এটিই বাংলাদেশে একমাত্র সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের নজির।
অর্থাৎ বেগম খালেদা জিয়া যা করতে চেয়ে ব্যার্থ হয়েছেন শেখ হাসিনা তা করে দেখিয়েছেন। বলা যায়, শেখ হাসিনা খালেদা জিয়াকে অনুসরণ করে সফল হয়েছেন।
ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হইলো, নেতাকর্মী সমর্থকদের কাছে বেগম খালেদা জিয়া হইলো Mother of Democracy আর শেখ হাসিনা হইলো গণতন্ত্রের মানষকণ্যা।
হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর জামানায় হজরত আবু ওবায়দা বিন জাররা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে সিরিয়ার গভর্নর বানানো হয়েছিল। এ কারণে যে, সিরিয়ার অধিকাংশ এলাকা তিনি বিজয় করেছিলেন। ওই সময় বর্তমানে সি*রিয়ার এলাকায় চারটা দেশ ছিল অর্থাৎ, সি*রিয়া, জর্দান, ফি*লিস্তিন ও লেবানন। ঐ সময় এই চারটি দেশ মিলে ইসলামি হুকুমতের একটা প্রদেশ ছিল। হজরত আবু ওবায়দা রাদিয়াল্লাহু আনহু তার গভর্নর ছিলেন। সিরিয়া প্রদেশটি খুবই উর্বর ছিল এবং সেখানে ধন-সম্পদের স্তুপ ছিল। রোম পছন্দনীয় ও কাঙ্ক্ষিত অঞ্চল ছিল। হজরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু মদিনা মুনাওয়ারায় বসে সমগ্র ইসলামি বিশ্বের শাসন করতেন। সুতরাং তিনি একবার পরিদর্শনের জন্য সিরিয়ায় আসবেন।
সি*রিয়া পরিদর্শনের সময় একবার হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন যে, হে আবু উবাইদা, আমার মন চাচ্ছে যে, আমি আমার ভাইয়ের ঘর দেখব যেখানে তুমি থাক। হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর অন্তরে এটা ছিল যে, আবু উবাইদা এত বড় প্রদেশের গভর্নর হয়ে গিয়েছে এবং এখানে ধন-সম্পদের স্তুপ আছে এ কারণে তার ঘর দেখতে চাইলেন যে, তিনি কি কিছু জমা করে রেখেছে কিনা?
হজরত আবু উবাইদা রাদিয়াল্লাহু আনহু উত্তর দিলেন যে, আমিরুল মুমিনিন, আমার ঘর দেখে আপনি কি করবেন? এ কারণে যে, যখন আপনি আমার ঘর দেখবেন তখন চক্ষু থেকে অশ্রু প্রবাহিত হওয়া ছাড়া আর কিছুই অর্জন হবে না। হজরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু বারবার পীড়াপীড়ি করতে লাগলেন যে, ভাই! আমি দেখতে চাই। হজরত আবু উবাইদা রাদিয়াল্লাহু আনহু আমিরুল মুমিনিনকে নিয়ে চললেন। শহরের ভেতর দিয়ে অতিক্রম করতে লাগলেন। যেতে যেতে যখন শহরের আবাদি শেষ হয়ে গিয়েছে তখন হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু জিজ্ঞাসা করলেন যে, কোথায় নিয়ে যাচ্ছ? হজরত আবু উবাইদা রাদিয়াল্লাহু আনহু উত্তর দিলেন যে, আরেকটু সামনেই আমার ঘর। সুতরাং তারা দামেস্ক শহর যা দুনিয়ার ধন-সম্পদ এবং সরঞ্জামাদি দ্বারা ভরপুর ছিল তা অতিক্রম করে ফেললেন। পরিশেষে গিয়ে খেজুর পাতা দ্বারা নির্মিত একটি ঝুপড়ি দেখালেন এবং বললেন যে, আমিরুল মুমিনিন, আমি এই ঘরে থাকি। যখন হজরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু ভেতরে প্রবেশ করলেন, তখন চারদিকে দৃষ্টি ঘুরাতে লাগলেন। তখন সেখানে একটি জায়নামাজ ছাড়া অন্য কিছু দেখতে পেলেন না। হজরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু জিজ্ঞাসা করলেন যে, হে আবু উবাইদা, তুমি এতে থাক এখানে তো কোনো সামানাপত্র নেই। কোনো আসবাবপত্র নেই, খাওয়া ও পান করা এবং ঘুমানোর কোনো ব্যবস্থাপত্র নেই। তুমি এখানে কিভাবে থাক? তিনি উত্তর দিলেন যে, আমিরুল মুমিনিন, আলহামদুলিল্লাহ আমার প্রয়োজনীয় সামানাপত্র এখানেই আছে। এই জায়নামাজের ওপর আমি নামাজ পড়ি এবং রাত্রে এর উপরেই ঘুমিয়ে যাই। এরপরে স্বীয় হাত ঝুপড়ির উপরের দিকে বাড়ালেন এবং সেখান থেকে একটি পেয়ালা বের করলেন যা দেখা যাচ্ছিল না এবং ওই পেয়ালা বের করে দেখালেন যে, আমিরুল মুমিনিন, এটাই আমার পাত্র। হজরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন এই পাত্র দেখলেন তখন এতে পানি ভরা ছিল এবং শুকনো এক টুকরা রুটি ভেজানো ছিল। এর পরে আবু উবাইদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন যে, আমিরুল মুমিনিন, দিনরাত রাজ্যের বিভিন্ন কাজ কর্মে মশগুল থাকি খাবার ইত্যাদি ব্যবস্থা করার সুযোগ পাই না। এক মহিলা আমার জন্য দুই দিনের রুটি পাঠিয়ে দেন, আমি ওই রুটিকে রেখে দেই আর যখন রুটি শুকিয়ে যায় তখন তাকে এই পানিতে ডুবিয়ে রাখি এবং রাতে ঘুমানোর সময় খেয়ে নেই।
হজরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু এ অবস্থা যখন দেখলেন, তখন চক্ষু অশ্রুসিক্ত হয়ে গেল। হজরত আবু উবাইদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমিরুল মুমিনিন, আমি তো আপনাকে আগেই বলেছিলাম যে, আমার বাসস্থান দেখার পরে আপনার চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হওয়া ছাড়া আর কিছু অর্জন হবে না। হজরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন যে, হে আবু উবায়দা, এই দুনিয়ার উন্নতি ও অগ্রগতি আমাদের সকলকে পরিবর্তন করে দিয়েছে। কিন্তু আল্লাহর কসম, তুমি তেমনই আছো যেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জামানায় ছিলে। এই দুনিয়া তোমার ওপর কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। @abdullahshafi87
শেখ হাসিনা কোথায় ? উত্তরে যদি বলা হয়, জানিনা, আর সেটি যদি খোদ পররাষ্ট্রমন্ত্রণায় বলে, তাহলে কেমন মনে হবে আপনার কাছে। কিন্তু নির্মম সত্য এটাই, এবং সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না, শেখ হাসিনা কোথায়! একটা রাষ্ট্রের সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী। দুই মাস আগেও তিনি ছিলেন দেশের একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিপতি। হ্যা, ঠিক আছে, তিনি পালিয়ে গেছেন। তার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অসহনীয় অভিযোগ আছে! তাই বলে কোথায় আছেন, কীভাবে আছেন, সেই খবর সরকারের কাছে থাকবে না ? ঠিক আছে ধরে নিলাম, তার অপরাধের মাত্রা এতো বেশি যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাগ ক্ষোভ ঘৃণা এতোটাই অন্ধ করে দিয়েছে যে তারা মনে করছে যে শেখ হাসিনার লোকেশন কোথায় সে খবরও তারা হবে না ! তাহলে, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময় নির্বিচারে ছাত্র হত্যার দায়ে যাকে আপনারা দেশে ফিরিয়ে আনার কথা ভাবছেন। তিনি কোথায় সেই খবর আপনারা জানবেন না ? যদি নাই জানেন, শেখ হাসিনা কোথায় আছে, তাহলে কীভাবে কার কাছে প্রত্যার্পনের আবেদন করবেন? প্রশ্ন আরও উঠছে, তবে তার আগে চলুন দেখে নেই। শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে কী তথ্য প্রচলিত আছে। বিবিসি বলছে, শেখ হাসিনা ভারতেই আছেন। ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয় বলছে তাঁর মা ভারত থেকে সরে যায়নি। বহুল প্রচারিত ও চাওড় হওয়া তথ্য হচ্ছে, শেখ হাসিনা দুবাই গেছেন। রাখেনি, আঠারো ঘন্টা পর আবার ফিরে এসেছেন ভারত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, আরব আমিরাতের আজমানে আছেন তবে তা নিশ্চিত নয়। আবার আরেকটি পক্ষ বলছে, দুবাইয়ে তার জায়গা না হওয়ায় সবশেষ গন্তব্য বেলারুশ। এর ব্যাখ্যায় বলা হচ্ছে, রাশিয়া চায়না, আমেরিকা সমর্থিত কোন দেশে শেখ হাসিনা আশ্রয় নিক। আর সেই চিন্তা থেকেই বেলারুশে তার জায়গা মিলেছে। অবশ্য এই আলাপটি আগেও উঠেছিলো। কারণ বিশ্বের পতিত স্বৈরাচারী সরকার প্রধানের বেশির ভাগেরই শেষ ঠিকানা বেলারুশ।
যাই হোক, শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে এমন কুয়াশাচ্ছন্ন পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি। কেন জানবে না পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ? এর অবশ্য কয়েকটি দিক হতে পারে। ১. শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে সম্ভাব্য কোন দেশের কাছেই জানতে চায়নি পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ২. জানতে চাইলেও যেসব দেশে শেখ হাসিনা থাকার সম্ভাবনা আছে অর্থ্যাৎ ইন্ডিয়া আরব আমিরাত কিংবা বেলারুশ বা অন্য কোন কান্ট্রি তাদের কেউই অন্তবর্তী সরকারকে তথ্য দেয়নি। ৩. দেশগুলো যদি তথ্য দিয়েও থাকে সরকার তা প্রকাশ না করে তথ্য গোপন করতে পারে। কিন্তু যে শেখ হাসিনাকে সরকার ফিরিয়ে আনতে চায় তাঁর অবস্থানের তথ্য গোপন করেই বা কী করবে সরকার ? ৪. চতুর্থত যে বিষয়টি দাড়ালো তা হলো, যেহেতু শেখ হাসিনা মারা গেছেন, এই নশ্বর পৃথিবী ত্যাগ করেছেন, এমন কোন খবর জানা যায়নি। তাহলে অন্তত এইটা নিশ্চিত যে তিনি যেখানেই আছেন জীবীত আছেন, ভালো আছেন কিনা জানা নেই, তবে সুস্থু আছেন এইটা বলা যায়।
সম্ভাব্য এই চারটি উত্তর থেকে আমরা দুটি ধারণায় পৌছাতে পারি ! ১. সম্ভাব্য যে দেশগুলোর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, তাদের সঙ্গে সরকারের কূটনৈতিক সম্পর্ক ভাল নেই। অর্থ্যাৎ সরকার পরিবর্তনের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে নতুন বার্তা আসার কথা, তা এসেছে ঠিকই কিন্তু তার গ্রাফ নিচের দিকে। ২. দ্বিতীয়ত যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বিশ্ববাদে অন্য কোন দেশ এই সরকারকে শেখ হাসিনা ইস্যুতে সহায়তা করতে নারাজ। এসব ধারণার যে কোন একটি সঠিক অথবা কোনটিই সঠিক নয়। যদি তাই হয় তাহলে সংস্কার কিন্তু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও জরুরি। নইলে সঠিক তথ্য না থাকার পরিণতি কী..তা কিন্তু শেখ হাসিনা সরকার মুল্য দিয়েই বুঝেছে।
Abdullah Shafi
উত্তরবঙ্গের মাঠে বাতাস বদলাচ্ছে?
এনসিপি’র সফর কি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের শুরু?
রাজনীতি অনেকটা জমির মতো। কিছু জমি থাকে উর্বর, কিছু পতিত—আর কিছু জমিতে হঠাৎ করে নতুন চারা গজায়, যা সবাইকে চমকে দেয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক জমিতে এখন সেই চমকটি এনেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
সম্প্রতি উত্তরাঞ্চলে এনসিপির সফর রাজনীতির মাঠে এক ধরনের নতুন আগ্রহ তৈরি করেছে। আটকে থাকা সমাজ, অবহেলিত জনগোষ্ঠী, আর হতোদ্যম তরুণদের মাঝে যেন নতুন বাতাস বইছে। প্রশ্ন উঠছে: এই আগ্রহ কি কেবল কৌতূহল, নাকি সত্যিকারের পরিবর্তনের ইঙ্গিত?
মানুষ কেন আগ্রহী হচ্ছে?
এনসিপির জনসভাগুলোয় ভিড় কম নয়। আরও লক্ষণীয় বিষয়—এসব ভিড়ে শুধু মুখ চেনা রাজনৈতিক কর্মী নয়, আছেন তরুণ, শিক্ষক, কৃষক, রিকশাওয়ালা, এমনকি হাটে-বাজারের দোকানিরাও।
তাদের অনেকেই বলছেন, “চেনা দলের মুখে তো আর ভরসা নাই। নতুনদের অন্তত শুনে দেখা যাক।”
একটা সামাজিক জরিপ বলছে, তরুণদের ৪৮% একটা নতুন রাজনৈতিক বিকল্প খুঁজছে, যেটা দুর্নীতি থেকে দূরে থাকবে, আর কথা নয়—কাজ দিয়ে দেখাবে।
প্রচলিত রাজনীতি কেমন আছে?
আওয়ামী লীগ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে শক্তিশালী হলেও গণতান্ত্রিক চর্চা ও জনসম্পৃক্ততা প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়ে পালিয়েছে। এই শূণ্যতায় বিএনপি দীর্ঘদিন পর অনাকাঙ্ক্ষিত প্রত্যাবর্তনে নেতাকর্মীরা হতবিহ্বল। মানুষ আওয়ামী লীগের কর্মকান্ড ভুলতে শুরু করেছে। আর জামায়াত ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবেই এখনো কাবি খাচ্ছে। গণমানুষের দল হতে আরও ঢের বাকি। এই পরিস্থিতিতে দুই প্রধান দলের মধ্যে মানুষ অনেকটাই "বিকল্পহীন" বোধ করছে। সেই জায়গায় এনসিপি এসেছে এক ধরনের “কৌতূহলমূলক বিকল্প” হয়ে।
এটা কি সত্যিই ভবিষ্যতের ইঙ্গিত?
আমরা জানি, আগ্রহ আর আস্থা এক জিনিস নয়। আস্থা অর্জন করতে হয় সময়ের মাধ্যমে, সাহসী অবস্থান দিয়ে, আর বিশ্বাসযোগ্য কার্যক্রম দিয়ে।
এনসিপি যদি এই আগ্রহকে কাজে লাগাতে চায়, তবে তার প্রয়োজন—
• সময়োচিত নীতি উপস্থাপন,
• সাংগঠনিক শৃঙ্খলা,
• নির্বাচনী মাঠে অংশগ্রহণ এবং
• নির্ভরযোগ্য নেতৃত্ব।
পরিবর্তন কি আসবে, নাকি থেমে যাবে?
বাংলাদেশের রাজনীতি বর্তমানে এক ধরনের শূন্যতায় ঘুরপাক খাচ্ছে। সেই শূন্যতায় নতুন মুখ, নতুন কথা, নতুন আশার জায়গা তৈরি করতে চাচ্ছে এনসিপি।
এটা কেবল রাজনীতির গল্প নয়—এটা বিশ্বাসযোগ্য ভবিষ্যতের সম্ভাবনা গড়ার শুরু হতে পারে, যদি তারা এই আগ্রহের আগুনকে নিভতে না দেয়।
আপনি কী মনে করেন? নতুন রাজনৈতিক বিকল্প দরকার? নাকি আমরা পুরনো কাঠামোর মধ্যেই আটকে থাকব? কমেন্টে জানাতে পারেন।
#রাজনীতি #politics #Bangladesh #BNP #jamat #NCP #Analysis
1 year ago | [YT] | 6
View 0 replies
Abdullah Shafi
দুই পক্ষই সঠিক সময়ে নির্বাচনকে কঠিন করে তুলছে !
সময় যত কমছে ততই নির্বাচন নিয়ে দুই পক্ষের ধারালো বক্তব্যে নতুন নতুন অনুসঙ্গ যুক্ত হচ্ছে যা বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নেতিবাচক প্রভাবক হিসেব কাজ করবে বলে মনে হচ্ছে । গতকাল বিএনপির তারুণ্যের সমাবেশে দলটির ভরপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং জাপানে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মোহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্যের জেরে এই ধারণা আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
নির্বাচন সরকার ঘোষিত টাইম ফ্রেমের মধ্যে হবে না এই ধারণা প্রথম তৈরি ৫ আগস্টের পর গত ওয়ান ইলাভেন নিয়ে জাতিসংঘের একটি বক্তব্যের পর। সেখানে জাতিসংঘ বলেছিলো, তৎকালীন সময়ে ১/১১ এর সময় তারা যেসব বিষয়ে মনযোগ দিতে পারেনি এবার তারা সেই দিকেই ফোকাস করবে অর্থাৎ রাজনৈতিক সংস্কার।
দ্বিতীয়ত ১৫ ফেব্রুয়ারী, যখন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে তার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া হয় তখন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সকল রাজনৈতিক দলের সামনেই ১০ মিনিটের একটা বক্তব্য দিয়েছিলেন। সেই বক্তব্য শোনার পর আমার ধারণা গুটি পাকাতে শুরু করে যে নির্বাচন হয়তো সঠিক সময়ে হচ্ছে না।
সবশেষ, জাপান সফরে দেয়া বক্তব্য, জাপানের বক্তব্য নিয়ে কথা বলার আগে দেখে আসি বিএনপির অবস্থানটা এই পর্যায়ে আসলো কী করে? ৫ আগস্টের ৭২ ঘন্টার মধ্যে বিএনপি তিনমাসের মধ্যে নির্বাচনের দাবী জানায়। এরপর প্রতিনিয়ত এই দাবীকে শক্তিশালী করার জন্য যা করার সবই করছে। এতোদিন ডিসেম্বরে নির্বাচনের দাবী থাকলেও এবারই প্রথম সিদ্ধান্ত দিয়েছে দলটি। তারেক রহমান বলছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হতে হবে। নির্বাচন ডিসেম্বরেই হবে। আপনারা প্রস্তুতি নিন। নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেন। অর্থাৎ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সবশেষ সীমানা নিশ্চিত করলো।
পাশাপাশি তারেক রহমান নতুন স্লোগান দিলো দিল্লি নয়-পিন্ডি নয়, নয় অন্যকোন দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।
একই সঙ্গে মির্জা সালাহউদ্দিনদের বক্তব্যেও ছিলো নাটকীয়তায় ভরপুর কেউ বলেছেন পদত্যাগের নাটক করেছেন কেউ বলেছেন, দেশের পরিস্থিতি আওয়ামী লীগের চেয়েও খরাপ হবে।
যাইহোক তারেক রহমান যখন এই বক্তব্য দিলেন তার আগে সকালের দিকে জাপানে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং জাপান বাংলাদেশ বন্ধুত্ব লীগের সভাপতি তারো আসের সঙ্গে বৈঠক করেন ড. ইউনুস। তারো আরেকে জানান, পরিস্থিতি যেমনই হোক ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই বক্তব্যে নতুন শব্দ "পরিস্থিতি যেমনই হোক "
নির্বাচন যে নির্ধারিত সময়ে হচ্ছে না এইটা যেন তারই ইঙ্গিত। অর্থাৎ সামনে হয়তো নতুন কোন পরিস্থিতি তৈরি হতে যাচ্ছে যাতে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকেই আওয়াজ আসবে যে ঠিকাছে এই পরিস্থিতিতে না নির্বাচন পরে হোক।
পরিস্থিতিটা যেভাবে ক্রিয়েটিভ হতে পারে তাহলো তারেক রহমানের স্লোগান ঘিরে। কারণ এই স্লোগানে ভারত পাকিস্তানের পাশাপাশি পরাশক্তিদেশগুলোকেও এক কাতারে নামিয়ে আনা হলো। পাকিস্তানের যে সংকট ছিলো দিল্লির সঙ্গে সেই সংকট তৈরি হওয়ার আগেই আমরা বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি। অর্থাৎ টেরিটোরিয়াল সিকিউরিটি ও সার্বভৌমত্ব। ঠিক একই কাতারে যুক্তরাষ্ট্র চীনকে ফেলা টিক হলো কি না সেইটা অনেক বড় প্রশ্ন।
অনেকে মনে করেন, ড. ইউনুস আমেরিকাপন্থি। শেখ হাসিনা যেমন দিল্লি পন্থি একইভাবে বিএনপি জামায়াতকে পাকিস্তান পন্থি হিসেবে এদেশে ট্যাগিং করা হতো।
বাংলাদেশ প্রসঙ্গে, দিল্লির বাস্তবতার সঙ্গে অন্যকোন দেশের বাস্তবতার মিল নেই। তাই এক কাতারে টেনে দাড় করানো অনেকটা শেখ হাসিনার ট্যাগিংয়ের মতোই। পুরো পৃথিবীর বাস্তবতা হচ্ছে পরাশক্তির বলয়ের বাইরে কোন দেশেরই যাওয়ার সুযোগ নেই। যেখানে অর্থ-শিক্ষা-স্বাস্থ্য সবকিছুর জন্যই আমরা তাদের ওপর নির্ভরশীল। এইটাকে ডিল করতে হয়। আপনি ডিল না করে যখন দিল্লি শাহীর কাতারে টেনে আনবেন, নতুন পরিস্থিতিতো তৈরি হবেই।😇😇
#ন্যায্যতারবাংলাদেশগড়ি
#unkemptthought
#democracy
1 year ago | [YT] | 1
View 0 replies
Abdullah Shafi
নির্বাচন নিয়ে ড. ইউনূসের কথায় আস্থা রাখতে না পারলে দেশের পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে? এর দায়ভার বর্তাবে বড় এবং প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেব বিএনপির ওপর ?
1 year ago | [YT] | 6
View 0 replies
Abdullah Shafi
1 year ago | [YT] | 3
View 0 replies
Abdullah Shafi
১৭ বছর পর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। দেশে ফেরার পর তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর গত ৩০ এপ্রিল চার স্তরের নিরাপত্তা চেয়ে একটি চিঠি দিয়েছে বিএনপি। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবারের সদস্য এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী হিসেবে ডা. জোবায়দা রহমানের জীবনে নিরাপত্তার ঝুঁকি রয়েছে। তিনি ঢাকায় অবস্থানকালে ধানমন্ডিস্থ তার পৈত্রিক বাসভবন ‘মাহবুব ভবনে’ থাকবেন।
চিঠিতে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চারটি ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। একজন সশস্ত্র গানম্যান নিয়োগের সঙ্গে গাড়িসহ পুলিশ প্রটেকশন চেয়েছে বিএনপি। এছাড়াও বাসায় পুলিশ প্রহরা এবং বাসার প্রবেশপথে আর্চওয়ে স্থাপনের জন্যও অনুরোধ জানানো হয়। আগামী সোমবার (৫ মে) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে লন্ডন থেকে দেশে ফিরবেন ডা. জুবাইদা।
1 year ago | [YT] | 3
View 0 replies
Abdullah Shafi
পহেলা বৈশাখের "মঙ্গল শোভাযাত্রা"র নাম বদলে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ করা হলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বলছেন নাম পরিবর্তন নয় বরং আগের ঐতিহ্যে ফিরে গেছে শোভাযাত্রা ! আপনার কী মনে হয় ? @abdullahshafi87
1 year ago | [YT] | 2
View 0 replies
Abdullah Shafi
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন ভারতের চেয়ে বেশি বাংলাদেশের ভালো কেউ ভাবে না ! আপনি কি একমত?
1 year ago | [YT] | 7
View 1 reply
Abdullah Shafi
গণতন্ত্রের প্রশ্নে শেখ হাসিনা ওয়াজেদ কি বেগম খালেদা জিয়ার ফলোয়ার ছিলেন ?
২০০৬ সালে কেয়ারটেকার ইস্যুতে যদি বিএনপি-জামায়াত সফল হইতো তাহলে কি এখনকার শেখ হাসিনার মতোই তাদের পরিণতি হতো ?
ঠিক এই কাজটাই ২০১৪ সালে শেখ হাসিনা সফলতার সঙ্গে করেছেন । কেয়ারটেকার সরকার জাস্ট বাতিল করে দিয়েছেন। ভোটাধিকার হরণে যা করা দরকার সবই করেছিলো আওয়ামী লীগ। একতরফা নির্বাচন।
অন্যদিকে, ৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ জামায়াতের দেয়া রুপরেখায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল মেনে নেয়নি। আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যেই ১৪ সালের মতো একটা নির্বাচন আয়োজন করে দলটি। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির সেই নির্বাচনে সরকার গঠন করেও শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেনি বিএনপি। আওয়ামী লীগ- জামায়াত জোট আন্দোলনের মাধ্যমে কেয়ারটেকার গভর্মেন্ট ইস্যুতে সফল হয়েছিলো! এবং মাত্র ১২ দিনের ক্ষমতায় কেয়ারটেকার সরকার গঠন করে পদত্যাগ করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া।
কিন্তু ১৪ সালে আওয়ামী লীগ বলেছিলো, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণেই ১৪'র ভোটারবিহীন নির্বাচন। মধ্যবর্তী নির্বাচন হবে। কিন্তু ৯৬ সালের মতো বিএনপি সেটি আদায় করতে ব্যার্থ হয়েছিলো। ফলাফল শেখ হাসিনার কাল্ট হয়ে ওঠা।
অবশ্য এই ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে পার্থক্য ছিলো মানবিকতার। খালেদা শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে ক্ষমতা ছাড়েন। আর শেখ হাসিনা অমানবিক হয়ে ওঠেন। অবশ্য এইটার একটা বড় কারণ হতে পারে বিডিআর হত্যাকাণ্ডের দগদগে ক্ষত।
শেখ হাসিনা ২০০১ সালে শান্তিপুর্ণভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন। এবং এটিই বাংলাদেশে একমাত্র সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের নজির।
অর্থাৎ বেগম খালেদা জিয়া যা করতে চেয়ে ব্যার্থ হয়েছেন শেখ হাসিনা তা করে দেখিয়েছেন। বলা যায়, শেখ হাসিনা খালেদা জিয়াকে অনুসরণ করে সফল হয়েছেন।
ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হইলো, নেতাকর্মী সমর্থকদের কাছে বেগম খালেদা জিয়া হইলো Mother of Democracy আর শেখ হাসিনা হইলো গণতন্ত্রের মানষকণ্যা।
বাংলাদেশের বিজয় দেখতে চাই।
1 year ago | [YT] | 6
View 0 replies
Abdullah Shafi
সি*রিয়ার সরকার প্রধানের বাসস্থান কেমন ছিলো?
হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর জামানায় হজরত আবু ওবায়দা বিন জাররা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে সিরিয়ার গভর্নর বানানো হয়েছিল। এ কারণে যে, সিরিয়ার অধিকাংশ এলাকা তিনি বিজয় করেছিলেন। ওই সময় বর্তমানে সি*রিয়ার এলাকায় চারটা দেশ ছিল অর্থাৎ, সি*রিয়া, জর্দান, ফি*লিস্তিন ও লেবানন। ঐ সময় এই চারটি দেশ মিলে ইসলামি হুকুমতের একটা প্রদেশ ছিল। হজরত আবু ওবায়দা রাদিয়াল্লাহু আনহু তার গভর্নর ছিলেন। সিরিয়া প্রদেশটি খুবই উর্বর ছিল এবং সেখানে ধন-সম্পদের স্তুপ ছিল। রোম পছন্দনীয় ও কাঙ্ক্ষিত অঞ্চল ছিল। হজরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু মদিনা মুনাওয়ারায় বসে সমগ্র ইসলামি বিশ্বের শাসন করতেন। সুতরাং তিনি একবার পরিদর্শনের জন্য সিরিয়ায় আসবেন।
সি*রিয়া পরিদর্শনের সময় একবার হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন যে, হে আবু উবাইদা, আমার মন চাচ্ছে যে, আমি আমার ভাইয়ের ঘর দেখব যেখানে তুমি থাক। হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর অন্তরে এটা ছিল যে, আবু উবাইদা এত বড় প্রদেশের গভর্নর হয়ে গিয়েছে এবং এখানে ধন-সম্পদের স্তুপ আছে এ কারণে তার ঘর দেখতে চাইলেন যে, তিনি কি কিছু জমা করে রেখেছে কিনা?
হজরত আবু উবাইদা রাদিয়াল্লাহু আনহু উত্তর দিলেন যে, আমিরুল মুমিনিন, আমার ঘর দেখে আপনি কি করবেন? এ কারণে যে, যখন আপনি আমার ঘর দেখবেন তখন চক্ষু থেকে অশ্রু প্রবাহিত হওয়া ছাড়া আর কিছুই অর্জন হবে না। হজরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু বারবার পীড়াপীড়ি করতে লাগলেন যে, ভাই! আমি দেখতে চাই। হজরত আবু উবাইদা রাদিয়াল্লাহু আনহু আমিরুল মুমিনিনকে নিয়ে চললেন। শহরের ভেতর দিয়ে অতিক্রম করতে লাগলেন। যেতে যেতে যখন শহরের আবাদি শেষ হয়ে গিয়েছে তখন হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু জিজ্ঞাসা করলেন যে, কোথায় নিয়ে যাচ্ছ? হজরত আবু উবাইদা রাদিয়াল্লাহু আনহু উত্তর দিলেন যে, আরেকটু সামনেই আমার ঘর। সুতরাং তারা দামেস্ক শহর যা দুনিয়ার ধন-সম্পদ এবং সরঞ্জামাদি দ্বারা ভরপুর ছিল তা অতিক্রম করে ফেললেন। পরিশেষে গিয়ে খেজুর পাতা দ্বারা নির্মিত একটি ঝুপড়ি দেখালেন এবং বললেন যে, আমিরুল মুমিনিন, আমি এই ঘরে থাকি। যখন হজরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু ভেতরে প্রবেশ করলেন, তখন চারদিকে দৃষ্টি ঘুরাতে লাগলেন। তখন সেখানে একটি জায়নামাজ ছাড়া অন্য কিছু দেখতে পেলেন না। হজরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু জিজ্ঞাসা করলেন যে, হে আবু উবাইদা, তুমি এতে থাক এখানে তো কোনো সামানাপত্র নেই। কোনো আসবাবপত্র নেই, খাওয়া ও পান করা এবং ঘুমানোর কোনো ব্যবস্থাপত্র নেই। তুমি এখানে কিভাবে থাক? তিনি উত্তর দিলেন যে, আমিরুল মুমিনিন, আলহামদুলিল্লাহ আমার প্রয়োজনীয় সামানাপত্র এখানেই আছে। এই জায়নামাজের ওপর আমি নামাজ পড়ি এবং রাত্রে এর উপরেই ঘুমিয়ে যাই। এরপরে স্বীয় হাত ঝুপড়ির উপরের দিকে বাড়ালেন এবং সেখান থেকে একটি পেয়ালা বের করলেন যা দেখা যাচ্ছিল না এবং ওই পেয়ালা বের করে দেখালেন যে, আমিরুল মুমিনিন, এটাই আমার পাত্র। হজরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন এই পাত্র দেখলেন তখন এতে পানি ভরা ছিল এবং শুকনো এক টুকরা রুটি ভেজানো ছিল। এর পরে আবু উবাইদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন যে, আমিরুল মুমিনিন, দিনরাত রাজ্যের বিভিন্ন কাজ কর্মে মশগুল থাকি খাবার ইত্যাদি ব্যবস্থা করার সুযোগ পাই না। এক মহিলা আমার জন্য দুই দিনের রুটি পাঠিয়ে দেন, আমি ওই রুটিকে রেখে দেই আর যখন রুটি শুকিয়ে যায় তখন তাকে এই পানিতে ডুবিয়ে রাখি এবং রাতে ঘুমানোর সময় খেয়ে নেই।
হজরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু এ অবস্থা যখন দেখলেন, তখন চক্ষু অশ্রুসিক্ত হয়ে গেল। হজরত আবু উবাইদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমিরুল মুমিনিন, আমি তো আপনাকে আগেই বলেছিলাম যে, আমার বাসস্থান দেখার পরে আপনার চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হওয়া ছাড়া আর কিছু অর্জন হবে না। হজরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন যে, হে আবু উবায়দা, এই দুনিয়ার উন্নতি ও অগ্রগতি আমাদের সকলকে পরিবর্তন করে দিয়েছে। কিন্তু আল্লাহর কসম, তুমি তেমনই আছো যেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জামানায় ছিলে। এই দুনিয়া তোমার ওপর কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। @abdullahshafi87
1 year ago (edited) | [YT] | 3
View 0 replies
Abdullah Shafi
শেখ হাসিনা কোথায় : কেন
সরকারকে জানতেই হবে ?
শেখ হাসিনা কোথায় ? উত্তরে যদি বলা হয়, জানিনা, আর সেটি যদি খোদ পররাষ্ট্রমন্ত্রণায় বলে, তাহলে কেমন মনে হবে আপনার কাছে। কিন্তু নির্মম সত্য এটাই, এবং সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না, শেখ হাসিনা কোথায়!
একটা রাষ্ট্রের সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী। দুই মাস আগেও তিনি ছিলেন দেশের একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিপতি। হ্যা, ঠিক আছে, তিনি পালিয়ে গেছেন। তার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অসহনীয় অভিযোগ আছে! তাই বলে কোথায় আছেন, কীভাবে আছেন, সেই খবর সরকারের কাছে থাকবে না ?
ঠিক আছে ধরে নিলাম, তার অপরাধের মাত্রা এতো বেশি যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাগ ক্ষোভ ঘৃণা এতোটাই অন্ধ করে দিয়েছে যে তারা মনে করছে যে শেখ হাসিনার লোকেশন কোথায় সে খবরও তারা হবে না ! তাহলে, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময় নির্বিচারে ছাত্র হত্যার দায়ে যাকে আপনারা দেশে ফিরিয়ে আনার কথা ভাবছেন। তিনি কোথায় সেই খবর আপনারা জানবেন না ? যদি নাই জানেন, শেখ হাসিনা কোথায় আছে, তাহলে কীভাবে কার কাছে প্রত্যার্পনের আবেদন করবেন?
প্রশ্ন আরও উঠছে, তবে তার আগে চলুন দেখে নেই। শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে কী তথ্য প্রচলিত আছে। বিবিসি বলছে, শেখ হাসিনা ভারতেই আছেন। ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয় বলছে তাঁর মা ভারত থেকে সরে যায়নি। বহুল প্রচারিত ও চাওড় হওয়া তথ্য হচ্ছে, শেখ হাসিনা দুবাই গেছেন। রাখেনি, আঠারো ঘন্টা পর আবার ফিরে এসেছেন ভারত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, আরব আমিরাতের আজমানে আছেন তবে তা নিশ্চিত নয়।
আবার আরেকটি পক্ষ বলছে, দুবাইয়ে তার জায়গা না হওয়ায় সবশেষ গন্তব্য বেলারুশ। এর ব্যাখ্যায় বলা হচ্ছে, রাশিয়া চায়না, আমেরিকা সমর্থিত কোন দেশে শেখ হাসিনা আশ্রয় নিক। আর সেই চিন্তা থেকেই বেলারুশে তার জায়গা মিলেছে। অবশ্য এই আলাপটি আগেও উঠেছিলো। কারণ বিশ্বের পতিত স্বৈরাচারী সরকার প্রধানের বেশির ভাগেরই শেষ ঠিকানা বেলারুশ।
যাই হোক, শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে এমন কুয়াশাচ্ছন্ন পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি। কেন জানবে না পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ? এর অবশ্য কয়েকটি দিক হতে পারে।
১. শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে সম্ভাব্য কোন দেশের কাছেই জানতে চায়নি পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়
২. জানতে চাইলেও যেসব দেশে শেখ হাসিনা থাকার সম্ভাবনা আছে অর্থ্যাৎ ইন্ডিয়া আরব আমিরাত কিংবা বেলারুশ বা অন্য কোন কান্ট্রি তাদের কেউই অন্তবর্তী সরকারকে তথ্য দেয়নি।
৩. দেশগুলো যদি তথ্য দিয়েও থাকে সরকার তা প্রকাশ না করে তথ্য গোপন করতে পারে। কিন্তু যে শেখ হাসিনাকে সরকার ফিরিয়ে আনতে চায় তাঁর অবস্থানের তথ্য গোপন করেই বা কী করবে সরকার ?
৪. চতুর্থত যে বিষয়টি দাড়ালো তা হলো, যেহেতু শেখ হাসিনা মারা গেছেন, এই নশ্বর পৃথিবী ত্যাগ করেছেন, এমন কোন খবর জানা যায়নি। তাহলে অন্তত এইটা নিশ্চিত যে তিনি যেখানেই আছেন জীবীত আছেন, ভালো আছেন কিনা জানা নেই, তবে সুস্থু আছেন এইটা বলা যায়।
সম্ভাব্য এই চারটি উত্তর থেকে আমরা দুটি ধারণায় পৌছাতে পারি !
১. সম্ভাব্য যে দেশগুলোর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, তাদের সঙ্গে সরকারের কূটনৈতিক সম্পর্ক ভাল নেই। অর্থ্যাৎ সরকার পরিবর্তনের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে নতুন বার্তা আসার কথা, তা এসেছে ঠিকই কিন্তু তার গ্রাফ নিচের দিকে।
২. দ্বিতীয়ত যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বিশ্ববাদে অন্য কোন দেশ এই সরকারকে শেখ হাসিনা ইস্যুতে সহায়তা করতে নারাজ।
এসব ধারণার যে কোন একটি সঠিক অথবা কোনটিই সঠিক নয়। যদি তাই হয় তাহলে সংস্কার কিন্তু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও জরুরি। নইলে সঠিক তথ্য না থাকার পরিণতি কী..তা কিন্তু শেখ হাসিনা সরকার মুল্য দিয়েই বুঝেছে।
আব্দুল্লাহ শাফী
১০.১০.২০২৪
2 years ago | [YT] | 2
View 1 reply
Load more