Shaon’s Travel Tapestry

This is my travel tapestry — full of places, faces, flavors, and feelings. I'm Shaon, and I travel to discover more than just sights. Come along if you love exploring beyond the brochure.


Shaon’s Travel Tapestry

নাইনটিজের যারা আছে তারা বিষয়টা খুব সুন্দরভাবে রিলেট করতে পারবে। যাদের বাসায় সিআরটি টিভি ছিল, তারা একটা এন্টেনা লাড়াচাড়া করত এমন একটা আনপপুলার র‍্যান্ডম শো দেখার জন্য। আর কী পরিমাণ আর্জ ছিল, যেটা এখন কাউরে জোর-জবরদস্তি করে বেঁধে টাকা অফার করেও দেখানো সম্ভব না। অথচ এখন টাকা দিয়ে সাবস্ক্রাইব করা ওটিটি কম-বেশি সবার ফোনেই লগইন করা থাকে, কিন্তু একটা বয়স পরে টাকার পিছে দৌড়াতে দৌড়াতে এমন অবস্থা হইছে—রাতে শোয়ার সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রল করেও দেখার কিছু থাকে না। মানে চোখের সামনে এত এত কনটেন্ট—ফেসবুক, ইউটিউব আর ইনস্টাগ্রামে আমরা দেখি—প্রতিদিন আসলে কী দেখি, আমরা নিজেরাই জানি না। তো আমাদের এই জেনারেশনের ইমোশনাল নাম্বনেসের যে মহামারি, এর পিছনে এটাও একটা কারণ।
যাই হোক, একদিন উইকেন্ডে ডিসাইড করলাম—আজকে সব বাদ দিয়ে একটা ভালো কোয়ালিটি মুভি দেখব। অনেকক্ষণ পরে আশির দশকের একটা ইংলিশ মুভি সামনে আসল, ইমিডিয়েটলি দেখা শুরু করলাম যাতে আবার ডিসট্র্যাক্ট হয়ে না যাই। মুভিটা দেখে এত নস্টালজিক হয়ে যাব, এটা ভাবতেই পারিনি।
জীবন চলার পথে আমাদের ছোটকাল থেকে কত ধরনের বন্ধু-বান্ধব হয়—এর মধ্যে ভালো, খারাপ, স্বার্থপর, নিঃস্বার্থ, চতুর, চরিত্রহীন, নেশাখোর, সহজ-সরল—সব ক্যাটাগরিরই থাকে। যাদের সাথে নিজের ভাইব মিলে, তাদের ছাড়া অন্যদের সাথে খুব একটা ক্লোজ হওয়া যায় না।
আর আপনি যদি আপনার আর্লি টুয়েন্টিজের আগেই আর্ন করা শুরু করেন বা পকেটে পর্যাপ্ত পকেট মানি থাকে, তাহলে আপনার আশেপাশে কিছু বেকার, চতুর সো-কল্ড বন্ধু-বান্ধব গজাবে, যারা আপনাকে সবসময় বন্ধু কম, তাদের নিড ফুলফিলমেন্টের ম্যাটেরিয়াল বেশি মনে করবে। যেমন শুরুতে বলবে—"বন্ধু, আজকে রাতে আমার বাসায় স্টে ওভার দে, একসাথে মুভি দেখমু। আর আসার টাইমে কয়ডা বিড়ি নিয়ে আসিস।" মূলত মুভি বা স্টে ওভারের ওর কোনো উদ্দেশ্য না, ওর কাছে সিগারেট কেনার টাকা নাই—তাই একটা কোয়ালিটি টাইম স্পেন্টের অজুহাতে এই ট্রেডটা করে।
তারপর আরেক কিসিম আছে—এইটা আরো ইন্টারেস্টিং। এরা “বন্ধু বন্ধু” করে মুখে ফেনা তুলে ফেলবে, বলবে—বন্ধুর বিপদে বন্ধু যদি পাশে না থাকি, তাহলে কিসের বন্ধু! তুই তো আমার ভাই! বাসায় ডেকে জোর করে ভাত খাওয়াবে, রাতে জোর করে শোয়াবে, সকালে হাজার মানা করলেও জোর করে নাস্তা করাবে—পারলে নিজের বোন থাকলে তাকেও কাঁধে তুলে দিবে। মানে মা-বাবার পরে দুনিয়ার সবচেয়ে আপন সাজার যত চেষ্টা আছে, সব করবে। তারপর আস্তে আস্তে বিজনেসে ইনভেস্টমেন্টের কথা, টাকা-পয়সা ধার চাওয়া, ধার নিয়ে সঠিক সময়ে ফেরত না দেওয়া—এবং সেই টাকা উঠাতে আপনাকে এমনও বলতে হতে পারে যে আপনার কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে, ডাক্তার দেখানোর টাকা নাই। এটা রিয়েল লাইফ অভিজ্ঞতা, ভাই।
মানে পুরাটা টাইম ওদের মাথায় একটা ব্লুপ্রিন্ট করা থাকে—স্টেপ বাই স্টেপ কীভাবে একটা মানুষকে এক্সপ্লয়েট করবে। এরা মূলত সবাইকে টার্গেট করে না। আপনি যদি একজন ভালো মানুষ হন, ভেতরে পেঁচগোছ না থাকে, প্রচুর ফ্লেক্সিবল হন, নিঃস্বার্থভাবে মানুষকে সাহায্য করার মানসিকতা থাকে—তাহলে আপনি এদের টার্গেটের একদম টপ লিস্টে থাকবেন। আপনার সময় এবং টাকা—দুইটাই এরা ড্রেইন করে যে আনন্দ পায়, তা আর অন্য কিছুতে পায় না। এটলিস্ট, এদের থেকে বিড়ির সাথে মুভি আর স্টে ওভারের ট্রেড করা বন্ধুগুলো তুলনামূলক ভালো—কারণ ওদের সাথে কিছু ভালো মেমোরি থাকে।
এখন আপনি মনে মনে ভাবতে পারেন—আপনার সব বন্ধু খারাপ আর আপনি দুধে ধোয়া তুলসী পাতা। না, চোদনামি আপনিও করেন। আপনার চোদনামি বাকিরা দেখে বলাবলি করে। না হলে আপনাকে টপ লিস্টে রাখে কেন?
এবার আসি মূল কথায়—জীবন চলার পথে মানুষ আসবে। কিছু মানুষ সারাজীবন থাকবে, আবার অধিকাংশই অপরিচিত হয়ে যাবে। ভালো শুভাকাঙ্ক্ষী বন্ধুরা দূর থেকে দোয়া করবে আপনার জন্য—প্রতিদিন ফোনে খোঁজ না নিয়েও।
লাইফ ইজ ফুল অফ এক্সপেরিয়েন্স। পৃথিবীর সবচেয়ে ধুরন্ধর ব্যক্তিটাও ভুল করে। ভুল-সঠিক নিয়েই মানুষের জীবন—এগুলো নিয়ে রিগ্রেট করা যাবে না।
যারা আর্লি টুয়েন্টিজ ফেজে আছেন, তারা লাইফটা অনেক এনজয় করেন, প্রচুর মানুষের সাথে মিশেন—স্পেশালি অনেক গুড মেমোরি তৈরি করেন। কারণ এখন আপনার চারপাশে যারা আছে, মোস্ট প্রোবাবলি তাদের অনেকেই আগামী কয়েক বছর পর নিজ নিজ জায়গায় প্রস্থান করবে।
“এয়ারটেলের বন্ধু ছাড়া লাইফ ইম্পসিবল” টাইপের বুলশিট জিঙ্গেলের ফাঁদে পড়া যাবে না।
আর মোস্ট ইম্পর্টেন্টলি—নিজের সেলফ-রেসপেক্ট, স্টাডিজ আর ক্যারিয়ারকে সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি দিতে হবে এই বয়সে। এগুলো ঠিক রেখে বাকিসব করেন। এগুলোর মাঝে যারাই ঝামেলা করার চেষ্টা করবে—ডিরেক্ট কিক আউট, কোনো যদি-তবে ছাড়াই। মন মানবে না, কিন্তু এট এনি কস্ট মানাতে পারলে থার্টিজের পরে বেনিফিট পাওয়া শুরু করবেন, ফর সিওর।

5 months ago | [YT] | 0