কিছু মানুষ জীবনে এমনভাবে আসে, যাদের একসময় নিজের সবচেয়ে কাছের মানুষ মনে হয়। 🥹🥀🖤 যাকে দেখলে প্রতিদিন জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করত 🫂💗, যার সঙ্গে একটু সময় কাটানোর ইচ্ছা ছিল 🥺🤍, সেই মানুষটার সঙ্গে আজ পর্যন্ত সামনাসামনি দেখাও হলো না। 😅💔 তার পাশে বসে একটু সময় কাটানো 🫶🏻🌸, একবার জড়িয়ে ধরা 🫂😭—এসব ছোট ছোট ইচ্ছেগুলো শুধু ইচ্ছেই থেকে গেল। 🥀💭💔
একসময় যার সঙ্গে কত কথা হতো 🥹💌, আজ তার সঙ্গে অনলাইনে হালকা পাতলা কথা হয়। 📱🙂 অথচ মনের ভেতর জমে থাকা কত কথা আর বলা হয় না। 😔🫀💭 মানুষটা জীবনে ছিল, এখনো কোথাও আছে, কিন্তু আগের মতো করে আর কিছুই নেই। 🙂↕️💔🥀
সবচেয়ে কষ্টের ব্যাপার হলো, আমি তাকে ভীষণ মিস করি—অনেক বেশি, যা কাউকে বোঝাতে পারি না। 😭🫂💔 প্রতিটা সেকেন্ডে তার কথা মনে পড়ে, প্রতিটা মুহূর্তে তাকে কিছু বলতে ইচ্ছে করে। ⏳🥺🖤 কতবার মনে হয়, তাকে বলি—আমি তোমাকে কতটা মিস করি, তোমার সঙ্গে একটু কথা বলতে আমার কতটা ভালো লাগে! 🥹💗🫶🏻 কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছুই বলা হয় না। 🤐💔 সব অনুভূতি নিজের মধ্যেই লুকিয়ে রাখি। 🙂↕️🥀🌧️
মাঝেমধ্যে খুব ইচ্ছে করে, যদি একবার তার সামনে বসতে পারতাম 🥺🤍, যদি একবার জড়িয়ে ধরে মনের সব কথাগুলো বলতে পারতাম! 🫂😭💗 কিন্তু বাস্তবে এসব শুধু কল্পনাতেই থেকে যায়। 💭🥀😅 বাইরে থেকে হয়তো কেউ বুঝতেই পারে না, একটা মানুষকে মনে মনে কতটা খুঁজি, কতটা মিস করি। 🥹🫀💔
সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, কিছু সম্পর্কের দূরত্ব বাড়লেও মনের টানটা কমে না। 🥀🖤 মানুষটা দূরে থাকে, কথা হয় না আগের মতো, তবুও তার কথা মনে পড়া থামে না। 😔💭💌 হয়তো কোনোদিন সে জানবেও না, তাকে মিস করতে করতে কত কথা নিজের ভেতর জমিয়ে রেখেছি। 😭🫶🏻 কতবার বলতে চেয়েও বলতে পারিনি—
“তোমাকে অনেক মিস করি, অনেক বেশি। 🥹😭🫂💔 আমার প্রতিটা সেকেন্ডে তোমার কথা মনে পড়ে, অথচ তুমি হয়তো জানোই না! 🥀🖤🙂↕️ তুমি আমার কাছে কতটা আপন, কতটা প্রিয়, সেটা হয়তো কোনোদিন বুঝিয়েও বলতে পারব না। 😭💗🫀 শুধু জানি, তোমাকে ভীষণ মনে পড়ে—প্রতিদিন, প্রতিটা মুহূর্তে, প্রতিটা সেকেন্ডে! ⏳🥺💌🫂💔”
আরিশের প্রশ্নটা শুনে ইনায়া কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। — তুমি কি নিশ্চিত… তুমি তোমার পরিবারের সবাইকে চেনো? ইনায়া ছবিটা আরিশের হাত থেকে নিয়ে বলল, — আমার পরিবারকে নিয়ে প্রশ্ন করার আগে নিজের পরিবারকে চিনে নিন, মিস্টার আরিশ! আরিশ ভ্রু উঁচু করল। — বাহ! এত সুন্দর একটা মেয়ের মুখে এত সুন্দর কথা! ইনায়া থমকে গেল। — কী বললেন? — বললাম, তোমার কথা শুনে খুব ভালো লাগছে। — আপনি আমাকে সুন্দর বললেন কেন? আরিশ মুচকি হাসল। — তাহলে কি মিথ্যা বলব? ইনায়া মুখ ঘুরিয়ে নিল। কিন্তু ঠোঁটের কোণে লুকিয়ে থাকা হাসিটা আর আটকাতে পারল না। আরিশ সেটা ঠিকই লক্ষ করল। — হাসছ কেন? — হাসছি না! — আচ্ছা, তাহলে তোমার ঠোঁট দুটো এমন করছে কেন? — আপনি কি সবসময় এত বিরক্তিকর? — শুধু তোমার সামনে। ইনায়া এবার তার দিকে তাকাল। আরিশের চোখে দুষ্টুমি থাকলেও কথাটার মধ্যে অন্যরকম একটা মায়া ছিল। কেন যেন ইনায়ার বুকের ভেতরটা একটু অন্যরকম হয়ে গেল। পরদিন বিকেলে ইনায়া ছাদে দাঁড়িয়ে ছিল। বাতাসে তার লম্বা লালচে চুলগুলো বারবার মুখের ওপর এসে পড়ছিল। সে বিরক্ত হয়ে চুল সরানোর চেষ্টা করছিল, এমন সময় পেছন থেকে আরিশ বলল, — সাহায্য লাগবে, মিস ঝড়ের রানী? ইনায়া পেছনে ফিরে তাকাল। — আপনি আবার এখানে কী করছেন? — তোমাকে দেখতে এসেছি। কথাটা এত সহজভাবে বলল আরিশ যে ইনায়া কয়েক সেকেন্ড কোনো উত্তরই খুঁজে পেল না। তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, — আপনার কি আর কোনো কাজ নেই? — আছে। — তাহলে যান! — কিন্তু তোমাকে না দেখে কাজ করতে ইচ্ছা করছে না। ইনায়া এবার সত্যিই লজ্জা পেয়ে গেল। নিজের অস্বস্তি ঢাকতে সে বলল, — আপনার মাথায় সমস্যা আছে। আরিশ হেসে বলল, — হতে পারে। তবে সমস্যাটা কবে থেকে শুরু হয়েছে, সেটা জানি। — কবে থেকে? — তোমাকে দেখার পর থেকে। ইনায়া এবার আর কোনো কথা বলল না। কারণ, প্রথমবারের মতো তার মনে হচ্ছিল—এই মানুষটার সঙ্গে কথা বললে তার রাগ হয় ঠিকই, কিন্তু সেই রাগের আড়ালেই কোথাও একটা অদ্ভুত ভালো লাগা লুকিয়ে আছে। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ বাতাস জোরে বইতে শুরু করল। ইনায়ার চুল এসে তার চোখের সামনে পড়ে গেল। সে চুল সরাতে গিয়ে হাতের আংটিটা খুলে ফেলল। আংটিটা মেঝেতে পড়ে গড়িয়ে ছাদের এক কোণে চলে গেল। — আরে! আমার আংটি! ইনায়া দ্রুত এগিয়ে গেল। কিন্তু আংটিটা ধরতে গিয়ে তার পা পিছলে গেল। — ইনায়া! আরিশ দ্রুত তার হাত ধরে ফেলল। এক মুহূর্তের জন্য ইনায়া আরিশের খুব কাছে এসে দাঁড়াল। চারপাশের সব শব্দ যেন থেমে গেল। ইনায়া অবাক চোখে তার দিকে তাকিয়ে রইল। আরিশও কিছুক্ষণ তার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকল। তারপর আরিশ নরম গলায় বলল, — সাবধানে থাকতে পারো না? ইনায়া ধীরে বলল, — আমি তো আংটিটা ধরতে যাচ্ছিলাম। — আংটির জন্য নিজের খেয়াল রাখবে না? — আংটিটা আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আরিশের মুখের হাসিটা একটু ম্লান হয়ে গেল। সে ধীরে ধীরে ইনায়াকে সোজা হয়ে দাঁড়াতে সাহায্য করল। — বুঝেছি। তবে তোমার কাছে আংটিটা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তুমি নিজেও তার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নও। কথাটা শুনে ইনায়া চুপ করে গেল। আরিশ মেঝে থেকে আংটিটা তুলে তার হাতের তালুতে রাখল। — এবার থেকে সাবধানে। ঠিক আছে? ইনায়া মাথা নাড়ল। কিন্তু আরিশের হাত থেকে নিজের হাত সরিয়ে নেওয়ার পরও তার মনে হচ্ছিল, সেই মুহূর্তটা যেন এখনো শেষ হয়নি। সন্ধ্যার একটু আগে দুজন নিচে নামছিল। সিঁড়ির মাঝখানে এসে ইনায়া হঠাৎ বলল, — আরিশ? — বলো। — আপনি কি সবার সঙ্গেই এমন করেন? আরিশ থেমে তার দিকে তাকাল। — কেমন? — এই যে… এত কেয়ার করেন। আরিশ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, — না। ইনায়া চোখ তুলে তাকাল। — তাহলে আমার সঙ্গে কেন? আরিশ এক ধাপ এগিয়ে এসে মৃদু হেসে বলল, — এই প্রশ্নের উত্তরটা এখনই দিলে তুমি বিশ্বাস করবে না। — কেন? — কারণ, তুমি এখনো বুঝতেই পারোনি তুমি আমার কাছে কতটা আলাদা। ইনায়ার গাল লাল হয়ে উঠল। সে দ্রুত অন্যদিকে তাকিয়ে বলল, — আপনার কথা শুনলে মনে হয় আপনি সিনেমার নায়ক! আরিশ হেসে বলল, — আর তুমি এমন একটা মেয়ে, যার জন্য নায়ক হওয়াটাও কঠিন হয়ে যায়। — কেন? — কারণ তুমি একবার হাসলে আমার সব রাগ চলে যায়। আর একবার রাগ করলে তোমাকে আবার হাসানোর জন্য নতুন নতুন বুদ্ধি বের করতে হয়! ইনায়া হেসে ফেলল। সেই হাসিটা দেখে আরিশও হাসল। দুজনের কেউই তখন জানত না, এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলো একদিন তাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতি হয়ে উঠবে। রাতে নিজের ঘরে বসে ইনায়া ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ছিল। হঠাৎ একটা মেসেজ এল। Arish: বাসায় পৌঁছেছ? Inaya: না, আমি এখনো চাঁদের দেশে আছি। 🙄 Arish: ভালো। সেখানে গিয়ে আমার কথা মনে পড়ছে? Inaya: স্বপ্নেও না! Arish: তাহলে এত তাড়াতাড়ি রিপ্লাই দিলে কেন? ইনায়া ফোনের দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলল। Inaya: আপনাকে ব্লক করে দেব! Arish: করে দাও। কাল আবার তোমার সামনে এসে দাঁড়াব। Inaya: আপনি অসম্ভব! Arish: আর তুমি আমার সবচেয়ে প্রিয় অসম্ভব ব্যাপার। মেসেজটা পড়ে ইনায়া কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর ফোনটা বুকে চেপে ধরে বালিশে মুখ লুকিয়ে হাসল। — অসহ্য একটা মানুষ! কিন্তু সেই হাসির আড়ালে যে অনুভূতিটা জন্ম নিচ্ছিল, সেটাকে আর অস্বীকার করা তার পক্ষে সহজ হচ্ছিল না। ঠিক তখনই আরেকটা মেসেজ এল। Arish: একটা কথা বলব? Inaya: কী? Arish: আজ তোমাকে ধরে ফেলেছিলাম বলে রাগ করোনি তো? ইনায়া কিছুক্ষণ ভেবে লিখল, Inaya: না। কয়েক সেকেন্ড পর আরিশের উত্তর এল— Arish: ভালো। কারণ, তোমার কিছু হয়ে গেলে আমার খুব খারাপ লাগত। ইনায়ার মুখের হাসিটা এবার ধীরে ধীরে কোমল হয়ে এল। সে লিখল, Inaya: নিজেরও একটু খেয়াল রাখবেন। মেসেজটা পাঠিয়ে সে ফোনটা পাশে রাখল। অন্যদিকে, আরিশ নিজের ঘরে বসে মেসেজটা পড়ে মৃদু হাসল। তারপর নিজের মনেই বলল, — তুমি হয়তো এখনো জানো না, ইনায়া… কিন্তু তোমার ছোট্ট একটা কথাও আমার পুরো দিনটা সুন্দর করে দিতে পারে। আর সেই রাতেই, দুজনের অজান্তে, তাদের গল্পে নতুন একটা অনুভূতির শুরু হলো। চলবে… 🖤🌷
পর্ব — ৮ দরজার ওপাশ থেকে আবার আরিশের গলা শোনা গেল— “ইনায়া, দরজাটা খোলো।” ইনায়া কিছুক্ষণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তার হাতে তখনও সেই পুরোনো ছবিটা। ছবিটা দ্রুত নিজের জামার ভেতর লুকিয়ে দরজার কাছে গেল সে। “আপনি এখানে?” দরজা খুলতেই আরিশকে সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল। আরিশ কিছুক্ষণ ইনায়ার দিকে তাকিয়ে থেকে বলল, “তোমার ফোন বন্ধ ছিল।” “তাতে?” “তোমাকে কয়েকবার কল করেছিলাম।” ইনায়া ফোনের দিকে তাকাল। সত্যিই—অনেকগুলো মিসড কল। “কী হয়েছে?” আরিশ এবার একটু গম্ভীর হলো। “তোমার বাবার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম।” ইনায়ার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। “বাবার সঙ্গে?” “হ্যাঁ। কিন্তু উনি আমাকে বললেন কাল আসতে।” ইনায়া স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই আরিশের চোখ পড়ল তার হাতে থাকা কালো বাক্সটার দিকে। “ওটা কী?” ইনায়া সঙ্গে সঙ্গে বাক্সটা পেছনে সরিয়ে নিল। “কিছু না।” আরিশ ভ্রু কুঁচকে বলল, “কিছু না হলে লুকাচ্ছ কেন?” “আপনি এত প্রশ্ন করেন কেন?” “কারণ তুমি সবসময় এমনভাবে কথা বলো, যেন কিছু একটা লুকাচ্ছ।” ইনায়া চুপ করে গেল। আরিশের চোখ এবার তার মুখ থেকে সরে গিয়ে স্টাডি রুমের ভেতরে গেল। “তুমি এখানে একা কী করছিলে?” “বই খুঁজছিলাম।” “রাতে?” “হ্যাঁ। বইয়েরও তো রাত হয়।” আরিশ হেসে ফেলল। “তোমার যুক্তিগুলো সত্যিই অদ্ভুত।” ইনায়া বিরক্ত হয়ে বলল, “আপনি এখন যেতে পারেন।” আরিশ চলে যাওয়ার জন্য ঘুরতেই হঠাৎ থেমে গেল। “ইনায়া।” “হুম?” “তোমার হাতে যে আংটিটা…” ইনায়া স্থির হয়ে গেল। আরিশ ধীরে ধীরে বলল, “ওটা কোথায় পেয়েছ?” ইনায়া এবার আর হাসল না। “কেন?” “কারণ…” আরিশ কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল। “আমি এই আংটিটা আগে দেখেছি।” ইনায়ার চোখ বড় হয়ে গেল। “কোথায়?” আরিশ উত্তর দিল না। শুধু বলল, “তোমার বাবার পুরোনো একটা ছবিতে।” ইনায়ার বুক ধক করে উঠল। “আপনি ওই ছবি দেখেছেন?” “অনেক বছর আগে।” “কোন ছবি?” আরিশ কিছু বলার আগেই ওপরতলা থেকে একটা শব্দ হলো। ধাম! দুজনেই চমকে ওপরে তাকাল। ইনায়া দৌড়ে সিঁড়ির দিকে গেল। আরিশও তার পেছনে গেল। উপরে গিয়ে দেখা গেল, করিডোরের শেষের ঘরের দরজা খোলা। ঘরটা অন্ধকার। ইনায়া ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকল। মেঝেতে পড়ে আছে একটা পুরোনো কাঠের বাক্স। আর বাক্সটার পাশে… একটা ছবি। ইনায়া ছবিটা তুলে নিল। তার চোখ স্থির হয়ে গেল। ছবিতে তার বাবা, সেই অচেনা মহিলা… আর তাদের পাশে দাঁড়িয়ে আছে ছোট্ট একটা মেয়ে। মেয়েটার মুখ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু তার হাতে— ঠিক একই রুপালি আংটি। ইনায়া ধীরে ধীরে ছবিটা উল্টে দিল। পেছনে লেখা— “ইনায়া জানার আগেই তাকে এখান থেকে দূরে রাখতে হবে।” ইনায়ার হাত কেঁপে উঠল। আরিশ তার পাশে এসে দাঁড়াল। কিছুক্ষণ ছবিটার দিকে তাকিয়ে থেকে সে খুব শান্ত গলায় বলল— “ইনায়া…” “হুম?” “তুমি কি নিশ্চিত… তুমি তোমার পরিবারের সবাইকে চেনো?”
পর্ব — ৭ বিকেলের দিকে বাড়িটা বেশ শান্ত হয়ে গেল। জায়রা নিজের ঘরে। আরিশও চলে গেছে। আর ইনায়া বারান্দায় বসে চুপচাপ আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠল। অচেনা নম্বর। ইনায়া কয়েক সেকেন্ড ফোনটার দিকে তাকিয়ে থেকে কলটা ধরল। “হ্যালো?” ওপাশ থেকে কোনো উত্তর নেই। “হ্যালো? কে বলছেন?” কয়েক সেকেন্ড নীরব থাকার পর খুব নিচু একটা কণ্ঠ ভেসে এল— “তুমি এখনো ওই আংটিটা পরে আছ?” ইনায়ার মুখের হাসি মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল। সে নিজের আঙুলের দিকে তাকাল। রুপালি আংটিটা তখনও তার আঙুলে। “আপনি কে?” ওপাশের মানুষটা কিছু বলল না। ইনায়া আবার বলল, “আমার নম্বর পেলেন কোথা থেকে?” এবার শুধু একটা কথা শোনা গেল— “তোমার বাবাকে জিজ্ঞেস করো।” কল কেটে গেল। ইনায়া স্থির হয়ে বসে রইল। তারপর দ্রুত নিজের ফোনের স্ক্রিনে নম্বরটা দেখল। No Caller ID. “এটা কীভাবে সম্ভব…?” ঠিক তখনই পেছন থেকে যায়রার গলা— “আপু?” ইনায়া চমকে ফোনটা লুকিয়ে ফেলল। “কী হয়েছে?” “তুমি এত ভয় পেয়েছ কেন?” “কিছু না।” জায়রা সন্দেহের চোখে তাকাল। “সত্যি?” ইনায়া জোর করে হাসল। “হ্যাঁ।” কিন্তু তার মাথায় তখন শুধু একটা কথাই ঘুরছিল— “তোমার বাবাকে জিজ্ঞেস করো।” রাতে সবাই ঘুমিয়ে যাওয়ার পর ইনায়া নিচে নামল। তার বাবার পুরোনো স্টাডি রুমে ঢুকে সে কিছু খুঁজতে লাগল। কী খুঁজছে, সে নিজেও জানে না। শুধু মনে হচ্ছিল, আংটিটার সঙ্গে তার বাবার কোনো সম্পর্ক আছে। পুরোনো একটা ড্রয়ার খুলতেই কিছু কাগজের নিচে একটা ছোট কালো বাক্স চোখে পড়ল। ইনায়া বাক্সটা হাতে নিল। তালাটা খোলা ছিল। ভেতরে ছিল একটা পুরোনো ছবি। ছবিটা হাতে নিয়েই ইনায়া থমকে গেল। ছবিতে তার বাবা দাঁড়িয়ে আছেন… কিন্তু পাশে থাকা মেয়েটাকে সে চিনতে পারছে না। আর সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয়— মেয়েটার হাতে ঠিক একই রকম রুপালি আংটি। ইনায়া ছবিটা উল্টে দেখল। পেছনে মাত্র একটি তারিখ লেখা— “১৭ জুন, ২০১০” তার নিচে ছোট করে আরও একটা লাইন— “যদি ইনায়া কখনো সত্যিটা জানতে চায়…” ইনায়ার হাত কেঁপে উঠল। লাইনটা সেখানেই শেষ। বাকিটা যেন কেউ ছিঁড়ে ফেলেছে। ঠিক তখনই স্টাডি রুমের দরজার বাইরে কারও পায়ের শব্দ হলো। ইনায়া দ্রুত ছবিটা বুকের কাছে চেপে ধরল। পায়ের শব্দটা থেমে গেল দরজার ঠিক সামনে। তারপর— টক… টক… দরজায় দুবার শব্দ হলো। ইনায়া নিঃশ্বাস আটকে দাঁড়িয়ে রইল। বাইরে থেকে একটা পরিচিত কণ্ঠ ভেসে এল— “ইনায়া… দরজাটা খোলো।” ইনায়া চোখ বড় করে তাকিয়ে রইল। এত রাতে এখানে আরিশ কীভাবে এল? চলবে.......
পর্ব — ৬ সকালের রোদটা জানালার পর্দা ভেদ করে ঘরের মেঝেতে এসে পড়েছে। ইনায়া চোখ কচলাতে কচলাতে বিছানা থেকে উঠল। ঘুম জড়ানো চোখে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চুলগুলো ঠিক করতে গিয়ে হঠাৎ থেমে গেল। “এত চুল একজন মানুষের হয় কীভাবে!” 😑 নিজের চুলের দিকেই বিরক্ত হয়ে তাকিয়ে থেকে আবার ফিসফিস করে বলল, “কেটে ফেলব একদিন… সত্যি কেটে ফেলব।” কিন্তু কথাটা বলেই নিজেই হেসে ফেলল। নিচে নামতেই যায়রা সোফায় বসে ফোন দেখছিল। ইনায়াকে দেখে যায়রা বলল, “আপু, তোমার চুলের সাথে আবার ঝগড়া হয়েছে?” “হ্যাঁ। আর আজ থেকে ওর সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।” “তাহলে চিরুনি দিয়ে এতক্ষণ কী করছিলে?” “শেষবারের মতো কথা বলছিলাম।” 😌 যায়রা হেসে ফেলল। ঠিক তখনই বাইরে গাড়ির শব্দ হলো। ইনায়া জানালার দিকে তাকিয়ে দেখল, আরিশ এসেছে। তার মুখটা মুহূর্তেই একটু গম্ভীর হয়ে গেল। “ও আবার এখানে কেন?” যায়রা মুচকি হেসে বলল, “কেন? তোমাকে দেখতে এসেছে নাকি?” “আমাকে দেখার মতো আর মানুষ পৃথিবীতে নেই?” “আছে। কিন্তু তোমার মতো বিরক্তিকর মানুষ আর নেই।” “যায়রা!” দুজনের কথার মাঝেই দরজা খুলে আরিশ ভেতরে ঢুকল। আরিশ দুজনের দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল, “সকাল থেকেই ঝগড়া?” ইনায়া সঙ্গে সঙ্গে বলল, “আমরা ঝগড়া করছি না।” যায়রা বলল, “হ্যাঁ, আমরা খুব শান্তিপূর্ণভাবে একে অপরকে অপমান করছি।” আরিশ হেসে ফেলল। ইনায়া বিরক্ত হয়ে তাকিয়ে বলল, “আপনি হাসছেন কেন?” “কারণ তোমাদের দুজনকে দেখে মনে হচ্ছে, এই বাড়িতে শান্তি বলে কোনো জিনিস নেই।” “শান্তি চাইলে আপনি চলে যেতে পারেন।” আরিশ কিছু বলল না। শুধু ইনায়ার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে তার চোখ আটকে গেল ইনায়ার হাতে। ইনায়ার আঙুলে ছোট্ট একটা রুপালি আংটি। আরিশ কয়েক সেকেন্ড চুপ করে সেটার দিকে তাকিয়ে থাকল। “আংটিটা নতুন?” ইনায়া নিজের হাতের দিকে তাকাল। “এটা?” “হুম।” ইনায়া একটু থেমে বলল, “অনেক পুরোনো।” “কার দেওয়া?” প্রশ্নটা শুনে ইনায়ার মুখের হাসিটা সামান্য থেমে গেল। তারপর স্বাভাবিকভাবে বলল, “মনে নেই।” আরিশ আর কিছু জিজ্ঞেস করল না। কিন্তু যাওয়ার সময় একবার পেছনে তাকিয়ে সেই আংটির দিকে আবার তাকাল। ইনায়া সেটা খেয়াল করল। তারপর নিজের আংটিটা মুঠোর ভেতর লুকিয়ে ফেলল। খুব ছোট একটা ব্যাপার… কিন্তু কেন যেন মনে হলো, এই আংটির গল্পটা এতটা সাধারণ নয়। চলবে........
পর্ব — ৫ ঘরের দরজাটা বন্ধ করার পরও ইনায়ার মনে হচ্ছিল, কেউ যেন তাকে দেখছে। সেই একই অনুভূতি। যেটা গত কয়েকদিন ধরে বারবার তাকে অস্বস্তিতে ফেলছে। ইনায়া ধীরে ধীরে জানালার কাছে গিয়ে পর্দাটা সরাল। বাইরে নিস্তব্ধ রাস্তা। দূরের একটা স্ট্রিটলাইটের আলোয় চারপাশটা আবছা দেখা যাচ্ছে। কেউ নেই। তবুও… তার চোখ আটকে গেল রাস্তার অপর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কালো গাড়িটার দিকে। গাড়িটা কয়েক মিনিট ধরেই সেখানে দাঁড়িয়ে আছে। ইনায়ার ভ্রু কুঁচকে গেল। “এটা আবার কী?” সে আরও ভালো করে তাকানোর চেষ্টা করল। হঠাৎ গাড়ির ভেতর থেকে একটা ক্ষীণ আলো জ্বলে উঠল। কেউ একজন ফোনের স্ক্রিন দেখছে। তারপর— গাড়িটা ধীরে ধীরে সরে গেল। ইনায়া জানালা থেকে সরে এল। তার বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা ভয় জমে উঠেছে। কিন্তু ভয়টা ঠিক কিসের, সে নিজেও জানে না। পরদিন সকালে। “ইনায়া! তাড়াতাড়ি নিচে আয়!” যায়রার চিৎকারে ইনায়া বিরক্ত মুখে সিঁড়ি দিয়ে নামতে লাগল। “সকাল সকাল এত চিৎকার করছিস কেন?” যায়রা মুখ বাঁকিয়ে বলল, “তোর জন্যই তো! তুই আবার আমার জিনিসটা—” “কোন জিনিস?” “আমার নীল ডায়েরিটা।” ইনায়া থেমে গেল। “আমি নিইনি।” যায়রা এবার একটু অবাক হলো। “তাহলে ডায়েরিটা গেল কোথায়?” দুজনেই কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর ইনায়ার চোখ হঠাৎ টেবিলের দিকে গেল। সেখানে একটা ছোট্ট কাগজ পড়ে আছে। সে কাগজটা তুলে নিল। মাত্র একটি লাইন লেখা— “যেটা খুঁজছো, সেটা তোমাদের ঘরেই আছে।” ইনায়ার মুখের হাসি মিলিয়ে গেল। যায়রা ধীরে ধীরে তার পাশে এসে দাঁড়াল। “ইনায়া… এটা কে লিখেছে?” ইনায়া কোনো উত্তর দিল না। কারণ ঠিক সেই মুহূর্তে তার মাথায় একটা কথা এসেছে। গত রাতে সে যে কালো গাড়িটা দেখেছিল… আর এই চিরকুট— দুটো কি একই রহস্যের অংশ? সন্ধ্যায় ইনায়া একা ঘরে বসে ডায়েরিটা খুঁজছিল। হঠাৎ বিছানার নিচে হাত যেতেই তার আঙুলে শক্ত কিছু একটা ঠেকল। সে টেনে বের করল একটা ছোট্ট কাঠের বাক্স। বাক্সটার ওপর অদ্ভুত একটা চিহ্ন আঁকা। একটা অর্ধচন্দ্রের মতো আকৃতি। ইনায়া চিহ্নটার দিকে তাকিয়ে রইল। কোথায় যেন সে এই চিহ্নটা আগে দেখেছে। কিন্তু কোথায়? মনে করার চেষ্টা করতেই মাথার ভেতর ঝাপসা একটা দৃশ্য ভেসে উঠল— একটা পুরোনো বাড়ি… একজন মানুষ… আর সেই একই চিহ্ন। ইনায়া চোখ বন্ধ করে ফেলল। “আমি এটা আগে কোথায় দেখেছি?” ঠিক তখনই— টক… টক… জানালায় শব্দ হলো। ইনায়া চমকে তাকাল। কেউ নেই। কিন্তু জানালার কাঁচে একটা ছোট্ট কালো খাম আটকে আছে। সে ধীরে ধীরে খামটা খুলল। ভেতরে একটা ছবি। ছবিটা দেখে ইনায়ার শরীর যেন মুহূর্তের জন্য জমে গেল। ছবিতে সে নিজেই আছে। কিন্তু ছবিটা তোলা হয়েছে বহু বছর আগে। আর ছবির পেছনে লেখা— “তুমি যেটা ভুলে গেছো, সেটা কেউ একজন এখনো মনে রেখেছে।” ইনায়ার হাত কেঁপে উঠল। সে ছবিটা শক্ত করে ধরে ফিসফিস করে বলল— “কিন্তু… আমাকে এতদিন ধরে কে অনুসরণ করছে?” দরজার বাইরে তখন কারও পায়ের শব্দ শোনা গেল। একবার। দুবার। তারপর থেমে গেল। ইনায়া ধীরে ধীরে দরজার দিকে এগিয়ে গেল। হাতটা দরজার নবের ওপর রাখতেই বাইরে থেকে খুব পরিচিত একটা কণ্ঠ ভেসে এলো— “ইনায়া… দরজা খোলো।” ইনায়া স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। কারণ সেই কণ্ঠটা শোনার পর তার মনে হলো— এই রহস্যের সঙ্গে আরিশেরও কোনো সম্পর্ক আছে। পরের পর্বে চাইলে �আরিশকে সরাসরি এই রহস্যের মধ্যে ঢুকিয়ে, �তার কাছে থাকা আরেকটা গোপন তথ্য প্রকাশ করতে পারি। চলবে........
পর্ব ৪ — বন্ধ দরজার ওপাশে বাড়ি ফিরে ইনায়া প্রথমেই বুঝতে পারল, কিছু একটা ঠিক নেই। ড্রয়িংরুমে সাধারণত এই সময় টেলিভিশনের শব্দ থাকে, যায়রার হাসির শব্দ থাকে, মায়ের সঙ্গে তার গল্প থাকে। কিন্তু আজ পুরো বাড়িটা অস্বাভাবিক শান্ত। ইনায়া ধীরে ধীরে মায়ের ঘরের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। দরজাটা ভেতর থেকে বন্ধ। — “মা?” কোনো উত্তর নেই। — “মা, আমি এসেছি।” কিছুক্ষণ পর দরজা খুলে গেল। তাহমিনা দাঁড়িয়ে আছেন। মুখে হাসি নেই। ইনায়া অবাক হয়ে বলল, — “কী হয়েছে?” তাহমিনা কিছুক্ষণ মেয়ের দিকে তাকিয়ে থেকে বললেন, — “তুমি আজ কোথায় গিয়েছিলে?” — “জায়রা আর কয়েকজনের সঙ্গে বাইরে।” — “কার সঙ্গে?” ইনায়া একটু থেমে বলল, — “জায়েনের সঙ্গে। আরিশও ছিল।” “আরিশ” নামটা শুনেই তাহমিনার মুখের অভিব্যক্তি বদলে গেল। মাত্র এক মুহূর্তের জন্য। কিন্তু ইনায়ার চোখ সেটা এড়িয়ে গেল না। — “মা?” তাহমিনা দ্রুত নিজেকে সামলে নিলেন। — “কিছু না।” — “তুমি আরিশের নাম শুনে এমন করলে কেন?” — “আমি কাউকে চিনি না।” ইনায়া চুপ করে গেল। কথাটা অদ্ভুত লাগল। কারণ তার মা সাধারণত কখনো এমনভাবে কথা বলেন না। তাহমিনা অন্যদিকে তাকিয়ে বললেন, — “তুমি তোমার ঘরে যাও।” — “কিন্তু—” — “ইনায়া।” কণ্ঠটা এবার কঠিন। ইনায়া আর কিছু বলল না। চুপচাপ ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। রাত প্রায় সাড়ে দশটা। ইনায়া বিছানায় বসে ফোন দেখছিল। হঠাৎ তার ফোনে একটা অচেনা নম্বর থেকে মেসেজ এল। “আজ তোমার মায়ের মুখটা খেয়াল করেছিলে?” ইনায়ার বুক ধক করে উঠল। সে সঙ্গে সঙ্গে রিপ্লাই করল— “আপনি কে?” কিছুক্ষণ কোনো উত্তর এল না। তারপর— “যে সত্যিটা তোমার পরিবার তোমার কাছ থেকে লুকিয়ে রেখেছে, সেটা আমি জানি।” ইনায়া কিছুক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর লিখল— “কী সত্যি?” এবারও কোনো উত্তর নেই। শুধু কয়েক সেকেন্ড পর আরেকটা ছবি এল। ইনায়া ছবিটা খুলতেই তার মুখের হাসি মিলিয়ে গেল। ছবিতে তার মা। কিন্তু ছবিটা অনেক বছর আগের। তাহমিনা দাঁড়িয়ে আছেন একটা অচেনা বাড়ির সামনে। তার পাশে আরও দুজন মানুষ। একজন পুরুষ। আর একজন ছোট মেয়ে। ইনায়া ছবিটা জুম করে দেখল। ছোট মেয়েটার মুখটা স্পষ্ট নয়। কিন্তু তার গায়ে থাকা ছোট্ট লকেটটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। ইনায়া নিজের গলার দিকে হাত দিল। তার গলায় থাকা লকেটটা ঠিক একই রকম। সে ফিসফিস করে বলল, — “এটা কীভাবে সম্ভব?” ঠিক তখনই দরজায় টোকা পড়ল। ইনায়া তাড়াতাড়ি ফোনটা লুকিয়ে ফেলল। — “কে?” দরজা খুলে যায়রা ঢুকল। — “এত রাতে এখনো জেগে আছিস?” ইনায়া কিছু বলল না। যায়রা তার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, — “কী হয়েছে?” — “কিছু না।” — “তুই মিথ্যা বলছিস।” ইনায়া এবার মৃদু হেসে বলল, — “ঘুমাতে যা।” যায়রা চলে যাওয়ার পর ইনায়া আবার ফোনটা হাতে নিল। কিন্তু এবার— মেসেজগুলো নেই। ছবিটাও নেই। চ্যাটটা যেন কখনো ছিলই না। ইনায়া হতভম্ব হয়ে বসে রইল। তারপর হঠাৎ ফোনের গ্যালারিতে একটা নতুন ছবি দেখতে পেল। ছবিটা আজকের। কয়েক ঘণ্টা আগে ক্যাফের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা ইনায়া ও আরিশের ছবি। কেউ তাদের ছবি তুলেছিল। কিন্তু কে? ইনায়া ধীরে ধীরে জানালার দিকে তাকাল। জানালার পর্দা নড়ছে। সে উঠে গিয়ে পর্দা সরাল। বাইরে অন্ধকার রাস্তা। কেউ নেই। শুধু রাস্তার একপাশে একটা কালো গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল। আর গাড়ির ভেতর থেকে— কেউ একজন তাদের বাড়ির দিকে তাকিয়ে ছিল। ইনায়া চোখের পলক ফেলতেই গাড়িটা ধীরে ধীরে চলে গেল। সে জানত না— এই রাতের পর তার স্বাভাবিক জীবনটা আর আগের মতো থাকবে না। চলবে......
পর্ব ৩ — বিপদে পড়া পরিচয় — “তুই নিশ্চিত এটা ঠিক জায়গা?” জায়রা গাড়ি থেকে নেমে চারপাশে তাকিয়ে বলল, — “একশো ভাগ।” ইনায়া ভ্রু কুঁচকে তাকাল। — “তোর একশো ভাগ মানেই আমার কাছে পঞ্চাশ ভাগ বিপদ।” জায়রা হাসল। আজ তারা শহরের বাইরে একটা বড় লেকসাইড পার্কে এসেছে। জায়েন আগেই বলেছিল, এখানে একটা ছোট্ট ফুড ফেস্টিভ্যাল হচ্ছে। সবাই মিলে একটু ঘুরবে, খাবে, ছবি তুলবে—এই ছিল পরিকল্পনা। কিন্তু ইনায়া নামার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই একটা সমস্যায় পড়ে গেল। তার হাতে থাকা আইসক্রিমটা হঠাৎ পাশ দিয়ে দৌড়ে যাওয়া একটা ছোট বাচ্চার জামায় লেগে গেল। ইনায়া থমকে গেল। বাচ্চাটা তার দিকে তাকিয়ে কাঁদো কাঁদো মুখ করতেই ইনায়া হাঁটু গেড়ে বসে বলল, — “আচ্ছা আচ্ছা, কাঁদিস না। এটা আমার ভুল।” বাচ্চাটার মা এগিয়ে এসে হেসে বললেন, — “কোনো সমস্যা নেই।” ইনায়া স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। ঠিক তখন পাশ থেকে একটা গলা— — “আপনার পাঁচ মিনিটেই এত কাণ্ড হয়ে গেল?” ইনায়া ঘুরে তাকাল। আরিশ। সে ভ্রু তুলে তাকিয়ে আছে। ইনায়া বলল, — “আপনি আবার!” — “আমি তো ভাবছিলাম আজ শান্তিতে কাটবে।” — “আমার জন্য আপনার দিন নষ্ট হচ্ছে?” — “এখনও হয়নি। তবে সম্ভাবনা আছে।” ইনায়া চোখ সরু করল। — “আপনি আমাকে খুব বেশি চিনে ফেলেছেন মনে হচ্ছে।” আরিশ হেসে বলল, — “আপনাকে বুঝতে খুব বেশি সময় লাগে না।” — “ওহ! তাই?” ইনায়া হাতে থাকা আইসক্রিমটা তুলে ধরল। — “তাহলে এটা ধরুন।” আরিশ এক পা পিছিয়ে গেল। — “না।” — “কেন?” — “আপনার হাতে থাকলে এটা নিরাপদ না।” জায়েন পাশ থেকে হেসে উঠল। — “ভাই, তুই আজ ঠিক কথা বলেছিস।” ইনায়া সঙ্গে সঙ্গে জায়েনের দিকে তাকাল। — “আপনিও ওর দলে?” — “আমি সত্যের দলে।” — “তাহলে আজ থেকে আপনি আমার শত্রু।” জায়েন নাটকীয়ভাবে বুকের ওপর হাত রাখল। — “এত দ্রুত সম্পর্ক শেষ!” যায়রা হেসে বলল, — “তোদের নিয়ে আমি আর পারছি না।” কিছুক্ষণ পর সবাই একটা গেমের স্টলে গেল। স্টলের সামনে লেখা— “এক মিনিটে তিনটা রিং ফেলুন, জিতুন বিশাল টেডি।” ইনায়ার চোখ চকচক করে উঠল। — “আমি খেলব।” আরিশ বলল, — “আপনি পারবেন?” ইনায়া তার দিকে তাকাল। — “আপনি কি আমাকে চ্যালেঞ্জ করলেন?” — “না। শুধু জিজ্ঞেস করলাম।” — “এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে গেছে।” জায়েন হেসে বলল, — “এই তো আসল মজা!” ইনায়া তিনটা রিং হাতে নিল। প্রথমটা— মিস। দ্বিতীয়টা— মিস। তৃতীয়টা— সোজা পাশের বাক্সে গিয়ে পড়ল। সবাই চুপ। জায়েন মুখ চেপে হাসছে। আরিশ বলল, — “অসাধারণ।” ইনায়া বিরক্ত হয়ে বলল, — “হাসবেন না!” — “আমি হাসছি না।” — “আপনার মুখ হাসছে।” আরিশ এবার সত্যিই হেসে ফেলল। ইনায়া তার দিকে তাকিয়ে বলল, — “ঠিক আছে। এবার আপনি খেলুন।” — “আমি?” — “হ্যাঁ।” আরিশ তিনটা রিং নিল। প্রথমটা— সফল। দ্বিতীয়টা— সফল। তৃতীয়টাও— সফল। স্টলের লোকটা একটা বিশাল টেডি এগিয়ে দিল। জায়েন চিৎকার করে বলল, — “ওহ! প্রেমের প্রথম পুরস্কার!” — “জায়েন!” আরিশ আর ইনায়া দুজনেই একসঙ্গে চিৎকার করল। জায়েন হাসতে হাসতে পিছিয়ে গেল। — “আচ্ছা আচ্ছা, কিছু বলছি না!” আরিশ টেডিটা ইনায়ার দিকে এগিয়ে দিল। — “নিন।” ইনায়া অবাক হয়ে বলল, — “আমাকে?” — “আপনি তো খেলেছিলেন।” — “কিন্তু জিতেছেন আপনি।” — “তাই তো আপনাকে দিচ্ছি।” ইনায়া টেডিটা হাতে নিল। তার মুখে অজান্তেই হাসি ফুটে উঠল। — “থ্যাঙ্ক ইউ।” আরিশ শুধু মাথা নেড়ে বলল, — “ওয়েলকাম।” বিকেলের শেষে সবাই লেকের পাশে বসেছিল। হঠাৎ ইনায়ার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনে মায়ের কল। — “হ্যালো, মা?” ওপাশ থেকে তাহমিনার কণ্ঠ কিছুটা অস্থির শোনাল। — “ইনায়া, তুমি কোথায়?” — “বাইরে। কেন?” কিছুক্ষণ নীরবতা। তারপর তাহমিনা বললেন, — “বাড়ি ফিরে আমার সঙ্গে একটু কথা বলবে।” — “কী হয়েছে?” — “ফিরে এসো। তারপর বলব।” কল কেটে গেল। ইনায়া ফোনটা নামিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। যায়রা জিজ্ঞেস করল, — “কী হয়েছে?” ইনায়া মাথা নাড়ল। — “জানি না।” আরিশ দূর থেকে কথাটা শুনলেও কিছু বলল না। শুধু তার চোখে এক মুহূর্তের জন্য অদ্ভুত একটা চিন্তার ছাপ দেখা গেল। আর সেই মুহূর্তেই— ইনায়ার হাতে থাকা টেডিটার ভেতর থেকে একটা ছোট্ট কাগজ মাটিতে পড়ে গেল। কেউ খেয়াল করল না। শুধু আরিশের চোখে পড়ল। সে নিচু হয়ে কাগজটা তুলে নিল। কাগজে লেখা মাত্র তিনটি শব্দ— “তাকে এখনও বলো না।” আরিশ ধীরে ধীরে কাগজটা ভাঁজ করল। ইনায়ার দিকে তাকাল। তারপর কাগজটা নিজের পকেটে রেখে দিল। কেন—সেটা সে নিজেও জানত না। চলবে...........
♡𐙚 𝐋𝐮𝐜𝐚’𝐬 𝐂𝐡𝐞𝐫𝐫𝐲! 𐙚♡
কিছু মানুষ জীবনে এমনভাবে আসে, যাদের একসময় নিজের সবচেয়ে কাছের মানুষ মনে হয়। 🥹🥀🖤 যাকে দেখলে প্রতিদিন জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করত 🫂💗, যার সঙ্গে একটু সময় কাটানোর ইচ্ছা ছিল 🥺🤍, সেই মানুষটার সঙ্গে আজ পর্যন্ত সামনাসামনি দেখাও হলো না। 😅💔 তার পাশে বসে একটু সময় কাটানো 🫶🏻🌸, একবার জড়িয়ে ধরা 🫂😭—এসব ছোট ছোট ইচ্ছেগুলো শুধু ইচ্ছেই থেকে গেল। 🥀💭💔
একসময় যার সঙ্গে কত কথা হতো 🥹💌, আজ তার সঙ্গে অনলাইনে হালকা পাতলা কথা হয়। 📱🙂 অথচ মনের ভেতর জমে থাকা কত কথা আর বলা হয় না। 😔🫀💭 মানুষটা জীবনে ছিল, এখনো কোথাও আছে, কিন্তু আগের মতো করে আর কিছুই নেই। 🙂↕️💔🥀
সবচেয়ে কষ্টের ব্যাপার হলো, আমি তাকে ভীষণ মিস করি—অনেক বেশি, যা কাউকে বোঝাতে পারি না। 😭🫂💔 প্রতিটা সেকেন্ডে তার কথা মনে পড়ে, প্রতিটা মুহূর্তে তাকে কিছু বলতে ইচ্ছে করে। ⏳🥺🖤 কতবার মনে হয়, তাকে বলি—আমি তোমাকে কতটা মিস করি, তোমার সঙ্গে একটু কথা বলতে আমার কতটা ভালো লাগে! 🥹💗🫶🏻 কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছুই বলা হয় না। 🤐💔 সব অনুভূতি নিজের মধ্যেই লুকিয়ে রাখি। 🙂↕️🥀🌧️
মাঝেমধ্যে খুব ইচ্ছে করে, যদি একবার তার সামনে বসতে পারতাম 🥺🤍, যদি একবার জড়িয়ে ধরে মনের সব কথাগুলো বলতে পারতাম! 🫂😭💗 কিন্তু বাস্তবে এসব শুধু কল্পনাতেই থেকে যায়। 💭🥀😅 বাইরে থেকে হয়তো কেউ বুঝতেই পারে না, একটা মানুষকে মনে মনে কতটা খুঁজি, কতটা মিস করি। 🥹🫀💔
সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, কিছু সম্পর্কের দূরত্ব বাড়লেও মনের টানটা কমে না। 🥀🖤 মানুষটা দূরে থাকে, কথা হয় না আগের মতো, তবুও তার কথা মনে পড়া থামে না। 😔💭💌 হয়তো কোনোদিন সে জানবেও না, তাকে মিস করতে করতে কত কথা নিজের ভেতর জমিয়ে রেখেছি। 😭🫶🏻 কতবার বলতে চেয়েও বলতে পারিনি—
“তোমাকে অনেক মিস করি, অনেক বেশি। 🥹😭🫂💔 আমার প্রতিটা সেকেন্ডে তোমার কথা মনে পড়ে, অথচ তুমি হয়তো জানোই না! 🥀🖤🙂↕️ তুমি আমার কাছে কতটা আপন, কতটা প্রিয়, সেটা হয়তো কোনোদিন বুঝিয়েও বলতে পারব না। 😭💗🫀 শুধু জানি, তোমাকে ভীষণ মনে পড়ে—প্রতিদিন, প্রতিটা মুহূর্তে, প্রতিটা সেকেন্ডে! ⏳🥺💌🫂💔”
1 week ago | [YT] | 1
View 0 replies
♡𐙚 𝐋𝐮𝐜𝐚’𝐬 𝐂𝐡𝐞𝐫𝐫𝐲! 𐙚♡
𓆩🖤𓆪 𝐉𝐮𝐬𝐭 𝐎𝐧𝐞 𝐒𝐮𝐛𝐬𝐜𝐫𝐢𝐛𝐞 𝐂𝐨𝐮𝐥𝐝 𝐇𝐞𝐥𝐩 𝐌𝐞 𝐑𝐞𝐚𝐜𝐡 𝟏𝐊… 🥀✨
.
.
.
.
.
.
@BlinkSinha
@blink_azraot4
@BLACKPINK
@loser.ayu0_0
@Blink_venom06
@BlinkMomoKim
@Cuteblinkgirl-8ml
@Fangirl_Pakhi
@jisoounnie0
@BLINK_GIRL-54
@ all
2 weeks ago | [YT] | 0
View 0 replies
♡𐙚 𝐋𝐮𝐜𝐚’𝐬 𝐂𝐡𝐞𝐫𝐫𝐲! 𐙚♡
মায়ার শেষ প্রহর
পর্ব — ১০ :
সকাল থেকেই ইনায়ার মনটা অদ্ভুত ভালো ছিল।
কারণটা সে নিজেও জানত না।
হয়তো গত রাতের কথাগুলো বারবার মনে পড়ছিল।
বিশেষ করে আরিশের সেই কথাটা—
“তুমি আমার সবচেয়ে প্রিয় অসম্ভব ব্যাপার।”
কথাটা মনে পড়তেই ইনায়ার ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল।
ঠিক তখনই যায়রা ঘরে ঢুকে তাকে এভাবে হাসতে দেখে থেমে গেল।
— আপু?
ইনায়া চমকে উঠল।
— কী?
— তুমি একা একা হাসছ কেন?
— আমি হাসছি না।
— আয়নায় তোমার মুখটা দেখেছ?
ইনায়া সঙ্গে সঙ্গে আয়নার দিকে তাকাল।
তারপর বলল,
— আমার মুখের কী হয়েছে?
জায়রা মুচকি হেসে বলল,
— কিছু না। শুধু মনে হচ্ছে কারও কথা খুব মনে পড়ছে।
— যায়রা!
— আচ্ছা আচ্ছা, নামটা বলব না। 😌
ইনায়া বালিশ ছুড়ে মারল।
— বের হও!
জায়রা হাসতে হাসতে বেরিয়ে গেল।
কিন্তু দরজার কাছে গিয়ে আবার ফিরে তাকাল।
— আপু?
— আবার কী?
— তোমাকে অনেকদিন পর সত্যি সত্যি খুশি লাগছে।
কথাটা শুনে ইনায়ার হাসিটা একটু থেমে গেল।
সে কিছু বলল না।
বিকেলে ইনায়া বাগানে বসে বই পড়ছিল।
হঠাৎ তার সামনে একটা ছায়া এসে পড়ল।
বইয়ের ওপর চোখ রেখেই সে বলল,
— জানি আপনি কে।
আরিশ অবাক হয়ে বলল,
— এত সহজে চিনে ফেললে?
— আপনার জুতোর শব্দ চিনে গেছি।
আরিশ কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থাকল।
তারপর মৃদু হেসে বলল,
— আমার জুতোর শব্দও মনে থাকে?
ইনায়া বই বন্ধ করে তাকাল।
— ভুল করে মনে থাকে।
— তাহলে আমার ভাগ্য ভালো।
— কেন?
— তুমি অনেক কিছুই ভুলে যাও। কিন্তু আমাকে ভুলে যাচ্ছ না।
ইনায়া চোখ সরিয়ে নিল।
— আপনি সব কথার মধ্যে এত কিছু খুঁজে বের করেন কীভাবে?
— কারণ তুমি যা বলো, তার চেয়েও বেশি কিছু তোমার চোখ বলে।
ইনায়া এবার সত্যিই চুপ হয়ে গেল।
আরিশ তার পাশে বসে পড়ল।
কিছুক্ষণ দুজনেই নীরব।
কিন্তু সেই নীরবতাটা অস্বস্তিকর ছিল না।
বরং অদ্ভুত শান্ত।
হঠাৎ বাতাসে ইনায়ার চুল উড়ে এসে মুখ ঢেকে দিল।
আরিশ হাত বাড়িয়ে চুলটা সরিয়ে দেওয়ার বদলে শুধু বলল,
— চুলটা আবার চোখে ঢুকেছে।
ইনায়া চুল সরিয়ে বলল,
— দেখলেন? আমার চুলই আমার শত্রু।
আরিশ হেসে বলল,
— তোমার চুলের সঙ্গে আমার কোনো সমস্যা নেই।
— আপনার সবকিছু নিয়েই এত মন্তব্য কেন?
— কারণ তোমাকে নিয়ে কথা বলতে ভালো লাগে।
ইনায়া কিছু বলতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই তার হাত থেকে বইটা পড়ে গেল।
দুজনেই একই সঙ্গে বইটা তুলতে ঝুঁকল।
হাত দুটো কাছাকাছি এসে থেমে গেল।
ইনায়া দ্রুত হাত সরিয়ে নিল।
আরিশ বইটা তুলে তার হাতে দিয়ে বলল,
— তুমি এত লজ্জা পাও কেন?
— আমি লজ্জা পাচ্ছি না!
— আচ্ছা।
— সত্যি বলছি!
— ঠিক আছে।
আরিশের মুখের হাসি দেখে ইনায়া বুঝল, সে ইচ্ছা করেই তাকে আরও লজ্জায় ফেলছে।
— আপনি খুব বিরক্তিকর।
— জানি।
— তবুও এত খুশি কেন?
— কারণ তুমি আমাকে বিরক্তিকর বললেও আমার সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করো না।
ইনায়া আর কোনো উত্তর খুঁজে পেল না।
সন্ধ্যায় হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলো।
ইনায়া বারান্দায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখছিল।
কিছুক্ষণ পর আরিশও সেখানে এসে দাঁড়াল।
ইনায়া অবাক হয়ে বলল,
— আপনি আবার?
— হ্যাঁ, আবার আমি।
— আপনার কি আমার পেছনে পেছনে ঘোরার কোনো কাজ আছে?
— কাজ নেই। অভ্যাস হয়ে গেছে।
ইনায়া তার দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলল।
বৃষ্টির শব্দের মধ্যে দুজন কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল।
তারপর আরিশ ধীরে বলল,
— ইনায়া?
— হুম?
— তুমি কি কখনো ভেবেছ, কিছু মানুষ হঠাৎ জীবনে আসে… অথচ মনে হয় তারা অনেক আগে থেকেই পরিচিত?
ইনায়া কিছুক্ষণ বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে থেকে বলল,
— হ্যাঁ।
— কার কথা ভেবে?
ইনায়া উত্তর দিল না।
শুধু মৃদু হেসে বলল,
— সেটা বলা যাবে না।
আরিশও হাসল।
— ঠিক আছে। আমিও বলব না।
— কী?
— আমি কার কথা ভাবছি।
ইনায়া ভ্রু কুঁচকে বলল,
— তাহলে দুজনেই চুপ থাকি।
— ঠিক আছে।
দুজনেই আবার বৃষ্টির দিকে তাকাল।
কিন্তু দুজনের মুখেই তখন একই রকম নরম হাসি।
রাতের দিকে ইনায়ার ফোনে একটি মেসেজ এল।
Arish: আজকের দিনটা ভালো ছিল।
ইনায়া কিছুক্ষণ পর লিখল—
Inaya: কেন?
কিছুক্ষণ পর উত্তর এল—
Arish: কারণ তুমি ছিলে।
ইনায়া মেসেজটা পড়ে অনেকক্ষণ চুপ করে থাকল।
তারপর ধীরে ধীরে লিখল—
Inaya: কালও থাকব।
ওপাশে কিছুক্ষণ কোনো উত্তর এল না।
তারপর—
Arish: তাহলে কালকের দিনটাও ভালো যাবে।
ইনায়া ফোনটা পাশে রেখে জানালার বাইরে তাকাল।
বৃষ্টির শেষ ফোঁটাগুলো তখনও জানালায় পড়ছিল।
তার মনে হলো—
কিছু অনুভূতির কোনো নাম না থাকলেও, সেগুলোকে অনুভব করা যায়।
আরিশের ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই হচ্ছিল।
কিন্তু তারা কেউই জানত না—
এই মায়াবী সময়ের মাঝেই তাদের অতীতের একটা পুরোনো দরজা ধীরে ধীরে খুলতে শুরু করেছে।
চলবে… 🖤
3 weeks ago | [YT] | 0
View 0 replies
♡𐙚 𝐋𝐮𝐜𝐚’𝐬 𝐂𝐡𝐞𝐫𝐫𝐲! 𐙚♡
🖤 মায়ার শেষ প্রহর
পর্ব — ৯ :
আরিশের প্রশ্নটা শুনে ইনায়া কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
— তুমি কি নিশ্চিত… তুমি তোমার পরিবারের সবাইকে চেনো?
ইনায়া ছবিটা আরিশের হাত থেকে নিয়ে বলল,
— আমার পরিবারকে নিয়ে প্রশ্ন করার আগে নিজের পরিবারকে চিনে নিন, মিস্টার আরিশ!
আরিশ ভ্রু উঁচু করল।
— বাহ! এত সুন্দর একটা মেয়ের মুখে এত সুন্দর কথা!
ইনায়া থমকে গেল।
— কী বললেন?
— বললাম, তোমার কথা শুনে খুব ভালো লাগছে।
— আপনি আমাকে সুন্দর বললেন কেন?
আরিশ মুচকি হাসল।
— তাহলে কি মিথ্যা বলব?
ইনায়া মুখ ঘুরিয়ে নিল। কিন্তু ঠোঁটের কোণে লুকিয়ে থাকা হাসিটা আর আটকাতে পারল না।
আরিশ সেটা ঠিকই লক্ষ করল।
— হাসছ কেন?
— হাসছি না!
— আচ্ছা, তাহলে তোমার ঠোঁট দুটো এমন করছে কেন?
— আপনি কি সবসময় এত বিরক্তিকর?
— শুধু তোমার সামনে।
ইনায়া এবার তার দিকে তাকাল।
আরিশের চোখে দুষ্টুমি থাকলেও কথাটার মধ্যে অন্যরকম একটা মায়া ছিল।
কেন যেন ইনায়ার বুকের ভেতরটা একটু অন্যরকম হয়ে গেল।
পরদিন বিকেলে ইনায়া ছাদে দাঁড়িয়ে ছিল। বাতাসে তার লম্বা লালচে চুলগুলো বারবার মুখের ওপর এসে পড়ছিল।
সে বিরক্ত হয়ে চুল সরানোর চেষ্টা করছিল, এমন সময় পেছন থেকে আরিশ বলল,
— সাহায্য লাগবে, মিস ঝড়ের রানী?
ইনায়া পেছনে ফিরে তাকাল।
— আপনি আবার এখানে কী করছেন?
— তোমাকে দেখতে এসেছি।
কথাটা এত সহজভাবে বলল আরিশ যে ইনায়া কয়েক সেকেন্ড কোনো উত্তরই খুঁজে পেল না।
তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে বলল,
— আপনার কি আর কোনো কাজ নেই?
— আছে।
— তাহলে যান!
— কিন্তু তোমাকে না দেখে কাজ করতে ইচ্ছা করছে না।
ইনায়া এবার সত্যিই লজ্জা পেয়ে গেল।
নিজের অস্বস্তি ঢাকতে সে বলল,
— আপনার মাথায় সমস্যা আছে।
আরিশ হেসে বলল,
— হতে পারে। তবে সমস্যাটা কবে থেকে শুরু হয়েছে, সেটা জানি।
— কবে থেকে?
— তোমাকে দেখার পর থেকে।
ইনায়া এবার আর কোনো কথা বলল না।
কারণ, প্রথমবারের মতো তার মনে হচ্ছিল—এই মানুষটার সঙ্গে কথা বললে তার রাগ হয় ঠিকই, কিন্তু সেই রাগের আড়ালেই কোথাও একটা অদ্ভুত ভালো লাগা লুকিয়ে আছে।
কিছুক্ষণ পর হঠাৎ বাতাস জোরে বইতে শুরু করল।
ইনায়ার চুল এসে তার চোখের সামনে পড়ে গেল। সে চুল সরাতে গিয়ে হাতের আংটিটা খুলে ফেলল।
আংটিটা মেঝেতে পড়ে গড়িয়ে ছাদের এক কোণে চলে গেল।
— আরে! আমার আংটি!
ইনায়া দ্রুত এগিয়ে গেল। কিন্তু আংটিটা ধরতে গিয়ে তার পা পিছলে গেল।
— ইনায়া!
আরিশ দ্রুত তার হাত ধরে ফেলল।
এক মুহূর্তের জন্য ইনায়া আরিশের খুব কাছে এসে দাঁড়াল।
চারপাশের সব শব্দ যেন থেমে গেল।
ইনায়া অবাক চোখে তার দিকে তাকিয়ে রইল। আরিশও কিছুক্ষণ তার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকল।
তারপর আরিশ নরম গলায় বলল,
— সাবধানে থাকতে পারো না?
ইনায়া ধীরে বলল,
— আমি তো আংটিটা ধরতে যাচ্ছিলাম।
— আংটির জন্য নিজের খেয়াল রাখবে না?
— আংটিটা আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
আরিশের মুখের হাসিটা একটু ম্লান হয়ে গেল।
সে ধীরে ধীরে ইনায়াকে সোজা হয়ে দাঁড়াতে সাহায্য করল।
— বুঝেছি। তবে তোমার কাছে আংটিটা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তুমি নিজেও তার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নও।
কথাটা শুনে ইনায়া চুপ করে গেল।
আরিশ মেঝে থেকে আংটিটা তুলে তার হাতের তালুতে রাখল।
— এবার থেকে সাবধানে। ঠিক আছে?
ইনায়া মাথা নাড়ল।
কিন্তু আরিশের হাত থেকে নিজের হাত সরিয়ে নেওয়ার পরও তার মনে হচ্ছিল, সেই মুহূর্তটা যেন এখনো শেষ হয়নি।
সন্ধ্যার একটু আগে দুজন নিচে নামছিল।
সিঁড়ির মাঝখানে এসে ইনায়া হঠাৎ বলল,
— আরিশ?
— বলো।
— আপনি কি সবার সঙ্গেই এমন করেন?
আরিশ থেমে তার দিকে তাকাল।
— কেমন?
— এই যে… এত কেয়ার করেন।
আরিশ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,
— না।
ইনায়া চোখ তুলে তাকাল।
— তাহলে আমার সঙ্গে কেন?
আরিশ এক ধাপ এগিয়ে এসে মৃদু হেসে বলল,
— এই প্রশ্নের উত্তরটা এখনই দিলে তুমি বিশ্বাস করবে না।
— কেন?
— কারণ, তুমি এখনো বুঝতেই পারোনি তুমি আমার কাছে কতটা আলাদা।
ইনায়ার গাল লাল হয়ে উঠল।
সে দ্রুত অন্যদিকে তাকিয়ে বলল,
— আপনার কথা শুনলে মনে হয় আপনি সিনেমার নায়ক!
আরিশ হেসে বলল,
— আর তুমি এমন একটা মেয়ে, যার জন্য নায়ক হওয়াটাও কঠিন হয়ে যায়।
— কেন?
— কারণ তুমি একবার হাসলে আমার সব রাগ চলে যায়। আর একবার রাগ করলে তোমাকে আবার হাসানোর জন্য নতুন নতুন বুদ্ধি বের করতে হয়!
ইনায়া হেসে ফেলল।
সেই হাসিটা দেখে আরিশও হাসল।
দুজনের কেউই তখন জানত না, এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলো একদিন তাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতি হয়ে উঠবে।
রাতে নিজের ঘরে বসে ইনায়া ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ছিল।
হঠাৎ একটা মেসেজ এল।
Arish: বাসায় পৌঁছেছ?
Inaya: না, আমি এখনো চাঁদের দেশে আছি। 🙄
Arish: ভালো। সেখানে গিয়ে আমার কথা মনে পড়ছে?
Inaya: স্বপ্নেও না!
Arish: তাহলে এত তাড়াতাড়ি রিপ্লাই দিলে কেন?
ইনায়া ফোনের দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলল।
Inaya: আপনাকে ব্লক করে দেব!
Arish: করে দাও। কাল আবার তোমার সামনে এসে দাঁড়াব।
Inaya: আপনি অসম্ভব!
Arish: আর তুমি আমার সবচেয়ে প্রিয় অসম্ভব ব্যাপার।
মেসেজটা পড়ে ইনায়া কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর ফোনটা বুকে চেপে ধরে বালিশে মুখ লুকিয়ে হাসল।
— অসহ্য একটা মানুষ!
কিন্তু সেই হাসির আড়ালে যে অনুভূতিটা জন্ম নিচ্ছিল, সেটাকে আর অস্বীকার করা তার পক্ষে সহজ হচ্ছিল না।
ঠিক তখনই আরেকটা মেসেজ এল।
Arish: একটা কথা বলব?
Inaya: কী?
Arish: আজ তোমাকে ধরে ফেলেছিলাম বলে রাগ করোনি তো?
ইনায়া কিছুক্ষণ ভেবে লিখল,
Inaya: না।
কয়েক সেকেন্ড পর আরিশের উত্তর এল—
Arish: ভালো। কারণ, তোমার কিছু হয়ে গেলে আমার খুব খারাপ লাগত।
ইনায়ার মুখের হাসিটা এবার ধীরে ধীরে কোমল হয়ে এল।
সে লিখল,
Inaya: নিজেরও একটু খেয়াল রাখবেন।
মেসেজটা পাঠিয়ে সে ফোনটা পাশে রাখল।
অন্যদিকে, আরিশ নিজের ঘরে বসে মেসেজটা পড়ে মৃদু হাসল।
তারপর নিজের মনেই বলল,
— তুমি হয়তো এখনো জানো না, ইনায়া… কিন্তু তোমার ছোট্ট একটা কথাও আমার পুরো দিনটা সুন্দর করে দিতে পারে।
আর সেই রাতেই, দুজনের অজান্তে, তাদের গল্পে নতুন একটা অনুভূতির শুরু হলো।
চলবে… 🖤🌷
3 weeks ago | [YT] | 0
View 0 replies
♡𐙚 𝐋𝐮𝐜𝐚’𝐬 𝐂𝐡𝐞𝐫𝐫𝐲! 𐙚♡
মায়ার শেষ প্রহর
পর্ব — ৮
দরজার ওপাশ থেকে আবার আরিশের গলা শোনা গেল—
“ইনায়া, দরজাটা খোলো।”
ইনায়া কিছুক্ষণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
তার হাতে তখনও সেই পুরোনো ছবিটা।
ছবিটা দ্রুত নিজের জামার ভেতর লুকিয়ে দরজার কাছে গেল সে।
“আপনি এখানে?”
দরজা খুলতেই আরিশকে সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল।
আরিশ কিছুক্ষণ ইনায়ার দিকে তাকিয়ে থেকে বলল,
“তোমার ফোন বন্ধ ছিল।”
“তাতে?”
“তোমাকে কয়েকবার কল করেছিলাম।”
ইনায়া ফোনের দিকে তাকাল।
সত্যিই—অনেকগুলো মিসড কল।
“কী হয়েছে?”
আরিশ এবার একটু গম্ভীর হলো।
“তোমার বাবার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম।”
ইনায়ার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।
“বাবার সঙ্গে?”
“হ্যাঁ। কিন্তু উনি আমাকে বললেন কাল আসতে।”
ইনায়া স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই আরিশের চোখ পড়ল তার হাতে থাকা কালো বাক্সটার দিকে।
“ওটা কী?”
ইনায়া সঙ্গে সঙ্গে বাক্সটা পেছনে সরিয়ে নিল।
“কিছু না।”
আরিশ ভ্রু কুঁচকে বলল,
“কিছু না হলে লুকাচ্ছ কেন?”
“আপনি এত প্রশ্ন করেন কেন?”
“কারণ তুমি সবসময় এমনভাবে কথা বলো, যেন কিছু একটা লুকাচ্ছ।”
ইনায়া চুপ করে গেল।
আরিশের চোখ এবার তার মুখ থেকে সরে গিয়ে স্টাডি রুমের ভেতরে গেল।
“তুমি এখানে একা কী করছিলে?”
“বই খুঁজছিলাম।”
“রাতে?”
“হ্যাঁ। বইয়েরও তো রাত হয়।”
আরিশ হেসে ফেলল।
“তোমার যুক্তিগুলো সত্যিই অদ্ভুত।”
ইনায়া বিরক্ত হয়ে বলল,
“আপনি এখন যেতে পারেন।”
আরিশ চলে যাওয়ার জন্য ঘুরতেই হঠাৎ থেমে গেল।
“ইনায়া।”
“হুম?”
“তোমার হাতে যে আংটিটা…”
ইনায়া স্থির হয়ে গেল।
আরিশ ধীরে ধীরে বলল,
“ওটা কোথায় পেয়েছ?”
ইনায়া এবার আর হাসল না।
“কেন?”
“কারণ…”
আরিশ কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।
“আমি এই আংটিটা আগে দেখেছি।”
ইনায়ার চোখ বড় হয়ে গেল।
“কোথায়?”
আরিশ উত্তর দিল না।
শুধু বলল,
“তোমার বাবার পুরোনো একটা ছবিতে।”
ইনায়ার বুক ধক করে উঠল।
“আপনি ওই ছবি দেখেছেন?”
“অনেক বছর আগে।”
“কোন ছবি?”
আরিশ কিছু বলার আগেই ওপরতলা থেকে একটা শব্দ হলো।
ধাম!
দুজনেই চমকে ওপরে তাকাল।
ইনায়া দৌড়ে সিঁড়ির দিকে গেল।
আরিশও তার পেছনে গেল।
উপরে গিয়ে দেখা গেল, করিডোরের শেষের ঘরের দরজা খোলা।
ঘরটা অন্ধকার।
ইনায়া ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকল।
মেঝেতে পড়ে আছে একটা পুরোনো কাঠের বাক্স।
আর বাক্সটার পাশে…
একটা ছবি।
ইনায়া ছবিটা তুলে নিল।
তার চোখ স্থির হয়ে গেল।
ছবিতে তার বাবা, সেই অচেনা মহিলা…
আর তাদের পাশে দাঁড়িয়ে আছে ছোট্ট একটা মেয়ে।
মেয়েটার মুখ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না।
কিন্তু তার হাতে—
ঠিক একই রুপালি আংটি।
ইনায়া ধীরে ধীরে ছবিটা উল্টে দিল।
পেছনে লেখা—
“ইনায়া জানার আগেই তাকে এখান থেকে দূরে রাখতে হবে।”
ইনায়ার হাত কেঁপে উঠল।
আরিশ তার পাশে এসে দাঁড়াল।
কিছুক্ষণ ছবিটার দিকে তাকিয়ে থেকে সে খুব শান্ত গলায় বলল—
“ইনায়া…”
“হুম?”
“তুমি কি নিশ্চিত… তুমি তোমার পরিবারের সবাইকে চেনো?”
3 weeks ago (edited) | [YT] | 0
View 0 replies
♡𐙚 𝐋𝐮𝐜𝐚’𝐬 𝐂𝐡𝐞𝐫𝐫𝐲! 𐙚♡
মায়ার শেষ প্রহর
পর্ব — ৭
বিকেলের দিকে বাড়িটা বেশ শান্ত হয়ে গেল।
জায়রা নিজের ঘরে। আরিশও চলে গেছে।
আর ইনায়া বারান্দায় বসে চুপচাপ আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল।
হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠল।
অচেনা নম্বর।
ইনায়া কয়েক সেকেন্ড ফোনটার দিকে তাকিয়ে থেকে কলটা ধরল।
“হ্যালো?”
ওপাশ থেকে কোনো উত্তর নেই।
“হ্যালো? কে বলছেন?”
কয়েক সেকেন্ড নীরব থাকার পর খুব নিচু একটা কণ্ঠ ভেসে এল—
“তুমি এখনো ওই আংটিটা পরে আছ?”
ইনায়ার মুখের হাসি মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল।
সে নিজের আঙুলের দিকে তাকাল।
রুপালি আংটিটা তখনও তার আঙুলে।
“আপনি কে?”
ওপাশের মানুষটা কিছু বলল না।
ইনায়া আবার বলল,
“আমার নম্বর পেলেন কোথা থেকে?”
এবার শুধু একটা কথা শোনা গেল—
“তোমার বাবাকে জিজ্ঞেস করো।”
কল কেটে গেল।
ইনায়া স্থির হয়ে বসে রইল।
তারপর দ্রুত নিজের ফোনের স্ক্রিনে নম্বরটা দেখল।
No Caller ID.
“এটা কীভাবে সম্ভব…?”
ঠিক তখনই পেছন থেকে যায়রার গলা—
“আপু?”
ইনায়া চমকে ফোনটা লুকিয়ে ফেলল।
“কী হয়েছে?”
“তুমি এত ভয় পেয়েছ কেন?”
“কিছু না।”
জায়রা সন্দেহের চোখে তাকাল।
“সত্যি?”
ইনায়া জোর করে হাসল।
“হ্যাঁ।”
কিন্তু তার মাথায় তখন শুধু একটা কথাই ঘুরছিল—
“তোমার বাবাকে জিজ্ঞেস করো।”
রাতে সবাই ঘুমিয়ে যাওয়ার পর ইনায়া নিচে নামল।
তার বাবার পুরোনো স্টাডি রুমে ঢুকে সে কিছু খুঁজতে লাগল।
কী খুঁজছে, সে নিজেও জানে না।
শুধু মনে হচ্ছিল, আংটিটার সঙ্গে তার বাবার কোনো সম্পর্ক আছে।
পুরোনো একটা ড্রয়ার খুলতেই কিছু কাগজের নিচে একটা ছোট কালো বাক্স চোখে পড়ল।
ইনায়া বাক্সটা হাতে নিল।
তালাটা খোলা ছিল।
ভেতরে ছিল একটা পুরোনো ছবি।
ছবিটা হাতে নিয়েই ইনায়া থমকে গেল।
ছবিতে তার বাবা দাঁড়িয়ে আছেন…
কিন্তু পাশে থাকা মেয়েটাকে সে চিনতে পারছে না।
আর সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয়—
মেয়েটার হাতে ঠিক একই রকম রুপালি আংটি।
ইনায়া ছবিটা উল্টে দেখল।
পেছনে মাত্র একটি তারিখ লেখা—
“১৭ জুন, ২০১০”
তার নিচে ছোট করে আরও একটা লাইন—
“যদি ইনায়া কখনো সত্যিটা জানতে চায়…”
ইনায়ার হাত কেঁপে উঠল।
লাইনটা সেখানেই শেষ।
বাকিটা যেন কেউ ছিঁড়ে ফেলেছে।
ঠিক তখনই স্টাডি রুমের দরজার বাইরে কারও পায়ের শব্দ হলো।
ইনায়া দ্রুত ছবিটা বুকের কাছে চেপে ধরল।
পায়ের শব্দটা থেমে গেল দরজার ঠিক সামনে।
তারপর—
টক… টক…
দরজায় দুবার শব্দ হলো।
ইনায়া নিঃশ্বাস আটকে দাঁড়িয়ে রইল।
বাইরে থেকে একটা পরিচিত কণ্ঠ ভেসে এল—
“ইনায়া… দরজাটা খোলো।”
ইনায়া চোখ বড় করে তাকিয়ে রইল।
এত রাতে এখানে আরিশ কীভাবে এল?
চলবে.......
3 weeks ago | [YT] | 0
View 0 replies
♡𐙚 𝐋𝐮𝐜𝐚’𝐬 𝐂𝐡𝐞𝐫𝐫𝐲! 𐙚♡
মায়ার শেষ প্রহর
পর্ব — ৬
সকালের রোদটা জানালার পর্দা ভেদ করে ঘরের মেঝেতে এসে পড়েছে।
ইনায়া চোখ কচলাতে কচলাতে বিছানা থেকে উঠল। ঘুম জড়ানো চোখে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চুলগুলো ঠিক করতে গিয়ে হঠাৎ থেমে গেল।
“এত চুল একজন মানুষের হয় কীভাবে!” 😑
নিজের চুলের দিকেই বিরক্ত হয়ে তাকিয়ে থেকে আবার ফিসফিস করে বলল,
“কেটে ফেলব একদিন… সত্যি কেটে ফেলব।”
কিন্তু কথাটা বলেই নিজেই হেসে ফেলল।
নিচে নামতেই যায়রা সোফায় বসে ফোন দেখছিল।
ইনায়াকে দেখে যায়রা বলল, “আপু, তোমার চুলের সাথে আবার ঝগড়া হয়েছে?”
“হ্যাঁ। আর আজ থেকে ওর সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।”
“তাহলে চিরুনি দিয়ে এতক্ষণ কী করছিলে?”
“শেষবারের মতো কথা বলছিলাম।” 😌
যায়রা হেসে ফেলল।
ঠিক তখনই বাইরে গাড়ির শব্দ হলো।
ইনায়া জানালার দিকে তাকিয়ে দেখল, আরিশ এসেছে।
তার মুখটা মুহূর্তেই একটু গম্ভীর হয়ে গেল।
“ও আবার এখানে কেন?”
যায়রা মুচকি হেসে বলল, “কেন? তোমাকে দেখতে এসেছে নাকি?”
“আমাকে দেখার মতো আর মানুষ পৃথিবীতে নেই?”
“আছে। কিন্তু তোমার মতো বিরক্তিকর মানুষ আর নেই।”
“যায়রা!”
দুজনের কথার মাঝেই দরজা খুলে আরিশ ভেতরে ঢুকল।
আরিশ দুজনের দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল, “সকাল থেকেই ঝগড়া?”
ইনায়া সঙ্গে সঙ্গে বলল, “আমরা ঝগড়া করছি না।”
যায়রা বলল, “হ্যাঁ, আমরা খুব শান্তিপূর্ণভাবে একে অপরকে অপমান করছি।”
আরিশ হেসে ফেলল।
ইনায়া বিরক্ত হয়ে তাকিয়ে বলল, “আপনি হাসছেন কেন?”
“কারণ তোমাদের দুজনকে দেখে মনে হচ্ছে, এই বাড়িতে শান্তি বলে কোনো জিনিস নেই।”
“শান্তি চাইলে আপনি চলে যেতে পারেন।”
আরিশ কিছু বলল না। শুধু ইনায়ার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল।
কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে তার চোখ আটকে গেল ইনায়ার হাতে।
ইনায়ার আঙুলে ছোট্ট একটা রুপালি আংটি।
আরিশ কয়েক সেকেন্ড চুপ করে সেটার দিকে তাকিয়ে থাকল।
“আংটিটা নতুন?”
ইনায়া নিজের হাতের দিকে তাকাল।
“এটা?”
“হুম।”
ইনায়া একটু থেমে বলল, “অনেক পুরোনো।”
“কার দেওয়া?”
প্রশ্নটা শুনে ইনায়ার মুখের হাসিটা সামান্য থেমে গেল।
তারপর স্বাভাবিকভাবে বলল,
“মনে নেই।”
আরিশ আর কিছু জিজ্ঞেস করল না।
কিন্তু যাওয়ার সময় একবার পেছনে তাকিয়ে সেই আংটির দিকে আবার তাকাল।
ইনায়া সেটা খেয়াল করল।
তারপর নিজের আংটিটা মুঠোর ভেতর লুকিয়ে ফেলল।
খুব ছোট একটা ব্যাপার…
কিন্তু কেন যেন মনে হলো, এই আংটির গল্পটা এতটা সাধারণ নয়।
চলবে........
3 weeks ago (edited) | [YT] | 0
View 0 replies
♡𐙚 𝐋𝐮𝐜𝐚’𝐬 𝐂𝐡𝐞𝐫𝐫𝐲! 𐙚♡
মায়ার শেষ প্রহর
পর্ব — ৫
ঘরের দরজাটা বন্ধ করার পরও ইনায়ার মনে হচ্ছিল, কেউ যেন তাকে দেখছে।
সেই একই অনুভূতি।
যেটা গত কয়েকদিন ধরে বারবার তাকে অস্বস্তিতে ফেলছে।
ইনায়া ধীরে ধীরে জানালার কাছে গিয়ে পর্দাটা সরাল।
বাইরে নিস্তব্ধ রাস্তা। দূরের একটা স্ট্রিটলাইটের আলোয় চারপাশটা আবছা দেখা যাচ্ছে।
কেউ নেই।
তবুও…
তার চোখ আটকে গেল রাস্তার অপর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কালো গাড়িটার দিকে।
গাড়িটা কয়েক মিনিট ধরেই সেখানে দাঁড়িয়ে আছে।
ইনায়ার ভ্রু কুঁচকে গেল।
“এটা আবার কী?”
সে আরও ভালো করে তাকানোর চেষ্টা করল।
হঠাৎ গাড়ির ভেতর থেকে একটা ক্ষীণ আলো জ্বলে উঠল।
কেউ একজন ফোনের স্ক্রিন দেখছে।
তারপর—
গাড়িটা ধীরে ধীরে সরে গেল।
ইনায়া জানালা থেকে সরে এল।
তার বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা ভয় জমে উঠেছে।
কিন্তু ভয়টা ঠিক কিসের, সে নিজেও জানে না।
পরদিন সকালে।
“ইনায়া! তাড়াতাড়ি নিচে আয়!”
যায়রার চিৎকারে ইনায়া বিরক্ত মুখে সিঁড়ি দিয়ে নামতে লাগল।
“সকাল সকাল এত চিৎকার করছিস কেন?”
যায়রা মুখ বাঁকিয়ে বলল,
“তোর জন্যই তো! তুই আবার আমার জিনিসটা—”
“কোন জিনিস?”
“আমার নীল ডায়েরিটা।”
ইনায়া থেমে গেল।
“আমি নিইনি।”
যায়রা এবার একটু অবাক হলো।
“তাহলে ডায়েরিটা গেল কোথায়?”
দুজনেই কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর ইনায়ার চোখ হঠাৎ টেবিলের দিকে গেল।
সেখানে একটা ছোট্ট কাগজ পড়ে আছে।
সে কাগজটা তুলে নিল।
মাত্র একটি লাইন লেখা—
“যেটা খুঁজছো, সেটা তোমাদের ঘরেই আছে।”
ইনায়ার মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।
যায়রা ধীরে ধীরে তার পাশে এসে দাঁড়াল।
“ইনায়া… এটা কে লিখেছে?”
ইনায়া কোনো উত্তর দিল না।
কারণ ঠিক সেই মুহূর্তে তার মাথায় একটা কথা এসেছে।
গত রাতে সে যে কালো গাড়িটা দেখেছিল…
আর এই চিরকুট—
দুটো কি একই রহস্যের অংশ?
সন্ধ্যায় ইনায়া একা ঘরে বসে ডায়েরিটা খুঁজছিল।
হঠাৎ বিছানার নিচে হাত যেতেই তার আঙুলে শক্ত কিছু একটা ঠেকল।
সে টেনে বের করল একটা ছোট্ট কাঠের বাক্স।
বাক্সটার ওপর অদ্ভুত একটা চিহ্ন আঁকা।
একটা অর্ধচন্দ্রের মতো আকৃতি।
ইনায়া চিহ্নটার দিকে তাকিয়ে রইল।
কোথায় যেন সে এই চিহ্নটা আগে দেখেছে।
কিন্তু কোথায়?
মনে করার চেষ্টা করতেই মাথার ভেতর ঝাপসা একটা দৃশ্য ভেসে উঠল—
একটা পুরোনো বাড়ি…
একজন মানুষ…
আর সেই একই চিহ্ন।
ইনায়া চোখ বন্ধ করে ফেলল।
“আমি এটা আগে কোথায় দেখেছি?”
ঠিক তখনই—
টক… টক…
জানালায় শব্দ হলো।
ইনায়া চমকে তাকাল।
কেউ নেই।
কিন্তু জানালার কাঁচে একটা ছোট্ট কালো খাম আটকে আছে।
সে ধীরে ধীরে খামটা খুলল।
ভেতরে একটা ছবি।
ছবিটা দেখে ইনায়ার শরীর যেন মুহূর্তের জন্য জমে গেল।
ছবিতে সে নিজেই আছে।
কিন্তু ছবিটা তোলা হয়েছে বহু বছর আগে।
আর ছবির পেছনে লেখা—
“তুমি যেটা ভুলে গেছো, সেটা কেউ একজন এখনো মনে রেখেছে।”
ইনায়ার হাত কেঁপে উঠল।
সে ছবিটা শক্ত করে ধরে ফিসফিস করে বলল—
“কিন্তু… আমাকে এতদিন ধরে কে অনুসরণ করছে?”
দরজার বাইরে তখন কারও পায়ের শব্দ শোনা গেল।
একবার।
দুবার।
তারপর থেমে গেল।
ইনায়া ধীরে ধীরে দরজার দিকে এগিয়ে গেল।
হাতটা দরজার নবের ওপর রাখতেই বাইরে থেকে খুব পরিচিত একটা কণ্ঠ ভেসে এলো—
“ইনায়া… দরজা খোলো।”
ইনায়া স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
কারণ সেই কণ্ঠটা শোনার পর তার মনে হলো—
এই রহস্যের সঙ্গে আরিশেরও কোনো সম্পর্ক আছে।
পরের পর্বে চাইলে �আরিশকে সরাসরি এই রহস্যের মধ্যে ঢুকিয়ে, �তার কাছে থাকা আরেকটা গোপন তথ্য প্রকাশ করতে পারি।
চলবে........
3 weeks ago | [YT] | 0
View 0 replies
♡𐙚 𝐋𝐮𝐜𝐚’𝐬 𝐂𝐡𝐞𝐫𝐫𝐲! 𐙚♡
মায়ার শেষ প্রহর
পর্ব ৪ — বন্ধ দরজার ওপাশে
বাড়ি ফিরে ইনায়া প্রথমেই বুঝতে পারল, কিছু একটা ঠিক নেই।
ড্রয়িংরুমে সাধারণত এই সময় টেলিভিশনের শব্দ থাকে, যায়রার হাসির শব্দ থাকে, মায়ের সঙ্গে তার গল্প থাকে।
কিন্তু আজ পুরো বাড়িটা অস্বাভাবিক শান্ত।
ইনায়া ধীরে ধীরে মায়ের ঘরের সামনে গিয়ে দাঁড়াল।
দরজাটা ভেতর থেকে বন্ধ।
— “মা?”
কোনো উত্তর নেই।
— “মা, আমি এসেছি।”
কিছুক্ষণ পর দরজা খুলে গেল।
তাহমিনা দাঁড়িয়ে আছেন।
মুখে হাসি নেই।
ইনায়া অবাক হয়ে বলল,
— “কী হয়েছে?”
তাহমিনা কিছুক্ষণ মেয়ের দিকে তাকিয়ে থেকে বললেন,
— “তুমি আজ কোথায় গিয়েছিলে?”
— “জায়রা আর কয়েকজনের সঙ্গে বাইরে।”
— “কার সঙ্গে?”
ইনায়া একটু থেমে বলল,
— “জায়েনের সঙ্গে। আরিশও ছিল।”
“আরিশ” নামটা শুনেই তাহমিনার মুখের অভিব্যক্তি বদলে গেল।
মাত্র এক মুহূর্তের জন্য।
কিন্তু ইনায়ার চোখ সেটা এড়িয়ে গেল না।
— “মা?”
তাহমিনা দ্রুত নিজেকে সামলে নিলেন।
— “কিছু না।”
— “তুমি আরিশের নাম শুনে এমন করলে কেন?”
— “আমি কাউকে চিনি না।”
ইনায়া চুপ করে গেল।
কথাটা অদ্ভুত লাগল।
কারণ তার মা সাধারণত কখনো এমনভাবে কথা বলেন না।
তাহমিনা অন্যদিকে তাকিয়ে বললেন,
— “তুমি তোমার ঘরে যাও।”
— “কিন্তু—”
— “ইনায়া।”
কণ্ঠটা এবার কঠিন।
ইনায়া আর কিছু বলল না।
চুপচাপ ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
রাত প্রায় সাড়ে দশটা।
ইনায়া বিছানায় বসে ফোন দেখছিল।
হঠাৎ তার ফোনে একটা অচেনা নম্বর থেকে মেসেজ এল।
“আজ তোমার মায়ের মুখটা খেয়াল করেছিলে?”
ইনায়ার বুক ধক করে উঠল।
সে সঙ্গে সঙ্গে রিপ্লাই করল—
“আপনি কে?”
কিছুক্ষণ কোনো উত্তর এল না।
তারপর—
“যে সত্যিটা তোমার পরিবার তোমার কাছ থেকে লুকিয়ে রেখেছে, সেটা আমি জানি।”
ইনায়া কিছুক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর লিখল—
“কী সত্যি?”
এবারও কোনো উত্তর নেই।
শুধু কয়েক সেকেন্ড পর আরেকটা ছবি এল।
ইনায়া ছবিটা খুলতেই তার মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।
ছবিতে তার মা।
কিন্তু ছবিটা অনেক বছর আগের।
তাহমিনা দাঁড়িয়ে আছেন একটা অচেনা বাড়ির সামনে।
তার পাশে আরও দুজন মানুষ।
একজন পুরুষ।
আর একজন ছোট মেয়ে।
ইনায়া ছবিটা জুম করে দেখল।
ছোট মেয়েটার মুখটা স্পষ্ট নয়।
কিন্তু তার গায়ে থাকা ছোট্ট লকেটটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
ইনায়া নিজের গলার দিকে হাত দিল।
তার গলায় থাকা লকেটটা ঠিক একই রকম।
সে ফিসফিস করে বলল,
— “এটা কীভাবে সম্ভব?”
ঠিক তখনই দরজায় টোকা পড়ল।
ইনায়া তাড়াতাড়ি ফোনটা লুকিয়ে ফেলল।
— “কে?”
দরজা খুলে যায়রা ঢুকল।
— “এত রাতে এখনো জেগে আছিস?”
ইনায়া কিছু বলল না।
যায়রা তার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,
— “কী হয়েছে?”
— “কিছু না।”
— “তুই মিথ্যা বলছিস।”
ইনায়া এবার মৃদু হেসে বলল,
— “ঘুমাতে যা।”
যায়রা চলে যাওয়ার পর ইনায়া আবার ফোনটা হাতে নিল।
কিন্তু এবার—
মেসেজগুলো নেই।
ছবিটাও নেই।
চ্যাটটা যেন কখনো ছিলই না।
ইনায়া হতভম্ব হয়ে বসে রইল।
তারপর হঠাৎ ফোনের গ্যালারিতে একটা নতুন ছবি দেখতে পেল।
ছবিটা আজকের।
কয়েক ঘণ্টা আগে ক্যাফের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা ইনায়া ও আরিশের ছবি।
কেউ তাদের ছবি তুলেছিল।
কিন্তু কে?
ইনায়া ধীরে ধীরে জানালার দিকে তাকাল।
জানালার পর্দা নড়ছে।
সে উঠে গিয়ে পর্দা সরাল।
বাইরে অন্ধকার রাস্তা।
কেউ নেই।
শুধু রাস্তার একপাশে একটা কালো গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল।
আর গাড়ির ভেতর থেকে—
কেউ একজন তাদের বাড়ির দিকে তাকিয়ে ছিল।
ইনায়া চোখের পলক ফেলতেই গাড়িটা ধীরে ধীরে চলে গেল।
সে জানত না—
এই রাতের পর তার স্বাভাবিক জীবনটা আর আগের মতো থাকবে না।
চলবে......
4 weeks ago | [YT] | 1
View 0 replies
♡𐙚 𝐋𝐮𝐜𝐚’𝐬 𝐂𝐡𝐞𝐫𝐫𝐲! 𐙚♡
মায়ার শেষ প্রহর
পর্ব ৩ — বিপদে পড়া পরিচয়
— “তুই নিশ্চিত এটা ঠিক জায়গা?”
জায়রা গাড়ি থেকে নেমে চারপাশে তাকিয়ে বলল,
— “একশো ভাগ।”
ইনায়া ভ্রু কুঁচকে তাকাল।
— “তোর একশো ভাগ মানেই আমার কাছে পঞ্চাশ ভাগ বিপদ।”
জায়রা হাসল।
আজ তারা শহরের বাইরে একটা বড় লেকসাইড পার্কে এসেছে। জায়েন আগেই বলেছিল, এখানে একটা ছোট্ট ফুড ফেস্টিভ্যাল হচ্ছে। সবাই মিলে একটু ঘুরবে, খাবে, ছবি তুলবে—এই ছিল পরিকল্পনা।
কিন্তু ইনায়া নামার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই একটা সমস্যায় পড়ে গেল।
তার হাতে থাকা আইসক্রিমটা হঠাৎ পাশ দিয়ে দৌড়ে যাওয়া একটা ছোট বাচ্চার জামায় লেগে গেল।
ইনায়া থমকে গেল।
বাচ্চাটা তার দিকে তাকিয়ে কাঁদো কাঁদো মুখ করতেই ইনায়া হাঁটু গেড়ে বসে বলল,
— “আচ্ছা আচ্ছা, কাঁদিস না। এটা আমার ভুল।”
বাচ্চাটার মা এগিয়ে এসে হেসে বললেন,
— “কোনো সমস্যা নেই।”
ইনায়া স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।
ঠিক তখন পাশ থেকে একটা গলা—
— “আপনার পাঁচ মিনিটেই এত কাণ্ড হয়ে গেল?”
ইনায়া ঘুরে তাকাল।
আরিশ।
সে ভ্রু তুলে তাকিয়ে আছে।
ইনায়া বলল,
— “আপনি আবার!”
— “আমি তো ভাবছিলাম আজ শান্তিতে কাটবে।”
— “আমার জন্য আপনার দিন নষ্ট হচ্ছে?”
— “এখনও হয়নি। তবে সম্ভাবনা আছে।”
ইনায়া চোখ সরু করল।
— “আপনি আমাকে খুব বেশি চিনে ফেলেছেন মনে হচ্ছে।”
আরিশ হেসে বলল,
— “আপনাকে বুঝতে খুব বেশি সময় লাগে না।”
— “ওহ! তাই?”
ইনায়া হাতে থাকা আইসক্রিমটা তুলে ধরল।
— “তাহলে এটা ধরুন।”
আরিশ এক পা পিছিয়ে গেল।
— “না।”
— “কেন?”
— “আপনার হাতে থাকলে এটা নিরাপদ না।”
জায়েন পাশ থেকে হেসে উঠল।
— “ভাই, তুই আজ ঠিক কথা বলেছিস।”
ইনায়া সঙ্গে সঙ্গে জায়েনের দিকে তাকাল।
— “আপনিও ওর দলে?”
— “আমি সত্যের দলে।”
— “তাহলে আজ থেকে আপনি আমার শত্রু।”
জায়েন নাটকীয়ভাবে বুকের ওপর হাত রাখল।
— “এত দ্রুত সম্পর্ক শেষ!”
যায়রা হেসে বলল,
— “তোদের নিয়ে আমি আর পারছি না।”
কিছুক্ষণ পর সবাই একটা গেমের স্টলে গেল।
স্টলের সামনে লেখা—
“এক মিনিটে তিনটা রিং ফেলুন, জিতুন বিশাল টেডি।”
ইনায়ার চোখ চকচক করে উঠল।
— “আমি খেলব।”
আরিশ বলল,
— “আপনি পারবেন?”
ইনায়া তার দিকে তাকাল।
— “আপনি কি আমাকে চ্যালেঞ্জ করলেন?”
— “না। শুধু জিজ্ঞেস করলাম।”
— “এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে গেছে।”
জায়েন হেসে বলল,
— “এই তো আসল মজা!”
ইনায়া তিনটা রিং হাতে নিল।
প্রথমটা—
মিস।
দ্বিতীয়টা—
মিস।
তৃতীয়টা—
সোজা পাশের বাক্সে গিয়ে পড়ল।
সবাই চুপ।
জায়েন মুখ চেপে হাসছে।
আরিশ বলল,
— “অসাধারণ।”
ইনায়া বিরক্ত হয়ে বলল,
— “হাসবেন না!”
— “আমি হাসছি না।”
— “আপনার মুখ হাসছে।”
আরিশ এবার সত্যিই হেসে ফেলল।
ইনায়া তার দিকে তাকিয়ে বলল,
— “ঠিক আছে। এবার আপনি খেলুন।”
— “আমি?”
— “হ্যাঁ।”
আরিশ তিনটা রিং নিল।
প্রথমটা—
সফল।
দ্বিতীয়টা—
সফল।
তৃতীয়টাও—
সফল।
স্টলের লোকটা একটা বিশাল টেডি এগিয়ে দিল।
জায়েন চিৎকার করে বলল,
— “ওহ! প্রেমের প্রথম পুরস্কার!”
— “জায়েন!”
আরিশ আর ইনায়া দুজনেই একসঙ্গে চিৎকার করল।
জায়েন হাসতে হাসতে পিছিয়ে গেল।
— “আচ্ছা আচ্ছা, কিছু বলছি না!”
আরিশ টেডিটা ইনায়ার দিকে এগিয়ে দিল।
— “নিন।”
ইনায়া অবাক হয়ে বলল,
— “আমাকে?”
— “আপনি তো খেলেছিলেন।”
— “কিন্তু জিতেছেন আপনি।”
— “তাই তো আপনাকে দিচ্ছি।”
ইনায়া টেডিটা হাতে নিল।
তার মুখে অজান্তেই হাসি ফুটে উঠল।
— “থ্যাঙ্ক ইউ।”
আরিশ শুধু মাথা নেড়ে বলল,
— “ওয়েলকাম।”
বিকেলের শেষে সবাই লেকের পাশে বসেছিল।
হঠাৎ ইনায়ার ফোনটা বেজে উঠল।
স্ক্রিনে মায়ের কল।
— “হ্যালো, মা?”
ওপাশ থেকে তাহমিনার কণ্ঠ কিছুটা অস্থির শোনাল।
— “ইনায়া, তুমি কোথায়?”
— “বাইরে। কেন?”
কিছুক্ষণ নীরবতা।
তারপর তাহমিনা বললেন,
— “বাড়ি ফিরে আমার সঙ্গে একটু কথা বলবে।”
— “কী হয়েছে?”
— “ফিরে এসো। তারপর বলব।”
কল কেটে গেল।
ইনায়া ফোনটা নামিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
যায়রা জিজ্ঞেস করল,
— “কী হয়েছে?”
ইনায়া মাথা নাড়ল।
— “জানি না।”
আরিশ দূর থেকে কথাটা শুনলেও কিছু বলল না।
শুধু তার চোখে এক মুহূর্তের জন্য অদ্ভুত একটা চিন্তার ছাপ দেখা গেল।
আর সেই মুহূর্তেই—
ইনায়ার হাতে থাকা টেডিটার ভেতর থেকে একটা ছোট্ট কাগজ মাটিতে পড়ে গেল।
কেউ খেয়াল করল না।
শুধু আরিশের চোখে পড়ল।
সে নিচু হয়ে কাগজটা তুলে নিল।
কাগজে লেখা মাত্র তিনটি শব্দ—
“তাকে এখনও বলো না।”
আরিশ ধীরে ধীরে কাগজটা ভাঁজ করল।
ইনায়ার দিকে তাকাল।
তারপর কাগজটা নিজের পকেটে রেখে দিল।
কেন—সেটা সে নিজেও জানত না।
চলবে...........
4 weeks ago | [YT] | 1
View 0 replies
Load more