নেতাজির জীবন আদর্শ ও তাঁর অজানা সত্য ইতিহাস সন্ধানে এই চ্যানেল সদা দায়িত্বের সঙ্গে কাজ করে চলেছে। জনমানসে এই মানুষটিকে নিয়ে জাগরণ সৃষ্টি করাই এই চ্যানেলের উদ্দেশ্য।
মঞ্চটা ছিল দাদাগিরির। তবে যতটা না ছিল আমার, তার চেয়েও অনেক বেশি ছিল নেতাজির।
পার্টিসিপেন্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ, অন্তরা মিত্র, নিকিতা গান্ধী, সৃজা দত্ত, পারিজাত চৌধুরী এবং আমি।
এই পোস্টটি লেখার অন্যতম কারণ—আজ নিজেকে সত্যিই সফল মনে হচ্ছে। কারণ বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো-এর মঞ্চে আমি তুলে ধরতে পেরেছি একজন মানুষের দাদাগিরি। সেই মানুষটি—নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।
নেতাজির এমন কিছু ইতিহাস, এমন কিছু অজানা অধ্যায় টেলিভিশনের পর্দায় তুলে ধরতে পারা যেমন আমার কাছে গর্বের, তেমনই ছিল আবেগেরও।
আর সেই মুহূর্তের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন একজন সাংসদ, অভিনেতা এবং এই অনুষ্ঠানের সঞ্চালক দেব। আমার বলা প্রতিটি কথা শোনার পর তাঁর বিস্ময় আমাকে স্পর্শ করেছে।
সত্যি বলতে, মাঝে মাঝে আমিও অবাক হয়ে ভাবি—আমাদের দেশের একজন সাংসদ যখন নেতাজি সম্পর্কে এত কম জানেন, তখন সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর ইতিহাস কতটা পৌঁছেছে?
তবে এটাকে আমি কারও দোষ হিসেবে দেখি না। কারণ সমস্যাটা আরও বড়—আমাদের গোটা সমাজই নেতাজির প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে এখনও অনেকটাই অজ্ঞ।
আর একজন নেতাজি-প্রেমী হিসেবে আমার কাজ একটাই—যতদিন পারি, যত মানুষের কাছে পারি, নেতাজির কথা বলা। তাঁর অজানা ইতিহাস তুলে ধরা। সেই কাজটাই আমি করে এসেছি, ভবিষ্যতেও করে যেতে চাই।
দেবের কাছে আমার একটি ছোট্ট অনুরোধ ছিল—এই গোটা বিষয়টি যেন তিনি পার্লামেন্টে তুলে ধরার ব্যাপারে একবার ভাবেন।
সব কথা শোনার পর দেব আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি বিষয়টি পার্লামেন্টে উত্থাপনের ব্যাপারে অবশ্যই চিন্তাভাবনা করবেন।
আমি এটাকে সাফল্য বলছি না। কিন্তু এটাকে আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ অবশ্যই মনে করি।
যে মানুষটি আজও কোটি কোটি ভারতবাসীর হৃদয়ে বেঁচে আছেন, তাঁর ইতিহাস যেন সময়ের সঙ্গে মুছে না যায়। নেতাজির প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা চিরন্তন। কিন্তু তার পাশাপাশি সেই মানুষটির প্রকৃত ইতিহাস, তাঁর সংগ্রাম এবং তাঁর জীবনের সত্যগুলিও মানুষের সামনে আসা উচিত।
এই কারণেই দাদাগিরির গোটা টিমকে, বিশেষ করে দেবকে, আমার আন্তরিক ধন্যবাদ। এত মন দিয়ে এই বিষয়গুলো শোনার জন্য, জানার আগ্রহ দেখানোর জন্য এবং এই বিষয়টি নিয়ে ভাবার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার জন্য।
বাকিটা সময় বলবে।
দেবকে শুধু একটি কথাই বলেছিলাম— “এই কাজটা যদি তুমি করতে পারো, মানুষ তোমাকে দু’হাত তুলে আশীর্বাদ করবে।”
দুজনে একসঙ্গে এই ছবিটা তোলার ঠিক আগেই নওশাদ হঠাৎ আমাকে প্রশ্ন করল— “আমার গলায় জড়ানো উত্তরীয়ের এই রংটা কি ছবি পোস্ট করার জন্য যথেষ্ট?”
আমি সেই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করার আগেই ও নিজেই বলল—
“এটা তো গেরুয়া। বীরত্ব, শক্তি আর ত্যাগের প্রতীক। ভারতের জাতীয় পতাকার প্রথম রং এই গেরুয়া বা স্যাফ্রন। এই রঙের উত্তরীয় পরলে সমস্যা কোথায়?”
ওর কথাটা শেষ হতে না হতেই উল্টো দিকে দাঁড়িয়ে থাকা ক্যামেরাম্যান ছবিটা তুলে দিলেন।
কিন্তু ছবিটা তোলার পর থেকেই আমার মনে একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—
একটা রং কীভাবে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে?
একটা পবিত্র গেরুয়া রং—সেটা কি কোনও অদ্ভুত রাজনীতির প্রতীক হয়ে যেতে পারে?
একটা জাতীয় ফুল—সে কি কোনও রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি হতে পারে?
রক্তের লাল রং—তার অধিকার কি কোনও রাজনৈতিক দলের হতে পারে?
সবুজে ভরে থাকা এই পৃথিবী—সেটাও কি কোনও দলের প্রতীক হয়ে যেতে পারে?
কখনওই নয়।
রং মানুষের। রং প্রকৃতির। রং আমাদের সংস্কৃতির। রং আমাদের ইতিহাসের। রং আমাদের আবেগের।
কোনও রাজনৈতিক দলের একার নয়।
আসলে কোনও রংই কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতীক হওয়া উচিত নয়। একটি রাজনৈতিক দলের সবচেয়ে বড় পরিচয় হওয়া উচিত তার কাজ, তার আদর্শ এবং মানুষের জন্য তার ভূমিকা।
কিন্তু আমাদের সমাজ আজ এমন এক অদ্ভুত জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে একজন নেতার গায়ে কোন রং দেখা যাচ্ছে—সেটাও বিচার করার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
কোন রং পরলে কী বলা হবে, কোন রং ব্যবহার করলে কে কী ভাববে, কোন রং দেখলে কোন রাজনৈতিক পরিচয় চাপিয়ে দেওয়া হবে—
এসব ভাবতে ভাবতেই আমরা কোথাও যেন মানুষটাকেই ভুলে যাচ্ছি।
এটা শুধু কোনও একজনের দোষ নয়। এটা আমাদের সমাজের তৈরি করা এক মানসিকতার প্রতিফলন। আমরা রঙের মধ্যে রাজনীতি খুঁজতে খুঁজতে মানুষের মধ্যে মানুষটাকে খুঁজতে ভুলে যাচ্ছি।
আজকের রাজনীতি অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষমতা, প্রভাব আর অর্থের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। রাজনীতি যে অনেকের কাছে লাভের একটি পথ হয়ে উঠেছে—সেটাও অস্বীকার করার উপায় নেই।
কিন্তু তার মধ্যেও যদি কোনও একজন মানুষ হঠাৎ খুব সহজভাবে বলে ওঠে—
“ধুর, ছাড় তো! এটা তো ত্যাগের গেরুয়া।”
তখন সেই কথাটার মধ্যে আমি রাজনীতির চেয়ে বড় কিছু দেখতে পাই।
দেখি একজন মানুষকে। দেখি তার নিজের মতো করে ভাবার সাহসকে। দেখি প্রচলিত বিভাজনের বাইরে দাঁড়ানোর একটা চেষ্টা।
আমরা এমন একটা সমাজ চাই— যেখানে গেরুয়া দেখলে কাউকে কোনও রাজনৈতিক পরিচয়ে আটকে দেওয়া হবে না, সবুজ দেখলে কাউকে কোনও শিবিরে ঠেলে দেওয়া হবে না, লাল দেখলে কারও রাজনৈতিক পরিচয় খোঁজা হবে না।
আমরা চাই এমন এক সমাজ, যেখানে সমস্ত গ্লানি, সমস্ত বিভাজন, সমস্ত সংকীর্ণতাকে পিছনে ফেলে মানুষই হবে মানুষের প্রথম পরিচয়।
সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই"
রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন—
“চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির, জ্ঞান যেথা মুক্ত, যেথা গৃহের প্রাচীর আপন প্রাঙ্গণতলে দিবসশর্বরী বসুধারে রাখে নাই খণ্ড ক্ষুদ্র করি; যেথা বাক্য হৃদয়ের উৎসমুখ হতে উচ্ছ্বসিয়া উঠে, যেথা নির্বারিত স্রোতে দেশে দেশে দিশে দিশে কর্মধারা ধায় অজস্র সহস্রবিধ চরিতার্থতায়; যেথা তুচ্ছ আচারের মরুবালুরাশি বিচারের স্রোতঃপথ ফেলে নাই গ্রাসি, পৌরুষেরে করেনি শতধা; নিত্য যেথা তুমি সর্ব কর্ম চিন্তা আনন্দের নেতা— নিজ হস্তে নির্দয় আঘাত করি পিতঃ, ভারতেরে সেই স্বর্গে করো জাগরিত।”
এই স্বপ্নের ভারতেই তো আমরা বাঁচতে চাই।
যেখানে রং বিভাজন তৈরি করবে না। যেখানে মতের অমিল শত্রুতা তৈরি করবে না। যেখানে রাজনৈতিক পরিচয়ের আগে মানুষ পরিচয়টাই বড় হবে।
ধন্যবাদ, নওশাদ সিদ্দিকী।
এই ছোট্ট কথাটার মধ্য দিয়ে হয়তো আমাদের অনেক বড় একটা প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন— আমরা কি রংকে দেখব, নাকি রঙের আড়ালে থাকা মানুষটাকে?
আজ নিউটাউনে অনুষ্ঠিত একটি কনক্লেভে গিয়েছিলাম। সেখানে রাজ্যের অন্যান্য নেতা-মন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
না, উনি আমাকে চেনেন না। আমার সঙ্গে তাঁর কোনও পূর্বপরিচয়ও নেই।
অনুষ্ঠান শেষে দেখলাম, অনেকেই বাইরে তাঁর সঙ্গে সেলফি তুলছেন, কথা বলছেন, শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। সেলফি তোলা কোনও অন্যায় নয়—বরং যাঁরা পছন্দ করেন, তাঁরা নিশ্চয়ই তুলবেন। কিন্তু সত্যি বলতে, স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সামনে পেয়েও আমার সেলফি তোলার কোনও ইচ্ছে হলো না।
বরং হঠাৎ কী মনে হলো, পেছন থেকে তাঁকে ডাকলাম।
উনি তখন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন। আমার গলার আওয়াজ শুনে পিছন ফিরে তাকালেন। আমি নিজের পরিচয় দিলাম। তারপর যেন গড়গড় করে এক নিঃশ্বাসে বেশ কয়েকটা কথা বলে ফেললাম।
কেন বললাম জানি না। হয়তো উৎকণ্ঠা থেকে। হয়তো উদ্বেগ থেকে। হয়তো সম্প্রতি খুব কাছের একজন মানুষকে হারানোর অভিজ্ঞতা থেকেই।
আমি বললাম—
“স্যার, পশ্চিমবঙ্গের সরকারি হাসপাতালগুলিতে সাধারণ বেডের ব্যবস্থা থাকলেও মুমূর্ষু রোগীর জন্য ICU-এর যে পরিমাণ প্রয়োজন, তার তুলনায় ব্যবস্থা অত্যন্ত অপ্রতুল। প্রতিদিন বহু সাধারণ, গরিব মানুষ ICU না পেয়ে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরছেন। অনেকেই শেষ পর্যন্ত চিকিৎসার সুযোগটুকুও পাচ্ছেন না।
সম্প্রতি ICU-এর ব্যবস্থা করতে না পারার কারণে আমি নিজেও খুব কাছের একজন মানুষকে হারিয়েছি।
প্রতিদিন বহু মানুষ আমাকে অনুরোধ করেন—একটা ICU-এর ব্যবস্থা করে দিন। কিন্তু বর্তমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মধ্যে দাঁড়িয়ে বহু মানুষের সঙ্গে কথা বলেও আমি তাঁদের জন্য সেই ব্যবস্থা করতে পারি না।
অতীতে সরকার বদলেছে, আগের সরকার অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এত বছর পরেও যদি একজন মুমূর্ষু রোগীর জন্য ICU-এর খোঁজে মানুষকে ছুটে বেড়াতে হয়, তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়—আমরা কোথায় যাচ্ছি?
আপনারাও যদি শুধু প্রতিশ্রুতি দেন, তাহলে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?
আমার বাবা-মাও এখন বয়স্ক। তাঁদের কোনও মেডিক্লেম নেই। তাই ভবিষ্যতে কঠিন কোনও পরিস্থিতি তৈরি হলে এই রাজ্যে আমি এবং আমার পরিবার আদৌ সময়মতো সঠিক চিকিৎসা পাব কি না—এই চিন্তাটাও আমাকে ভাবায়।”
আমার কথা শেষ হওয়ার পর উনি বললেন,
“আপনি একদম ঠিক বলেছেন। আমরা সমস্যাটা জানি। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে ICU থাকলেও সঠিক পরিকাঠামো এবং পর্যাপ্ত ম্যানপাওয়ারের অভাব রয়েছে। আমরা বিষয়টা দেখব।”
ব্যস, কথোপকথন শেষ।
আমি সরে আসার পর কয়েকজনকে দেখলাম অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। কেউ কেউ পরে এসে বললেন, “এই কথাগুলো তো সহজে কেউ বলে না!”
সত্যিই তো।
কিন্তু আমার মনে একটা প্রশ্নই এসেছিল—রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে আমি আর কী প্রশ্ন করব?
আমি কি জিজ্ঞাসা করব, “স্যার, আপনি কি বিগ বস দেখেন?”
স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সামনে পেলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করাটাই তো স্বাভাবিক। বিশেষ করে যখন সেই প্রশ্নের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একজন সাধারণ মানুষের জীবন-মৃত্যুর অভিজ্ঞতা।
আমি কোনও রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে যাইনি। কাউকে অপমান করতেও নয়।
আমি শুধু আমার মতো একজন সাধারণ মানুষের উদ্বেগটা জানিয়েছি।
কারণ একজন মন্ত্রীকে সামনে পেলে সেলফি তোলা অবশ্যই আনন্দের হতে পারে, কিন্তু এ সবকজন নাগরিক হিসেবে প্রশ্ন করার সুযোগ পাওয়াটাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
আর আমার প্রশ্নটা খুব সহজ—
একজন মুমূর্ষু রোগী যদি ICU না পেয়ে মারা যান, তাহলে তাঁর পরিবারের কাছে প্রতিশ্রুতির চেয়ে জরুরি আর কী হতে পারে?
Did Netaji Subhas Chandra Bose really disappear after the 1945 plane crash? Or did he return to India under a new identity, living in secrecy and remaining hidden from the world?
To explore this mystery, I travelled across Uttar Pradesh, visiting different places associated with claims, memories and historical accounts surrounding Netaji’s alleged life in India after 1945.
From Ayodhya and Lucknow to Naimisharanya, Basti, and several other locations, I followed the trail of one of the most mysterious chapters in Indian history.
How did Netaji allegedly enter India after 1945? Why would he choose to remain hidden? Where does the mystery actually begin? And what do the historical records, documents, local memories and different accounts tell us?
In this video, I personally travelled to these places to explore the stories connected with Gumnami Baba and the various claims about Netaji’s life after the reported 1945 plane crash.
This is not just a journey through places—it is a journey through history, mystery, memories and unanswered questions.
From ancient temples and forgotten locations to historical records and stories passed down through generations, this journey reveals a deeply emotional and lesser-known side of the Netaji mystery.
Some of the stories and locations may leave you emotional. Some may make you question what you thought you knew about Netaji. And some questions may remain unanswered even after the journey ends.
What really happened to Netaji after 1945? Did he return to India in disguise? And what is the truth behind the Gumnami identity?
Watch the full video and join me on this extraordinary journey across Uttar Pradesh as we try to uncover the mystery surrounding Netaji Subhas Chandra Bose after 1945.
History has many chapters. But some stories remain hidden between the lines.
এত অপমান, এত লাঞ্ছনা, আমার বিরুদ্ধে আইনি মামলা, আমার চ্যানেল ডিলিট করে দেওয়া, আমার বিরুদ্ধে কুৎসা ,...... এত কিছু সত্বেও আপনাদের ভালোবাসা সব বাঁধ ভেঙে দিয়েছে। সেই ভালোবাসার জোয়ার আজ আমার চ্যানেলকে ৭ লক্ষে পৌঁছে দিয়েছে। আমি ধন্যবাদ দিয়ে কাউকে ছোট করবো না কিন্তু এই ভালোবাসা অনেক অনেক বড় অনুপ্রেরণা। আগামী দিনে একই রকম সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করব এমনটাই প্রতিজ্ঞা করি। আপনারা যেভাবে আমার পাশে ছিলেন আগামী দিনে সেভাবেই আমার পাশে থাকবেন আর সেটাই আমার সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ এবং সবচেয়ে বড় শক্তি।
একটি সত্য ঘটনা ঘটেছিল। তারপর সেই ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হলো নানা ব্যাখ্যা, নানা গল্প, নানা ন্যারেটিভ।
কেউ হয়তো তৈরি করল নিজের স্বার্থে, কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে, কেউ তথ্যের অভাবে, আবার কেউ হয়তো সচেতনভাবেই একটি নির্দিষ্ট ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ন্যারেটিভ বারবার বলা হলো, লেখা হলো, প্রচার হলো।
একসময় আশ্চর্যজনকভাবে ঘটনাটি নয়, ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া গল্পটাই মানুষের কাছে সত্য হয়ে উঠল।
এটাই মাইন্ডসেট ন্যারেটিভের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক।
কারণ কোনও একটি ধারণা দীর্ঘদিন ধরে শুনতে শুনতে মানুষের মনে এমনভাবে গেঁথে যেতে পারে যে, পরে তার সামনে বাস্তব তথ্য হাজির হলেও সে তথ্যকে গ্রহণ করতে তার মন অস্বস্তি বোধ করে।
তখন মানুষ বাস্তবতাকে বিচার করে নিজের তৈরি ন্যারেটিভের মানদণ্ডে।
যে তথ্য তার বিশ্বাসের সঙ্গে মেলে—সেটি তার কাছে সত্য। যে তথ্য তার বিশ্বাসকে প্রশ্ন করে—সেটি মিথ্যা, ষড়যন্ত্র বা বিকৃত তথ্য।
এখানেই সবচেয়ে বড় বিপদ।
কারণ ন্যারেটিভ পরিবর্তনশীল, কিন্তু বাস্তবতা সবসময় আমাদের বিশ্বাসের সঙ্গে পরিবর্তিত হয় না।
একটি মিথ্যা কথা একশোবার বললে সেটি সত্য হয়ে যায় না। আবার একটি নেতিবাচক ন্যারেটিভ কয়েক দশক ধরে প্রচলিত থাকলেও তার দীর্ঘস্থায়িত্ব তাকে চিরসত্যের মর্যাদা দেয় না।
কিন্তু মানুষের মন সংখ্যাকে প্রমাণ ভেবে নিতে পারে, পুনরাবৃত্তিকে সত্যের সমার্থক মনে করতে পারে।
আর তখনই তৈরি হয় এক অদ্ভুত পরিস্থিতি—
বাস্তব সামনে দাঁড়িয়ে থাকে, অথচ মানুষ বাস্তবকে দেখতে অস্বীকার করে; কারণ তার মাইন্ডসেট ইতিমধ্যেই একটি বিকল্প বাস্তবতা তৈরি করে ফেলেছে।
সবচেয়ে কঠিন কাজ তাই নতুন কোনও তথ্য জানা নয়। সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো—যে বিশ্বাসকে আমরা এতদিন সত্য বলে মেনে এসেছি, সেটিকে একবার প্রশ্ন করার সাহস দেখানো।
আমাদের মনে রাখতে হবে, সত্যকে সত্য প্রমাণ করার জন্য একটি ন্যারেটিভের প্রয়োজন হয় না। সত্য তার নিজের অস্তিত্বেই সত্য।
ন্যারেটিভ তৈরি হয় মানুষের দ্বারা। ন্যারেটিভ বদলায় মানুষের সঙ্গে। কিন্তু যে বাস্তবতা সত্যিই ঘটেছে, সেটি আমাদের পছন্দ, অপছন্দ কিংবা বিশ্বাসের কারণে বদলে যায় না।
তাই কোনও ঐতিহাসিক বা বাস্তব ঘটনাকে বোঝার সময় প্রশ্নটা হওয়া উচিত নয়—
“কোন ন্যারেটিভটি আমি বিশ্বাস করি?”
প্রশ্নটা হওয়া উচিত—
“সব ন্যারেটিভ সরিয়ে রাখলে, শেষ পর্যন্ত যে বাস্তবতাটি থেকে যায়—সেটি কী?”
কারণ কখনও কখনও সত্যের সবচেয়ে বড় শত্রু মিথ্যা নয়।
সত্যের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে ওঠে এমন একটি ন্যারেটিভ, যেটিকে মানুষ এত দীর্ঘদিন ধরে সত্য বলে বিশ্বাস করেছে যে, সত্য সামনে এসেও তাকে আর সত্য বলে মনে হয় না।
এমনই কিছু ন্যারেটিভের ভিড়ে হারিয়ে গিয়েছেন এক মহামানব।
কী চমক লাগছে? উত্তরপ্রদেশের প্রান্তিক এলাকা বস্তি । মা জগদম্বের( সরস্বতী দেবী শুক্লা ) ঘর থেকে উদ্ধার করেছি এই চশমা ।কার এই চশমা? ওখানে ওই গ্রামের বাড়িতে কী করছে? কী প্রমাণ করতে চাইছেন মাতাজির পরিবারের লোকজন? সময় দিন সব সামনে আনবো বিস্তারিত ভাবে । গুমনামীর পর্দা উঠিয়েই ছাড়ব এবার । যতই বিরোধিতা আসুক এটাই আমার জেদ ।
সময় বহমান। কত কিছু ধীরে ধীরে বদলে যায়। চোখের পলকে নিজের চারপাশটা কবে অন্য ধারায় বইতে থাকে তাও টের পাওয়া যায় না। সময়ের পরিবর্তনের প্রভাব মানুষের বর্তমান জীবন ধারায় অবশ্যই পড়ে। সব কিছু কোনও দিনই একই ভাবে চলতে পারে না। কিন্তু অতীত-বর্তমান ও ভবিষ্যতের মধ্যেকার ফারাকটা খুব সহজেই চোখে পড়ে। তখন মনে হয় আমরা সত্যিই অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছি। আজ হয়ত স্বাধীনতা আন্দোলনের লড়াই লড়তে হয় না। দৈনন্দিন জীবনের অনেক লড়াই আছে যার মুখোমুখি হতে হয় ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করতে। কিন্তু ওঁরা কাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে চেয়েছিল? নিজেদের জন্য কিছু করে যে রেখে যান নি তা তো স্পষ্ট। আসলে ওই ছোট বয়সে একটা হুজুক কাজ করে যায়। আর সময়টাও কী যেমন তেমন! সেটা ছিল অগ্নিযুগ। যুবসমাজ তখন টগবগ করে ফুটছে। তাঁদের মধ্যেই একটি নাম ছিল ক্ষুদিরাম বসু। আজ অনেকেই তাঁর আত্মদানের কথা জানি। কিন্তু ঠিকঠাক অনুভূত হয় না। নতুন প্রজন্মকেও জানানো হয় না সে সকল আসল বাহুবলীর কথা। এদের জন্য না কেউ এসে মাথায় ঢেলে দিয়ে যায় দুধ, না কেউ ফুলের মালাটুকুও দেয়। কোথাও কোথাও হয়ত নমঃ নমঃ করে স্মরণ। হ্যাঁ আজ সেই ১১ই অগাস্ট। ১৯০৮ সালের এই দিনেই ভোর পাঁচটায় ব্রিটিশ সরকার ১৮ বছরের এক তরতাজা যুবককে ফাঁসির মঞ্চে দাঁড় করাল। কারাগারের উঁচু দেয়ালের বাইরে তখন হাজার হাজার মানুষের কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে ‘বন্দেমাতরম’ স্লোগান। ফাঁসিতে ঝোলানোর আগে কারা কর্তৃপক্ষ ভারত মায়ের ওই দামাল সন্তানের কাছে জানতে চাইল, মৃত্যুর আগে তাঁর শেষ ইচ্ছা কী? যুবকটি এক সেকেন্ড অপেক্ষা না করেই নিঃশঙ্কচিত্তে বলে উঠলেন, ‘আমি ভালো বোমা বানাতে পারি, মৃত্যুর আগে সারা ভারতবাসীকে সেটা শিখিয়ে দিয়ে যেতে চাই।’ ব্রিটিশ শাসন সেদিন স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল সামান্য একরত্তি ওই ছেলের সাহস দেখে। মৃত্যুকে কী অবলীলায় অবহেলা করার সাহস। কোনও ভয় বলে চোখেমুখে কিছু নেই। সত্যিই হাসি হাসিই ফাঁসি কাষ্ঠে চড়েছিলেন। তার পর তো সবই ইতিহাস। আমার কখনো কখনো ভাবলে গর্ব হয় আমি এমন দেশে জন্মেছি যেখানে এমন মহান ব্যক্তিরা জন্মেছেন। পবিত্র এই ভারতভূমি তাদের পদধূলায়। হে বীর, আমারা আজ কথায় আছি কাজে নেই। আমরা আজ অনেক বদলে গেছি। তোমাদের সেই অকুতোভয়, সর্বত্যাগী সেই মনের হদিশ আমায় দিও, আমি যেন কখনো ভুলে না যাই আমার এই স্বাধীনতার রন্ধ্রে রন্ধ্রে রয়েছে তোমাদের আত্মত্যাগ। বেয়নেটের গুলির ক্ষত কেমন ও কতটা যন্ত্রনাদায়ক আমরা জানিনা, ফাঁসির দড়িটায় টান পড়লে কতটা কষ্ট পায় এই রক্ত মাংসের শরীর আমি সত্যিই জানি না। কিন্তু হে বীর আমাকে নিয়ে চলো সেখানে, সেই স্বর্গে যেখানে সত্যিকারের তোমাদের মত মনের মানুষ তৈরি হয়। সত্যের জন্য যেখানে সব ত্যাগ দেওয়া যায়। কোনও ব্যথা -যন্ত্রনা, দুঃখ, খুশি- আনন্দ মিলে মিশে একাকার হয়ে যায়। এই অভাগার দেশে তোমাদের আবারও খুব দরকার যে। তোমারা কোথায় হারিয়ে গেলে? জানিয়েও গেলে না। আমার সোশ্যাল মিডিয়ার সকল বন্ধুদের কাছে অনুরোধ, হাজার কাজের ভীড়েও এই মানুষগুলোকে ভুলনা। আজ এনারা না থাকলে এই দেশটা অন্য রকম হতো। কত বলিদানের ফসল এই স্বাধীনতা। কত মায়ের হারানো কোলের বিনিময়ে আজ আমরা হাসি মুখে এসি ঘরে বসে নতুন ভারতের স্বপ্ন দেখি। কত প্রাণ চলে গেছে এই দেশকে ভালোবেসে। আমি আবেগ চেপে রাখতে পারি না, এই পোস্ট লিখতে গিয়ে কতবার যে চোখ জলে ভরে গেল।
মুক্তির মন্দির সোপানতলে কত প্রাণ হলো বলিদান, লেখা আছে অশ্রুজলে।। কত বিপ্লবী বন্ধুর রক্তে রাঙা, বন্দীশালার ওই শিকল ভাঙ্গা তাঁরা কি ফিরিবে আজ সুপ্রভাতে যত তরুণ অরুণ গেছে অস্তাচলে।। যাঁরা স্বর্গগত তাঁরা এখনও জানেন স্বর্গের চেয়ে প্রিয় জন্মভূমি এসো স্বদেশ ব্রতের মহা দীক্ষা লভি সেই মৃত্যুঞ্জয়ীদের চরণ চুমি। যাঁরা জীর্ণ জাতির বুকে জাগালো আশা, মৌল মলিন মুখে জোগালো ভাষা আজি রক্ত কমলে গাঁথা মাল্যখানি বিজয় লক্ষ্মী দেবে তাঁদেরই গলে।।
শত কোটি প্রনাম হে বীর। আমরা আজও তোমায় ভুলিনি। ভুলিনি তোমার অবদান।
যেকোনো অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসে প্রাণের ঝুঁকি সবসময় থাকে। তবুও কিছু মানুষ থাকেন, যাঁরা সেই ঝুঁকির সঙ্গেই বন্ধুত্ব করে বেঁচে থাকেন। কারণ তাঁদের কাছে পাহাড় কোনো পাথরের স্তূপ নয়, পাহাড়ই তাঁদের স্বপ্ন, তাঁদের ভালোবাসা, তাঁদের জীবন।
নির্মল পুর্জা ছিলেন তেমনই একজন।
যে মানুষটি পৃথিবীর একের পর এক শিখর জয় করে লক্ষ লক্ষ মানুষকে বিশ্বাস করতে শিখিয়েছিলেন—অসম্ভব বলে সত্যিই কিছু নেই, আজ সেই মানুষটিই তুষারধসের বুকে হারিয়ে গেলেন। কী নির্মম পরিহাস! যে পাহাড় তাঁকে বিশ্বজোড়া পরিচিতি দিয়েছিল, সেই পাহাড়ই শেষ পর্যন্ত তাঁকে নিজের কাছেই রেখে দিল।
কিন্তু হয়তো একজন প্রকৃত পর্বতারোহীর জীবনের শেষ অধ্যায় এমনই হয়। পাহাড়কে যে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসে, পাহাড়ও তাকে একদিন নিজেরই অংশ করে নেয়।
আজ পৃথিবী একজন কিংবদন্তিকে হারাল। কিন্তু হিমালয়ের প্রতিটি হিমবাহ, কারাকোরামের প্রতিটি বরফঢাকা ঢাল, প্রতিটি বাতাসের ঝাপটা যেন তাঁর গল্পই বলে যাবে। ভবিষ্যতে যখনই কোনো তরুণ পর্বতারোহী আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করবে, নির্মল পুর্জার নাম তাকে সাহস জোগাবে।
বিদায়, নির্মল পুর্জা। আপনি ফিরে আসেননি—কারণ পাহাড় আপনাকে আর ফেরত পাঠাতে চায়নি। আপনি এখন সেই অনন্ত শুভ্রতারই অংশ, যার পেছনে সারা জীবন ছুটেছিলেন।
কিংবদন্তির মৃত্যু হয় না। তারা শুধু শিখরের সঙ্গে একাকার হয়ে যায়।
কিছু বললেই মা- বাবা তুলে গালাগালি । সমাজটাকে এতটাই নোংরা করে তুলেছে কিছু লোকজন । ২০২৬ - এ দাঁড়িয়ে এটা কোন সমাজ? এই কারণেই ফেসবুকে রাজনীতি নিয়ে কথা বলবো না বলেই ঠিক করেছি । আমাকে খারাপ লাগলে আমাকে গালাগাল দিন । আমার বাবা- মাকে কেন খারাপ বলছেন? বাড়িতে নিজের বাবা- মা কেও এরা মনে হয় এই ভাষাই বলে ।
I AM BOSE
মঞ্চটা ছিল দাদাগিরির।
তবে যতটা না ছিল আমার, তার চেয়েও অনেক বেশি ছিল নেতাজির।
পার্টিসিপেন্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ, অন্তরা মিত্র, নিকিতা গান্ধী, সৃজা দত্ত, পারিজাত চৌধুরী এবং আমি।
এই পোস্টটি লেখার অন্যতম কারণ—আজ নিজেকে সত্যিই সফল মনে হচ্ছে। কারণ বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো-এর মঞ্চে আমি তুলে ধরতে পেরেছি একজন মানুষের দাদাগিরি।
সেই মানুষটি—নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।
নেতাজির এমন কিছু ইতিহাস, এমন কিছু অজানা অধ্যায় টেলিভিশনের পর্দায় তুলে ধরতে পারা যেমন আমার কাছে গর্বের, তেমনই ছিল আবেগেরও।
আর সেই মুহূর্তের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন একজন সাংসদ, অভিনেতা এবং এই অনুষ্ঠানের সঞ্চালক দেব। আমার বলা প্রতিটি কথা শোনার পর তাঁর বিস্ময় আমাকে স্পর্শ করেছে।
সত্যি বলতে, মাঝে মাঝে আমিও অবাক হয়ে ভাবি—আমাদের দেশের একজন সাংসদ যখন নেতাজি সম্পর্কে এত কম জানেন, তখন সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর ইতিহাস কতটা পৌঁছেছে?
তবে এটাকে আমি কারও দোষ হিসেবে দেখি না। কারণ সমস্যাটা আরও বড়—আমাদের গোটা সমাজই নেতাজির প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে এখনও অনেকটাই অজ্ঞ।
আর একজন নেতাজি-প্রেমী হিসেবে আমার কাজ একটাই—যতদিন পারি, যত মানুষের কাছে পারি, নেতাজির কথা বলা। তাঁর অজানা ইতিহাস তুলে ধরা। সেই কাজটাই আমি করে এসেছি, ভবিষ্যতেও করে যেতে চাই।
দেবের কাছে আমার একটি ছোট্ট অনুরোধ ছিল—এই গোটা বিষয়টি যেন তিনি পার্লামেন্টে তুলে ধরার ব্যাপারে একবার ভাবেন।
সব কথা শোনার পর দেব আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি বিষয়টি পার্লামেন্টে উত্থাপনের ব্যাপারে অবশ্যই চিন্তাভাবনা করবেন।
আমি এটাকে সাফল্য বলছি না।
কিন্তু এটাকে আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ অবশ্যই মনে করি।
যে মানুষটি আজও কোটি কোটি ভারতবাসীর হৃদয়ে বেঁচে আছেন, তাঁর ইতিহাস যেন সময়ের সঙ্গে মুছে না যায়। নেতাজির প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা চিরন্তন। কিন্তু তার পাশাপাশি সেই মানুষটির প্রকৃত ইতিহাস, তাঁর সংগ্রাম এবং তাঁর জীবনের সত্যগুলিও মানুষের সামনে আসা উচিত।
এই কারণেই দাদাগিরির গোটা টিমকে, বিশেষ করে দেবকে, আমার আন্তরিক ধন্যবাদ। এত মন দিয়ে এই বিষয়গুলো শোনার জন্য, জানার আগ্রহ দেখানোর জন্য এবং এই বিষয়টি নিয়ে ভাবার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার জন্য।
বাকিটা সময় বলবে।
দেবকে শুধু একটি কথাই বলেছিলাম—
“এই কাজটা যদি তুমি করতে পারো, মানুষ তোমাকে দু’হাত তুলে আশীর্বাদ করবে।”
জানি বিষয়টা এত সহজ নয়।
বাকিটা থাকছে টেলিভিশনের পর্দায়।
আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর, রাত সাড়ে ৯টায়।
দেখুন দাদাগিরি।
এবার মঞ্চে শুধু দাদাগিরি নয়—
সুভাষচন্দ্রের দাদাগিরি। 🇮🇳
দেবের হাতে তুলে দিলাম অনুষ্ঠান শেষে “সুভাষ ফিরেছিলেন। ”
14 hours ago | [YT] | 1,237
View 81 replies
I AM BOSE
দুজনে একসঙ্গে এই ছবিটা তোলার ঠিক আগেই নওশাদ হঠাৎ আমাকে প্রশ্ন করল—
“আমার গলায় জড়ানো উত্তরীয়ের এই রংটা কি ছবি পোস্ট করার জন্য যথেষ্ট?”
আমি সেই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করার আগেই ও নিজেই বলল—
“এটা তো গেরুয়া। বীরত্ব, শক্তি আর ত্যাগের প্রতীক। ভারতের জাতীয় পতাকার প্রথম রং এই গেরুয়া বা স্যাফ্রন। এই রঙের উত্তরীয় পরলে সমস্যা কোথায়?”
ওর কথাটা শেষ হতে না হতেই উল্টো দিকে দাঁড়িয়ে থাকা ক্যামেরাম্যান ছবিটা তুলে দিলেন।
কিন্তু ছবিটা তোলার পর থেকেই আমার মনে একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—
একটা রং কীভাবে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে?
একটা পবিত্র গেরুয়া রং—সেটা কি কোনও অদ্ভুত রাজনীতির প্রতীক হয়ে যেতে পারে?
একটা জাতীয় ফুল—সে কি কোনও রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি হতে পারে?
রক্তের লাল রং—তার অধিকার কি কোনও রাজনৈতিক দলের হতে পারে?
সবুজে ভরে থাকা এই পৃথিবী—সেটাও কি কোনও দলের প্রতীক হয়ে যেতে পারে?
কখনওই নয়।
রং মানুষের।
রং প্রকৃতির।
রং আমাদের সংস্কৃতির।
রং আমাদের ইতিহাসের।
রং আমাদের আবেগের।
কোনও রাজনৈতিক দলের একার নয়।
আসলে কোনও রংই কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতীক হওয়া উচিত নয়।
একটি রাজনৈতিক দলের সবচেয়ে বড় পরিচয় হওয়া উচিত তার কাজ, তার আদর্শ এবং মানুষের জন্য তার ভূমিকা।
কিন্তু আমাদের সমাজ আজ এমন এক অদ্ভুত জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে একজন নেতার গায়ে কোন রং দেখা যাচ্ছে—সেটাও বিচার করার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
কোন রং পরলে কী বলা হবে,
কোন রং ব্যবহার করলে কে কী ভাববে,
কোন রং দেখলে কোন রাজনৈতিক পরিচয় চাপিয়ে দেওয়া হবে—
এসব ভাবতে ভাবতেই আমরা কোথাও যেন মানুষটাকেই ভুলে যাচ্ছি।
এটা শুধু কোনও একজনের দোষ নয়।
এটা আমাদের সমাজের তৈরি করা এক মানসিকতার প্রতিফলন।
আমরা রঙের মধ্যে রাজনীতি খুঁজতে খুঁজতে মানুষের মধ্যে মানুষটাকে খুঁজতে ভুলে যাচ্ছি।
আজকের রাজনীতি অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষমতা, প্রভাব আর অর্থের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। রাজনীতি যে অনেকের কাছে লাভের একটি পথ হয়ে উঠেছে—সেটাও অস্বীকার করার উপায় নেই।
কিন্তু তার মধ্যেও যদি কোনও একজন মানুষ হঠাৎ খুব সহজভাবে বলে ওঠে—
“ধুর, ছাড় তো! এটা তো ত্যাগের গেরুয়া।”
তখন সেই কথাটার মধ্যে আমি রাজনীতির চেয়ে বড় কিছু দেখতে পাই।
দেখি একজন মানুষকে।
দেখি তার নিজের মতো করে ভাবার সাহসকে।
দেখি প্রচলিত বিভাজনের বাইরে দাঁড়ানোর একটা চেষ্টা।
আমরা এমন একটা সমাজ চাই—
যেখানে গেরুয়া দেখলে কাউকে কোনও রাজনৈতিক পরিচয়ে আটকে দেওয়া হবে না,
সবুজ দেখলে কাউকে কোনও শিবিরে ঠেলে দেওয়া হবে না,
লাল দেখলে কারও রাজনৈতিক পরিচয় খোঁজা হবে না।
আমরা চাই এমন এক সমাজ, যেখানে সমস্ত গ্লানি, সমস্ত বিভাজন, সমস্ত সংকীর্ণতাকে পিছনে ফেলে মানুষই হবে মানুষের প্রথম পরিচয়।
সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই"
রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন—
“চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির,
জ্ঞান যেথা মুক্ত, যেথা গৃহের প্রাচীর
আপন প্রাঙ্গণতলে দিবসশর্বরী
বসুধারে রাখে নাই খণ্ড ক্ষুদ্র করি;
যেথা বাক্য হৃদয়ের উৎসমুখ হতে
উচ্ছ্বসিয়া উঠে, যেথা নির্বারিত স্রোতে
দেশে দেশে দিশে দিশে কর্মধারা ধায়
অজস্র সহস্রবিধ চরিতার্থতায়;
যেথা তুচ্ছ আচারের মরুবালুরাশি
বিচারের স্রোতঃপথ ফেলে নাই গ্রাসি,
পৌরুষেরে করেনি শতধা; নিত্য যেথা
তুমি সর্ব কর্ম চিন্তা আনন্দের নেতা—
নিজ হস্তে নির্দয় আঘাত করি পিতঃ,
ভারতেরে সেই স্বর্গে করো জাগরিত।”
এই স্বপ্নের ভারতেই তো আমরা বাঁচতে চাই।
যেখানে রং বিভাজন তৈরি করবে না।
যেখানে মতের অমিল শত্রুতা তৈরি করবে না।
যেখানে রাজনৈতিক পরিচয়ের আগে মানুষ পরিচয়টাই বড় হবে।
ধন্যবাদ, নওশাদ সিদ্দিকী।
এই ছোট্ট কথাটার মধ্য দিয়ে হয়তো আমাদের অনেক বড় একটা প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন—
আমরা কি রংকে দেখব, নাকি রঙের আড়ালে থাকা মানুষটাকে?
14 hours ago | [YT] | 261
View 34 replies
I AM BOSE
আজ নিউটাউনে অনুষ্ঠিত একটি কনক্লেভে গিয়েছিলাম। সেখানে রাজ্যের অন্যান্য নেতা-মন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
না, উনি আমাকে চেনেন না। আমার সঙ্গে তাঁর কোনও পূর্বপরিচয়ও নেই।
অনুষ্ঠান শেষে দেখলাম, অনেকেই বাইরে তাঁর সঙ্গে সেলফি তুলছেন, কথা বলছেন, শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। সেলফি তোলা কোনও অন্যায় নয়—বরং যাঁরা পছন্দ করেন, তাঁরা নিশ্চয়ই তুলবেন। কিন্তু সত্যি বলতে, স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সামনে পেয়েও আমার সেলফি তোলার কোনও ইচ্ছে হলো না।
বরং হঠাৎ কী মনে হলো, পেছন থেকে তাঁকে ডাকলাম।
উনি তখন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন। আমার গলার আওয়াজ শুনে পিছন ফিরে তাকালেন। আমি নিজের পরিচয় দিলাম। তারপর যেন গড়গড় করে এক নিঃশ্বাসে বেশ কয়েকটা কথা বলে ফেললাম।
কেন বললাম জানি না। হয়তো উৎকণ্ঠা থেকে। হয়তো উদ্বেগ থেকে। হয়তো সম্প্রতি খুব কাছের একজন মানুষকে হারানোর অভিজ্ঞতা থেকেই।
আমি বললাম—
“স্যার, পশ্চিমবঙ্গের সরকারি হাসপাতালগুলিতে সাধারণ বেডের ব্যবস্থা থাকলেও মুমূর্ষু রোগীর জন্য ICU-এর যে পরিমাণ প্রয়োজন, তার তুলনায় ব্যবস্থা অত্যন্ত অপ্রতুল। প্রতিদিন বহু সাধারণ, গরিব মানুষ ICU না পেয়ে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরছেন। অনেকেই শেষ পর্যন্ত চিকিৎসার সুযোগটুকুও পাচ্ছেন না।
সম্প্রতি ICU-এর ব্যবস্থা করতে না পারার কারণে আমি নিজেও খুব কাছের একজন মানুষকে হারিয়েছি।
প্রতিদিন বহু মানুষ আমাকে অনুরোধ করেন—একটা ICU-এর ব্যবস্থা করে দিন। কিন্তু বর্তমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মধ্যে দাঁড়িয়ে বহু মানুষের সঙ্গে কথা বলেও আমি তাঁদের জন্য সেই ব্যবস্থা করতে পারি না।
অতীতে সরকার বদলেছে, আগের সরকার অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এত বছর পরেও যদি একজন মুমূর্ষু রোগীর জন্য ICU-এর খোঁজে মানুষকে ছুটে বেড়াতে হয়, তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়—আমরা কোথায় যাচ্ছি?
আপনারাও যদি শুধু প্রতিশ্রুতি দেন, তাহলে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?
আমার বাবা-মাও এখন বয়স্ক। তাঁদের কোনও মেডিক্লেম নেই। তাই ভবিষ্যতে কঠিন কোনও পরিস্থিতি তৈরি হলে এই রাজ্যে আমি এবং আমার পরিবার আদৌ সময়মতো সঠিক চিকিৎসা পাব কি না—এই চিন্তাটাও আমাকে ভাবায়।”
আমার কথা শেষ হওয়ার পর উনি বললেন,
“আপনি একদম ঠিক বলেছেন। আমরা সমস্যাটা জানি। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে ICU থাকলেও সঠিক পরিকাঠামো এবং পর্যাপ্ত ম্যানপাওয়ারের অভাব রয়েছে। আমরা বিষয়টা দেখব।”
ব্যস, কথোপকথন শেষ।
আমি সরে আসার পর কয়েকজনকে দেখলাম অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। কেউ কেউ পরে এসে বললেন,
“এই কথাগুলো তো সহজে কেউ বলে না!”
সত্যিই তো।
কিন্তু আমার মনে একটা প্রশ্নই এসেছিল—রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে আমি আর কী প্রশ্ন করব?
আমি কি জিজ্ঞাসা করব,
“স্যার, আপনি কি বিগ বস দেখেন?”
স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সামনে পেলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করাটাই তো স্বাভাবিক। বিশেষ করে যখন সেই প্রশ্নের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একজন সাধারণ মানুষের জীবন-মৃত্যুর অভিজ্ঞতা।
আমি কোনও রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে যাইনি। কাউকে অপমান করতেও নয়।
আমি শুধু আমার মতো একজন সাধারণ মানুষের উদ্বেগটা জানিয়েছি।
কারণ একজন মন্ত্রীকে সামনে পেলে সেলফি তোলা অবশ্যই আনন্দের হতে পারে, কিন্তু এ সবকজন নাগরিক হিসেবে প্রশ্ন করার সুযোগ পাওয়াটাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
আর আমার প্রশ্নটা খুব সহজ—
একজন মুমূর্ষু রোগী যদি ICU না পেয়ে মারা যান, তাহলে তাঁর পরিবারের কাছে প্রতিশ্রুতির চেয়ে জরুরি আর কী হতে পারে?
প্রতিশ্রুতির ভবিষ্যৎ তো সময় বলবে।
3 days ago | [YT] | 1,193
View 84 replies
I AM BOSE
Did Netaji Subhas Chandra Bose really disappear after the 1945 plane crash? Or did he return to India under a new identity, living in secrecy and remaining hidden from the world?
To explore this mystery, I travelled across Uttar Pradesh, visiting different places associated with claims, memories and historical accounts surrounding Netaji’s alleged life in India after 1945.
From Ayodhya and Lucknow to Naimisharanya, Basti, and several other locations, I followed the trail of one of the most mysterious chapters in Indian history.
How did Netaji allegedly enter India after 1945?
Why would he choose to remain hidden?
Where does the mystery actually begin?
And what do the historical records, documents, local memories and different accounts tell us?
In this video, I personally travelled to these places to explore the stories connected with Gumnami Baba and the various claims about Netaji’s life after the reported 1945 plane crash.
This is not just a journey through places—it is a journey through history, mystery, memories and unanswered questions.
From ancient temples and forgotten locations to historical records and stories passed down through generations, this journey reveals a deeply emotional and lesser-known side of the Netaji mystery.
Some of the stories and locations may leave you emotional. Some may make you question what you thought you knew about Netaji. And some questions may remain unanswered even after the journey ends.
What really happened to Netaji after 1945?
Did he return to India in disguise?
And what is the truth behind the Gumnami identity?
Watch the full video and join me on this extraordinary journey across Uttar Pradesh as we try to uncover the mystery surrounding Netaji Subhas Chandra Bose after 1945.
History has many chapters. But some stories remain hidden between the lines.
Watch the episode on I AM BOSE
5 days ago | [YT] | 836
View 9 replies
I AM BOSE
এত অপমান, এত লাঞ্ছনা, আমার বিরুদ্ধে আইনি মামলা, আমার চ্যানেল ডিলিট করে দেওয়া, আমার বিরুদ্ধে কুৎসা ,...... এত কিছু সত্বেও আপনাদের ভালোবাসা সব বাঁধ ভেঙে দিয়েছে। সেই ভালোবাসার জোয়ার আজ আমার চ্যানেলকে ৭ লক্ষে পৌঁছে দিয়েছে। আমি ধন্যবাদ দিয়ে কাউকে ছোট করবো না কিন্তু এই ভালোবাসা অনেক অনেক বড় অনুপ্রেরণা। আগামী দিনে একই রকম সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করব এমনটাই প্রতিজ্ঞা করি।
আপনারা যেভাবে আমার পাশে ছিলেন আগামী দিনে সেভাবেই আমার পাশে থাকবেন আর সেটাই আমার সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ এবং সবচেয়ে বড় শক্তি।
Congratulations to you too.
3 weeks ago | [YT] | 4,170
View 178 replies
I AM BOSE
একটি সত্য ঘটনা ঘটেছিল।
তারপর সেই ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হলো নানা ব্যাখ্যা, নানা গল্প, নানা ন্যারেটিভ।
কেউ হয়তো তৈরি করল নিজের স্বার্থে, কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে, কেউ তথ্যের অভাবে, আবার কেউ হয়তো সচেতনভাবেই একটি নির্দিষ্ট ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ন্যারেটিভ বারবার বলা হলো, লেখা হলো, প্রচার হলো।
একসময় আশ্চর্যজনকভাবে ঘটনাটি নয়, ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া গল্পটাই মানুষের কাছে সত্য হয়ে উঠল।
এটাই মাইন্ডসেট ন্যারেটিভের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক।
কারণ কোনও একটি ধারণা দীর্ঘদিন ধরে শুনতে শুনতে মানুষের মনে এমনভাবে গেঁথে যেতে পারে যে, পরে তার সামনে বাস্তব তথ্য হাজির হলেও সে তথ্যকে গ্রহণ করতে তার মন অস্বস্তি বোধ করে।
তখন মানুষ বাস্তবতাকে বিচার করে নিজের তৈরি ন্যারেটিভের মানদণ্ডে।
যে তথ্য তার বিশ্বাসের সঙ্গে মেলে—সেটি তার কাছে সত্য।
যে তথ্য তার বিশ্বাসকে প্রশ্ন করে—সেটি মিথ্যা, ষড়যন্ত্র বা বিকৃত তথ্য।
এখানেই সবচেয়ে বড় বিপদ।
কারণ ন্যারেটিভ পরিবর্তনশীল, কিন্তু বাস্তবতা সবসময় আমাদের বিশ্বাসের সঙ্গে পরিবর্তিত হয় না।
একটি মিথ্যা কথা একশোবার বললে সেটি সত্য হয়ে যায় না। আবার একটি নেতিবাচক ন্যারেটিভ কয়েক দশক ধরে প্রচলিত থাকলেও তার দীর্ঘস্থায়িত্ব তাকে চিরসত্যের মর্যাদা দেয় না।
কিন্তু মানুষের মন সংখ্যাকে প্রমাণ ভেবে নিতে পারে, পুনরাবৃত্তিকে সত্যের সমার্থক মনে করতে পারে।
আর তখনই তৈরি হয় এক অদ্ভুত পরিস্থিতি—
বাস্তব সামনে দাঁড়িয়ে থাকে, অথচ মানুষ বাস্তবকে দেখতে অস্বীকার করে; কারণ তার মাইন্ডসেট ইতিমধ্যেই একটি বিকল্প বাস্তবতা তৈরি করে ফেলেছে।
সবচেয়ে কঠিন কাজ তাই নতুন কোনও তথ্য জানা নয়।
সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো—যে বিশ্বাসকে আমরা এতদিন সত্য বলে মেনে এসেছি, সেটিকে একবার প্রশ্ন করার সাহস দেখানো।
আমাদের মনে রাখতে হবে, সত্যকে সত্য প্রমাণ করার জন্য একটি ন্যারেটিভের প্রয়োজন হয় না। সত্য তার নিজের অস্তিত্বেই সত্য।
ন্যারেটিভ তৈরি হয় মানুষের দ্বারা।
ন্যারেটিভ বদলায় মানুষের সঙ্গে।
কিন্তু যে বাস্তবতা সত্যিই ঘটেছে, সেটি আমাদের পছন্দ, অপছন্দ কিংবা বিশ্বাসের কারণে বদলে যায় না।
তাই কোনও ঐতিহাসিক বা বাস্তব ঘটনাকে বোঝার সময় প্রশ্নটা হওয়া উচিত নয়—
“কোন ন্যারেটিভটি আমি বিশ্বাস করি?”
প্রশ্নটা হওয়া উচিত—
“সব ন্যারেটিভ সরিয়ে রাখলে, শেষ পর্যন্ত যে বাস্তবতাটি থেকে যায়—সেটি কী?”
কারণ কখনও কখনও সত্যের সবচেয়ে বড় শত্রু মিথ্যা নয়।
সত্যের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে ওঠে এমন একটি ন্যারেটিভ, যেটিকে মানুষ এত দীর্ঘদিন ধরে সত্য বলে বিশ্বাস করেছে যে, সত্য সামনে এসেও তাকে আর সত্য বলে মনে হয় না।
এমনই কিছু ন্যারেটিভের ভিড়ে হারিয়ে গিয়েছেন এক মহামানব।
🖊️ কুনাল বোস
3 weeks ago | [YT] | 836
View 34 replies
I AM BOSE
কী চমক লাগছে? উত্তরপ্রদেশের প্রান্তিক এলাকা বস্তি । মা জগদম্বের( সরস্বতী দেবী শুক্লা ) ঘর থেকে উদ্ধার করেছি এই চশমা ।কার এই চশমা? ওখানে ওই গ্রামের বাড়িতে কী করছে? কী প্রমাণ করতে চাইছেন মাতাজির পরিবারের লোকজন? সময় দিন সব সামনে আনবো বিস্তারিত ভাবে । গুমনামীর পর্দা উঠিয়েই ছাড়ব এবার । যতই বিরোধিতা আসুক এটাই আমার জেদ ।
3 weeks ago | [YT] | 4,405
View 240 replies
I AM BOSE
সময় বহমান। কত কিছু ধীরে ধীরে বদলে যায়। চোখের পলকে নিজের চারপাশটা কবে অন্য ধারায় বইতে থাকে তাও টের পাওয়া যায় না। সময়ের পরিবর্তনের প্রভাব মানুষের বর্তমান জীবন ধারায় অবশ্যই পড়ে। সব কিছু কোনও দিনই একই ভাবে চলতে পারে না। কিন্তু অতীত-বর্তমান ও ভবিষ্যতের মধ্যেকার ফারাকটা খুব সহজেই চোখে পড়ে। তখন মনে হয় আমরা সত্যিই অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছি। আজ হয়ত স্বাধীনতা আন্দোলনের লড়াই লড়তে হয় না। দৈনন্দিন জীবনের অনেক লড়াই আছে যার মুখোমুখি হতে হয় ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করতে। কিন্তু ওঁরা কাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে চেয়েছিল? নিজেদের জন্য কিছু করে যে রেখে যান নি তা তো স্পষ্ট। আসলে ওই ছোট বয়সে একটা হুজুক কাজ করে যায়। আর সময়টাও কী যেমন তেমন! সেটা ছিল অগ্নিযুগ। যুবসমাজ তখন টগবগ করে ফুটছে। তাঁদের মধ্যেই একটি নাম ছিল ক্ষুদিরাম বসু। আজ অনেকেই তাঁর আত্মদানের কথা জানি। কিন্তু ঠিকঠাক অনুভূত হয় না। নতুন প্রজন্মকেও জানানো হয় না সে সকল আসল বাহুবলীর কথা। এদের জন্য না কেউ এসে মাথায় ঢেলে দিয়ে যায় দুধ, না কেউ ফুলের মালাটুকুও দেয়। কোথাও কোথাও হয়ত নমঃ নমঃ করে স্মরণ। হ্যাঁ আজ সেই ১১ই অগাস্ট। ১৯০৮ সালের এই দিনেই ভোর পাঁচটায় ব্রিটিশ সরকার ১৮ বছরের এক তরতাজা যুবককে ফাঁসির মঞ্চে দাঁড় করাল। কারাগারের উঁচু দেয়ালের বাইরে তখন হাজার হাজার মানুষের কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে ‘বন্দেমাতরম’ স্লোগান। ফাঁসিতে ঝোলানোর আগে কারা কর্তৃপক্ষ ভারত মায়ের ওই দামাল সন্তানের কাছে জানতে চাইল, মৃত্যুর আগে তাঁর শেষ ইচ্ছা কী? যুবকটি এক সেকেন্ড অপেক্ষা না করেই নিঃশঙ্কচিত্তে বলে উঠলেন, ‘আমি ভালো বোমা বানাতে পারি, মৃত্যুর আগে সারা ভারতবাসীকে সেটা শিখিয়ে দিয়ে যেতে চাই।’ ব্রিটিশ শাসন সেদিন স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল সামান্য একরত্তি ওই ছেলের সাহস দেখে। মৃত্যুকে কী অবলীলায় অবহেলা করার সাহস। কোনও ভয় বলে চোখেমুখে কিছু নেই। সত্যিই হাসি হাসিই ফাঁসি কাষ্ঠে চড়েছিলেন। তার পর তো সবই ইতিহাস। আমার কখনো কখনো ভাবলে গর্ব হয় আমি এমন দেশে জন্মেছি যেখানে এমন মহান ব্যক্তিরা জন্মেছেন। পবিত্র এই ভারতভূমি তাদের পদধূলায়। হে বীর, আমারা আজ কথায় আছি কাজে নেই। আমরা আজ অনেক বদলে গেছি। তোমাদের সেই অকুতোভয়, সর্বত্যাগী সেই মনের হদিশ আমায় দিও, আমি যেন কখনো ভুলে না যাই আমার এই স্বাধীনতার রন্ধ্রে রন্ধ্রে রয়েছে তোমাদের আত্মত্যাগ। বেয়নেটের গুলির ক্ষত কেমন ও কতটা যন্ত্রনাদায়ক আমরা জানিনা, ফাঁসির দড়িটায় টান পড়লে কতটা কষ্ট পায় এই রক্ত মাংসের শরীর আমি সত্যিই জানি না। কিন্তু হে বীর আমাকে নিয়ে চলো সেখানে, সেই স্বর্গে যেখানে সত্যিকারের তোমাদের মত মনের মানুষ তৈরি হয়। সত্যের জন্য যেখানে সব ত্যাগ দেওয়া যায়। কোনও ব্যথা -যন্ত্রনা, দুঃখ, খুশি- আনন্দ মিলে মিশে একাকার হয়ে যায়। এই অভাগার দেশে তোমাদের আবারও খুব দরকার যে। তোমারা কোথায় হারিয়ে গেলে? জানিয়েও গেলে না। আমার সোশ্যাল মিডিয়ার সকল বন্ধুদের কাছে অনুরোধ, হাজার কাজের ভীড়েও এই মানুষগুলোকে ভুলনা। আজ এনারা না থাকলে এই দেশটা অন্য রকম হতো। কত বলিদানের ফসল এই স্বাধীনতা। কত মায়ের হারানো কোলের বিনিময়ে আজ আমরা হাসি মুখে এসি ঘরে বসে নতুন ভারতের স্বপ্ন দেখি। কত প্রাণ চলে গেছে এই দেশকে ভালোবেসে। আমি আবেগ চেপে রাখতে পারি না, এই পোস্ট লিখতে গিয়ে কতবার যে চোখ জলে ভরে গেল।
মুক্তির মন্দির সোপানতলে
কত প্রাণ হলো বলিদান,
লেখা আছে অশ্রুজলে।।
কত বিপ্লবী বন্ধুর রক্তে রাঙা,
বন্দীশালার ওই শিকল ভাঙ্গা
তাঁরা কি ফিরিবে আজ সুপ্রভাতে
যত তরুণ অরুণ গেছে অস্তাচলে।।
যাঁরা স্বর্গগত তাঁরা এখনও জানেন
স্বর্গের চেয়ে প্রিয় জন্মভূমি
এসো স্বদেশ ব্রতের মহা দীক্ষা লভি
সেই মৃত্যুঞ্জয়ীদের চরণ চুমি।
যাঁরা জীর্ণ জাতির বুকে জাগালো আশা,
মৌল মলিন মুখে জোগালো ভাষা
আজি রক্ত কমলে গাঁথা মাল্যখানি
বিজয় লক্ষ্মী দেবে তাঁদেরই গলে।।
শত কোটি প্রনাম হে বীর। আমরা আজও তোমায় ভুলিনি। ভুলিনি তোমার অবদান।
1 month ago | [YT] | 5,697
View 265 replies
I AM BOSE
যেকোনো অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসে প্রাণের ঝুঁকি সবসময় থাকে।
তবুও কিছু মানুষ থাকেন, যাঁরা সেই ঝুঁকির সঙ্গেই বন্ধুত্ব করে বেঁচে থাকেন। কারণ তাঁদের কাছে পাহাড় কোনো পাথরের স্তূপ নয়, পাহাড়ই তাঁদের স্বপ্ন, তাঁদের ভালোবাসা, তাঁদের জীবন।
নির্মল পুর্জা ছিলেন তেমনই একজন।
যে মানুষটি পৃথিবীর একের পর এক শিখর জয় করে লক্ষ লক্ষ মানুষকে বিশ্বাস করতে শিখিয়েছিলেন—অসম্ভব বলে সত্যিই কিছু নেই, আজ সেই মানুষটিই তুষারধসের বুকে হারিয়ে গেলেন। কী নির্মম পরিহাস! যে পাহাড় তাঁকে বিশ্বজোড়া পরিচিতি দিয়েছিল, সেই পাহাড়ই শেষ পর্যন্ত তাঁকে নিজের কাছেই রেখে দিল।
কিন্তু হয়তো একজন প্রকৃত পর্বতারোহীর জীবনের শেষ অধ্যায় এমনই হয়। পাহাড়কে যে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসে, পাহাড়ও তাকে একদিন নিজেরই অংশ করে নেয়।
আজ পৃথিবী একজন কিংবদন্তিকে হারাল। কিন্তু হিমালয়ের প্রতিটি হিমবাহ, কারাকোরামের প্রতিটি বরফঢাকা ঢাল, প্রতিটি বাতাসের ঝাপটা যেন তাঁর গল্পই বলে যাবে। ভবিষ্যতে যখনই কোনো তরুণ পর্বতারোহী আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করবে, নির্মল পুর্জার নাম তাকে সাহস জোগাবে।
বিদায়, নির্মল পুর্জা।
আপনি ফিরে আসেননি—কারণ পাহাড় আপনাকে আর ফেরত পাঠাতে চায়নি।
আপনি এখন সেই অনন্ত শুভ্রতারই অংশ, যার পেছনে সারা জীবন ছুটেছিলেন।
কিংবদন্তির মৃত্যু হয় না। তারা শুধু শিখরের সঙ্গে একাকার হয়ে যায়।
🕊️🏔️
1 month ago | [YT] | 1,062
View 29 replies
I AM BOSE
কিছু বললেই মা- বাবা তুলে গালাগালি । সমাজটাকে এতটাই নোংরা করে তুলেছে কিছু লোকজন । ২০২৬ - এ দাঁড়িয়ে এটা কোন সমাজ? এই কারণেই ফেসবুকে রাজনীতি নিয়ে কথা বলবো না বলেই ঠিক করেছি । আমাকে খারাপ লাগলে আমাকে গালাগাল দিন । আমার বাবা- মাকে কেন খারাপ বলছেন? বাড়িতে নিজের বাবা- মা কেও এরা মনে হয় এই ভাষাই বলে ।
1 month ago | [YT] | 3,357
View 365 replies
Load more