এখানেই কি কাপাসিয়া থানার মাঝে সবচেয়ে বেশি মানুষ শহীদ হয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সময়?
৯ জন /১৭ জন/১৮ ।এই তিনটি ভিন্ন ভিন্ন তথ্য এখন পর্যন্ত পেয়েছি।কয়েক জনের স্পষ্ট নাম ঠিকানাও জানা হয়েছে।
আরো দীর্ঘদিন অসংখ্য স্থানীয়দের সাথে করা বলে সবার বৃত্তান্ত নোট করবো ক্রমানুসারে।
সিংহশ্রী(ভিটিপাড়া)।
যতটুকু জেনেছি সম্মুখ যু/দ্ধ হয়নি এই স্পটে।সবাই সাধারণ জনতা ছিলেন।একজন নারী নি/র্যাতিত হয়ে শহীদ হয়েছেন। উনার ভাইয়ের ছেলে সেদিন আফসোস করে আমাকে বলছিলেন কোন সহায়তা কোন সরকার থেকে পায়নি পরিবারের কেউ।
যারা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা না বরং সাধারণ শহীদ,উনাদের বোধহয় কোন সরকারি বিশেষ তালিকাভুক্ত স্বীকৃতি তথা ভাতা নেই।
সিংহশ্রী ছিল মুক্তিযুদ্ধের সময় বিশাল সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটি।নদীর ওপাড় থেকে এপারের আট ইউনিয়নকে তো হিন্দুস্থান বলতোই পাকিস্তান সেনাবাহিনী।
নদীর এপাড় তারা এলে গাছের একটা পাতাও রাখবে না বলে হু/মকি তো ছিলোই। সেজন্যই বহু পরিবার শ্রীপুর-গফরগাওঁয়ে স্থানান্তরিত হয়ে গিয়েছিল ভয়ে।
সিংহশ্রীর প্রতি কেন এত আক্রোশ ছিল তাদের?
এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজতে আরো নাহয় পঞ্চাশ জনের সাথে ক্লান্তিহীন কথা বলবো আমি অসংখ্য দিন গিয়ে গিয়ে। ইতোমধ্যেই ছয় জনের সাথে গল্প হয়েছে বিভিন্ন সময়ে।
যতটুকু জানতে পেরেছি তা জানাচ্ছি।
মুক্তিবাহিনীর বিশাল জনবল (৬০ এবং পরবর্তীতে আরো ৩০০) সম্পর্কে জেনে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে পাকিস্তানিরা।
অধিকাংশ প্রবীণ স্থানীয় কিন্তু পাকিস্তান কিংবা আর্মি বলেনা।বিহারী অথবা পাঞ্জাবি বলে ডাকে সাধারণত।
গোসিংগা অথবা পেলাইদ দিয়ে নাকি নদী পার হয়ে এদিকে আসে। (এমনিতে রায়েদ হয়ে আর্মিরা উত্তরে আসার বিষয়ে অন্য জায়গা থেকে আগেই জেনেছি)।
ছোট করে বলছি।
তাদের আগমন সংবাদে এখানকার মুক্তিরা ক্যাম্প ছেড়ে উত্তর দিকে চলে যায় এবং ফাঁকা গু/লি ছুড়ে ভয় দেখিয়ে তাদের আগমন ঠেকানোর চেষ্টা করে।
এটা বরং হিতে বিপরীত হয়। পাঞ্জাবিরা এসে সাধারণ মানুষের উপর তীব্র আক্রোশে গণহ/ত্যা করে এই স্পটের আশেপাশে কারী বাড়ি এলাকা এবং এই বাদশাহাটি ধারা এলাকায়।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকাংশই তখন প্রশিক্ষণে ভারতে ছিল। এখানে ছিল অন্য অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধারা।
আরো অনেক জানার আছে।জানবো এই বিষয়ে।
আমার মুক্তিযোদ্ধা নানার (আর্মি থেকে বিদ্রোহ করে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেওয়া) সাথেও কথা বলবো।তিনি ৭১ এর কিছু সময় সিংহশ্রীর ক্যাম্পে ছিলেন।
পাশের রায়েদ ইউনিয়ন পুরোটাতে ১৭/১৮ জন শহীদ হননি সবমিলিয়ে ৭১ এ।অথচ ওখানে ছিল যুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের বাড়ি। উনার গ্রাম দরদরিয়ায় ২ জন শহীদ হয়েছেন খুব সম্ভবত।১/২/৩। এর মধ্যে একজন অবশ্য পাঞ্জাবিদের নদী পাড় করার অভিযোগে মুক্তিবাহিনীর হাতেই নি/হত।
সিংহশ্রীতে বন ছিলনা।লোকজন পালাতে পারেনি সহজে।এটাও একটা বড় কারন অবশ্য।
স্থানীয়রা যখন ফুটবলার,নারী,শিশু,কৃষি শ্রমিক,হুজুর এভাবে বৈশিষ্ট্য ধরে ধরে শহীদ হবার বিবরণ দিচ্ছিলেন তখন উনাদের চোখ ছিল ছলছল আমিও হৃদয় দিয়ে অনুভব করছিলাম দুঃস্বপ্নের মত ঐ সময়টা।
এটা নিশ্চিত যে এই স্পটের উত্তরে যায়নি পাকিস্তান সেনাবাহিনী সেদিন।
আরো জানবো আরো শুনবো এই ঘটনার ইতিহাস।
বন্যপ্রাণির বইতে সামাজিক ইতিহাসের অংশ হিসেবে এই বিষয়েও লেখা থাকছে।কেননা দক্ষিণ পাশেই ঐ সময়ের ১৫ বছর আগে বাঘ,বাঘা এসবের বাস্তব গল্প রয়েছে।
তরগাঁও,রায়েদ, টোক এবং সিংহশ্রী এই চার ইউনিয়নের মাঝে এটাই যে সবচেয়ে বড় গণহ/ত্যার স্পট এতটুকু আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি এই কয়েক মাসের গবেষণার আলোকে।
ফরাসী ব্যবসায়ীদের বসত কলনী ফ্রেঞ্চগঞ্জ/ফরাশগঞ্জ। বাংলাবাজারের পূর্ব পাশেই ফরাসগঞ্জের শুরু।
প্রায় দেড়শো বছরের পুরাতন লাল দালান নর্থবুক হল।সামনেই বুড়িগঙ্গা, বাঁকল্যান্ড বাঁধ।
এখানকার আড়ৎদার চরিত্র নাটকের দৃশ্যে কয়েকজন বেশ চমৎকার উপস্থাপন করেছেন বিভিন্ন সময়। এজন্য হঠাৎ গেলে পেঁয়াজ-রসুনের আড়ৎ দেখার সময় জাহিদ হাসানদের উপস্থিতি অনুভব করি যেন।
কয়রা খালের ভাটির নাম শামনা খাল( লোকজ কথ্যে প্রাচীন শাম নদী)।এরপর সেই প্রবাহ মিশেছে কাপাসিয়ার অভ্যন্তরীণ ছোট বানার নদীর সাথে।
সেই বানার চরখিরাটি-সনমানিয়া পয়েন্টে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রে নেমেছে।সেই ব্রহ্মপুত্র লাখপুর-রাণীগঞ্জে বড় বানারের সাথে মিশে শীতলক্ষ্যার আনুষ্ঠানিক উৎপত্তি ঘটিয়েছে।
শীতলক্ষ্যা ধলেশ্বরীতে মিশেছে মুন্সীগঞ্জ শহরের সবচেয়ে উত্তর প্রান্তের উত্তরে।
উল্লেখ্য যে এই ছবির ঘোষেরকান্দি গ্রামটি পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের পাড়েই অবস্থিত।নদের ওপাড়েই কিশোরগঞ্জ জেলার ঐতিহাসিক এগারোসিন্দু অঞ্চল।
গাজীপুর কাপাসিয়ার টোক ইউনিয়নের দৃশ্য।
ছবির উল্টো পাশ তথা দক্ষিণ দিকটা টেকটিলাময়।
কিন্তু এই বিলাঞ্চল এবং উত্তরটা পলল সমতলের (তবে শক্ত) আবহ।
নয়াসাঙ্গুনের উত্তর পাশেই মোগল আমলের সুলতানপুর শাহী মসজিদ।তবে দুঃখজনকভাবে প্রাচীন কাঠামোটি দৃশ্যমান নাই এখন।(২০০৪ সালে দেখেছিলাম এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে টোক ভ্রমণে এসে।)।আধুনিক বর্ধিতাংশের মাঝে পরে আছে আদি স্থাপনা।
এই বিল হয়তো হাজার বছর আগের ব্রহ্মপুত্রের পরিত্যক্ত দক্ষিণ পাড়।
স্থানীয়রা বলে কালী বানার, সরকারি নথিতে বানার এবং দূরের মানুষ দূর থেকে বলে শীতলক্ষ্যা।দুয়েক বইতে টোক নদী হিসেবেও লিখেছে নাকি কেউ কেউ।
এটার প্রবাহ থেকেই শীতলক্ষ্যার সৃষ্টি।লক্ষ্যার ঠিক আগের জেনারেশন।
তবে এই পয়েন্ট থেকে চার কিলোমিটার পশ্চিমে শিলা-সুতিয়ার সাথে বানারের মিশ্রনের পর আনঅফিসিয়ালি(স্থানীয়দের কথ্যে) শীতলক্ষ্যা নামের উদ্ভব।
কপালেশ্বর-বড়িবাড়ির কালাপাহাড় বনের চিতাবাঘেরা ওখানকার দিঘী ছাড়াও এই নদী থেকে রাতে এসে পানি খেত পঞ্চাশের দশকের।বাস্তব গল্পের প্রয়োজনে গতকাল এখানে গিয়ে অনুভব করছিলাম সেই সময়টা।
ব্রাহ্মণ জমিদারের সন্তান রতন বাবু এখনো বসবাস করছেন ভাওয়ালের কাপাসিয়া বেল্টে সবশেষ এক গ্রাম উলুসারায়।
এই বাড়ি থেকে চারশো মিটার দূরেই নদীর ওপাড়ে ময়মনসিংহ জেলা।
এখনকার তিন জেলার চার থানার ২০/২২ টি গ্রামে ছিল উনাদের জমিদারি।এটাই ছিল সদরদপ্তর।
তিনি আঞ্চলিক ইতিহাসের খনি। হাসিখুশি মিশুক একজন সময় কাটানো হোমিওপ্যাথি ডাক্তার। চিরকুমার মানুষ।
২০ বছর আগে এই গ্রামের বাসিন্দা বন্ধু মুহসিনের সাথে এসে উনার সাথে আড্ডা দিয়েছিলাম।
এজন্য বুঝতে পারছিলাম এই স্বাক্ষাৎকারটা ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ আমার জন্য।
গবেষণায় নেমে গত বিশ দিনে চারবারের মাথায় এসে উনার দেখা পেলাম আজ বিকালে (ঢাকায় ছিলেন,বিশ্রামে ছিলেন)।এর মাঝে কল দিয়ে মেসেজ করেও রেসপন্স পাচ্ছিলাম না। যেহেতু চিনতে পারেননি আমাকে।
চার বার নয় শতশত বার আমি আসতাম যদি দেখা না হত।কারন তথ্যের এই বড় লট কিছুতেই আর কখনো কোথাও পেতাম না উনার অবর্তমানে আমি আমরা আগ্রহীরা।
তথ্য বলতে আমি যেসব খুঁজি আরকি।নাই তো অধিকাংশই সেসব কোন বইতে।আসলেই নাই এখন পর্যন্ত।
২০/২৫ মিনিট গল্প হল।আরেক দিনের লম্বা সময়ের শিডিউল নিয়ে আসলাম।
সাবলীল অনর্গল দ্রুত একটানা বলছেন তিনি।আমি প্রশ্ন করছি একের পর এক। বর্ধিত করছি উনার পয়েন্ট।কারন সবকিছুই তো মুহূর্তেই তাৎক্ষণিক রিলেট করতে পারছিলাম আমি। স্থান নাম থেকে শুরু করে সবকিছুই তো কমন আমার।
এজন্যই কথা এগোচ্ছিল বেশ দ্রুত মাল্টি ডাইমেনশনাল।
তিনি হয়তো ৬৫ বছরের আশেপাশের মানুষ। কিন্তু উনার শতায়ু বাবার নিকট থেকে নিতে পেরেছেন প্রায় সবকিছুই। আমার মত (উদাহরণ, অহংকার নয়) লোকজ ইতিহাসে অত্যন্ত আগ্রহী লোক তিনি।পুরো পারিবারিক ইতিহাস অন্তর থেকেই লালন করেন,চর্চা করেছেন জীবনভর।
উনার বাবা জমিদার এবং শিকারি ছিলেন।দাদা এবং দাদার বাবা জমিদার এবং চেয়ারম্যান/প্রেসিডেন্ট/পঞ্চায়েত ছিলেন।
মোগল আমল আমল থেকেই পূর্বপুরুষদের একটানা জমিদারি।তবে এখানে স্থির হয়েছেন কোম্পানি আমলে।।
চলে আসার সময় বললাম আপনার ভিতরের সকল তথ্য সংগ্রহ করে নিবো আমি।তিনি মুচকি হাসলেন।
Nazib Mahfuz Khan
ছোট্ট শালদহে বৃষ্টির পর ভীষণ স্রোত হয়।এই নদীর শেষ গন্তব্য তুরাগে।
ভাওয়াল মীর্জাপুর বাজারের উত্তর-পশ্চিমে লবণদহ এবং শালদহ মিশেছে তুরাগ নদীতে।
মধুপুর-ভাওয়াল বেল্টের মিলিত স্রোত। পাহাড়ি নদীর মত সামান্য। গাজীপুরের নিজমাওনা গ্রাম থেকে টাঙ্গাইলের কালমেঘা যাচ্ছিলাম সেদিন।
এসব খালের মত ছোট নদী এককালে প্রমত্তা ছিল।যখন এসবে ব্রহ্মপুত্রের প্রবাহ ভাটিতে যেত যমুনার আগে।আরো আগে।
34 minutes ago | [YT] | 0
View 0 replies
Nazib Mahfuz Khan
এখানেই কি কাপাসিয়া থানার মাঝে সবচেয়ে বেশি মানুষ শহীদ হয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সময়?
৯ জন /১৭ জন/১৮ ।এই তিনটি ভিন্ন ভিন্ন তথ্য এখন পর্যন্ত পেয়েছি।কয়েক জনের স্পষ্ট নাম ঠিকানাও জানা হয়েছে।
আরো দীর্ঘদিন অসংখ্য স্থানীয়দের সাথে করা বলে সবার বৃত্তান্ত নোট করবো ক্রমানুসারে।
সিংহশ্রী(ভিটিপাড়া)।
যতটুকু জেনেছি সম্মুখ যু/দ্ধ হয়নি এই স্পটে।সবাই সাধারণ জনতা ছিলেন।একজন নারী নি/র্যাতিত হয়ে শহীদ হয়েছেন। উনার ভাইয়ের ছেলে সেদিন আফসোস করে আমাকে বলছিলেন কোন সহায়তা কোন সরকার থেকে পায়নি পরিবারের কেউ।
যারা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা না বরং সাধারণ শহীদ,উনাদের বোধহয় কোন সরকারি বিশেষ তালিকাভুক্ত স্বীকৃতি তথা ভাতা নেই।
সিংহশ্রী ছিল মুক্তিযুদ্ধের সময় বিশাল সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটি।নদীর ওপাড় থেকে এপারের আট ইউনিয়নকে তো হিন্দুস্থান বলতোই পাকিস্তান সেনাবাহিনী।
নদীর এপাড় তারা এলে গাছের একটা পাতাও রাখবে না বলে হু/মকি তো ছিলোই। সেজন্যই বহু পরিবার শ্রীপুর-গফরগাওঁয়ে স্থানান্তরিত হয়ে গিয়েছিল ভয়ে।
সিংহশ্রীর প্রতি কেন এত আক্রোশ ছিল তাদের?
এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজতে আরো নাহয় পঞ্চাশ জনের সাথে ক্লান্তিহীন কথা বলবো আমি অসংখ্য দিন গিয়ে গিয়ে। ইতোমধ্যেই ছয় জনের সাথে গল্প হয়েছে বিভিন্ন সময়ে।
যতটুকু জানতে পেরেছি তা জানাচ্ছি।
মুক্তিবাহিনীর বিশাল জনবল (৬০ এবং পরবর্তীতে আরো ৩০০) সম্পর্কে জেনে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে পাকিস্তানিরা।
অধিকাংশ প্রবীণ স্থানীয় কিন্তু পাকিস্তান কিংবা আর্মি বলেনা।বিহারী অথবা পাঞ্জাবি বলে ডাকে সাধারণত।
গোসিংগা অথবা পেলাইদ দিয়ে নাকি নদী পার হয়ে এদিকে আসে। (এমনিতে রায়েদ হয়ে আর্মিরা উত্তরে আসার বিষয়ে অন্য জায়গা থেকে আগেই জেনেছি)।
ছোট করে বলছি।
তাদের আগমন সংবাদে এখানকার মুক্তিরা ক্যাম্প ছেড়ে উত্তর দিকে চলে যায় এবং ফাঁকা গু/লি ছুড়ে ভয় দেখিয়ে তাদের আগমন ঠেকানোর চেষ্টা করে।
এটা বরং হিতে বিপরীত হয়। পাঞ্জাবিরা এসে সাধারণ মানুষের উপর তীব্র আক্রোশে গণহ/ত্যা করে এই স্পটের আশেপাশে কারী বাড়ি এলাকা এবং এই বাদশাহাটি ধারা এলাকায়।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকাংশই তখন প্রশিক্ষণে ভারতে ছিল। এখানে ছিল অন্য অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধারা।
আরো অনেক জানার আছে।জানবো এই বিষয়ে।
আমার মুক্তিযোদ্ধা নানার (আর্মি থেকে বিদ্রোহ করে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেওয়া) সাথেও কথা বলবো।তিনি ৭১ এর কিছু সময় সিংহশ্রীর ক্যাম্পে ছিলেন।
পাশের রায়েদ ইউনিয়ন পুরোটাতে ১৭/১৮ জন শহীদ হননি সবমিলিয়ে ৭১ এ।অথচ ওখানে ছিল যুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের বাড়ি। উনার গ্রাম দরদরিয়ায় ২ জন শহীদ হয়েছেন খুব সম্ভবত।১/২/৩।
এর মধ্যে একজন অবশ্য পাঞ্জাবিদের নদী পাড় করার অভিযোগে মুক্তিবাহিনীর হাতেই নি/হত।
সিংহশ্রীতে বন ছিলনা।লোকজন পালাতে পারেনি সহজে।এটাও একটা বড় কারন অবশ্য।
স্থানীয়রা যখন ফুটবলার,নারী,শিশু,কৃষি শ্রমিক,হুজুর এভাবে বৈশিষ্ট্য ধরে ধরে শহীদ হবার বিবরণ দিচ্ছিলেন তখন উনাদের চোখ ছিল ছলছল আমিও হৃদয় দিয়ে অনুভব করছিলাম দুঃস্বপ্নের মত ঐ সময়টা।
এটা নিশ্চিত যে এই স্পটের উত্তরে যায়নি পাকিস্তান সেনাবাহিনী সেদিন।
আরো জানবো আরো শুনবো এই ঘটনার ইতিহাস।
বন্যপ্রাণির বইতে সামাজিক ইতিহাসের অংশ হিসেবে এই বিষয়েও লেখা থাকছে।কেননা দক্ষিণ পাশেই ঐ সময়ের ১৫ বছর আগে বাঘ,বাঘা এসবের বাস্তব গল্প রয়েছে।
তরগাঁও,রায়েদ, টোক এবং সিংহশ্রী এই চার ইউনিয়নের মাঝে এটাই যে সবচেয়ে বড় গণহ/ত্যার স্পট এতটুকু আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি এই কয়েক মাসের গবেষণার আলোকে।
37 minutes ago | [YT] | 0
View 0 replies
Nazib Mahfuz Khan
পাশাপাশি তিনটি প্রাচীন স্কুল। ছাত্রজীবনে শখের বসে পুরান ঢাকার অলিগলিতে প্রচুর পথ চলেছি ইতিহাসের টানে।
পরবর্তীতে ভার্চুয়ালি যা হেরিটেজ ট্যুর নামে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।ঐ সময়টাতে আমি অবশ্য ঢাকাকেন্দ্রিক নাই।সারাদেশে সলো ট্রাভেলিং শুরু করে দিয়েছি।
আবারো সময় দিতে হবে আদি ঢাকায়।এখনতো দেখার চোখ আরেকটু প্রসারিত হবার কথা। সুতরাং উপভোগ্য হবে নিশ্চয়ই।
41 minutes ago | [YT] | 0
View 0 replies
Nazib Mahfuz Khan
ফরাসী ব্যবসায়ীদের বসত কলনী ফ্রেঞ্চগঞ্জ/ফরাশগঞ্জ। বাংলাবাজারের পূর্ব পাশেই ফরাসগঞ্জের শুরু।
প্রায় দেড়শো বছরের পুরাতন লাল দালান নর্থবুক হল।সামনেই বুড়িগঙ্গা, বাঁকল্যান্ড বাঁধ।
এখানকার আড়ৎদার চরিত্র নাটকের দৃশ্যে কয়েকজন বেশ চমৎকার উপস্থাপন করেছেন বিভিন্ন সময়। এজন্য হঠাৎ গেলে পেঁয়াজ-রসুনের আড়ৎ দেখার সময় জাহিদ হাসানদের উপস্থিতি অনুভব করি যেন।
সময়ের স্বাক্ষী এসব পুরান ঢাকার পুরান দালান।
1 day ago | [YT] | 13
View 1 reply
Nazib Mahfuz Khan
দূর থেকেই কথা বলছিলাম।
5 days ago | [YT] | 24
View 1 reply
Nazib Mahfuz Khan
কয়রা বিল থেকে কয়রা খালের উৎপত্তি এখানে।
কয়রা খালের ভাটির নাম শামনা খাল( লোকজ কথ্যে প্রাচীন শাম নদী)।এরপর সেই প্রবাহ মিশেছে কাপাসিয়ার অভ্যন্তরীণ ছোট বানার নদীর সাথে।
সেই বানার চরখিরাটি-সনমানিয়া পয়েন্টে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রে নেমেছে।সেই ব্রহ্মপুত্র লাখপুর-রাণীগঞ্জে বড় বানারের সাথে মিশে শীতলক্ষ্যার আনুষ্ঠানিক উৎপত্তি ঘটিয়েছে।
শীতলক্ষ্যা ধলেশ্বরীতে মিশেছে মুন্সীগঞ্জ শহরের সবচেয়ে উত্তর প্রান্তের উত্তরে।
উল্লেখ্য যে এই ছবির ঘোষেরকান্দি গ্রামটি পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের পাড়েই অবস্থিত।নদের ওপাড়েই কিশোরগঞ্জ জেলার ঐতিহাসিক এগারোসিন্দু অঞ্চল।
গাজীপুর কাপাসিয়ার টোক ইউনিয়নের দৃশ্য।
ছবির উল্টো পাশ তথা দক্ষিণ দিকটা টেকটিলাময়।
কিন্তু এই বিলাঞ্চল এবং উত্তরটা পলল সমতলের (তবে শক্ত) আবহ।
নয়াসাঙ্গুনের উত্তর পাশেই মোগল আমলের সুলতানপুর শাহী মসজিদ।তবে দুঃখজনকভাবে প্রাচীন কাঠামোটি দৃশ্যমান নাই এখন।(২০০৪ সালে দেখেছিলাম এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে টোক ভ্রমণে এসে।)।আধুনিক বর্ধিতাংশের মাঝে পরে আছে আদি স্থাপনা।
এই বিল হয়তো হাজার বছর আগের ব্রহ্মপুত্রের পরিত্যক্ত দক্ষিণ পাড়।
© Nazib Mahfuz khan
1 week ago | [YT] | 5
View 6 replies
Nazib Mahfuz Khan
স্থানীয়রা বলে কালী বানার, সরকারি নথিতে বানার এবং দূরের মানুষ দূর থেকে বলে শীতলক্ষ্যা।দুয়েক বইতে টোক নদী হিসেবেও লিখেছে নাকি কেউ কেউ।
এটার প্রবাহ থেকেই শীতলক্ষ্যার সৃষ্টি।লক্ষ্যার ঠিক আগের জেনারেশন।
তবে এই পয়েন্ট থেকে চার কিলোমিটার পশ্চিমে শিলা-সুতিয়ার সাথে বানারের মিশ্রনের পর আনঅফিসিয়ালি(স্থানীয়দের কথ্যে) শীতলক্ষ্যা নামের উদ্ভব।
কপালেশ্বর-বড়িবাড়ির কালাপাহাড় বনের চিতাবাঘেরা ওখানকার দিঘী ছাড়াও এই নদী থেকে রাতে এসে পানি খেত পঞ্চাশের দশকের।বাস্তব গল্পের প্রয়োজনে গতকাল এখানে গিয়ে অনুভব করছিলাম সেই সময়টা।
1 week ago | [YT] | 4
View 4 replies
Nazib Mahfuz Khan
১১৩ বৎসর বয়সী মাটির জমিদার বাড়ি।
ব্রাহ্মণ জমিদারের সন্তান রতন বাবু এখনো বসবাস করছেন ভাওয়ালের কাপাসিয়া বেল্টে সবশেষ এক গ্রাম উলুসারায়।
এই বাড়ি থেকে চারশো মিটার দূরেই নদীর ওপাড়ে ময়মনসিংহ জেলা।
এখনকার তিন জেলার চার থানার ২০/২২ টি গ্রামে ছিল উনাদের জমিদারি।এটাই ছিল সদরদপ্তর।
তিনি আঞ্চলিক ইতিহাসের খনি। হাসিখুশি মিশুক একজন সময় কাটানো হোমিওপ্যাথি ডাক্তার। চিরকুমার মানুষ।
২০ বছর আগে এই গ্রামের বাসিন্দা বন্ধু মুহসিনের সাথে এসে উনার সাথে আড্ডা দিয়েছিলাম।
এজন্য বুঝতে পারছিলাম এই স্বাক্ষাৎকারটা ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ আমার জন্য।
গবেষণায় নেমে গত বিশ দিনে চারবারের মাথায় এসে উনার দেখা পেলাম আজ বিকালে (ঢাকায় ছিলেন,বিশ্রামে ছিলেন)।এর মাঝে কল দিয়ে মেসেজ করেও রেসপন্স পাচ্ছিলাম না। যেহেতু চিনতে পারেননি আমাকে।
চার বার নয় শতশত বার আমি আসতাম যদি দেখা না হত।কারন তথ্যের এই বড় লট কিছুতেই আর কখনো কোথাও পেতাম না উনার অবর্তমানে আমি আমরা আগ্রহীরা।
তথ্য বলতে আমি যেসব খুঁজি আরকি।নাই তো অধিকাংশই সেসব কোন বইতে।আসলেই নাই এখন পর্যন্ত।
২০/২৫ মিনিট গল্প হল।আরেক দিনের লম্বা সময়ের শিডিউল নিয়ে আসলাম।
সাবলীল অনর্গল দ্রুত একটানা বলছেন তিনি।আমি প্রশ্ন করছি একের পর এক। বর্ধিত করছি উনার পয়েন্ট।কারন সবকিছুই তো মুহূর্তেই তাৎক্ষণিক রিলেট করতে পারছিলাম আমি। স্থান নাম থেকে শুরু করে সবকিছুই তো কমন আমার।
এজন্যই কথা এগোচ্ছিল বেশ দ্রুত মাল্টি ডাইমেনশনাল।
তিনি হয়তো ৬৫ বছরের আশেপাশের মানুষ। কিন্তু উনার শতায়ু বাবার নিকট থেকে নিতে পেরেছেন প্রায় সবকিছুই। আমার মত (উদাহরণ, অহংকার নয়) লোকজ ইতিহাসে অত্যন্ত আগ্রহী লোক তিনি।পুরো পারিবারিক ইতিহাস অন্তর থেকেই লালন করেন,চর্চা করেছেন জীবনভর।
উনার বাবা জমিদার এবং শিকারি ছিলেন।দাদা এবং দাদার বাবা জমিদার এবং চেয়ারম্যান/প্রেসিডেন্ট/পঞ্চায়েত ছিলেন।
মোগল আমল আমল থেকেই পূর্বপুরুষদের একটানা জমিদারি।তবে এখানে স্থির হয়েছেন কোম্পানি আমলে।।
চলে আসার সময় বললাম আপনার ভিতরের সকল তথ্য সংগ্রহ করে নিবো আমি।তিনি মুচকি হাসলেন।
1 week ago | [YT] | 3
View 1 reply
Nazib Mahfuz Khan
রাণীগঞ্জে ভাওয়াল রাজার কাচারি ঘর।
জয়দেবপুর জমিদারির এমন পাকা খাজনা আদায়ের ভবন আরো দেখেছি পূবাইল, গোসিংগা এবং দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের শিলা বাজারে।
অর্থাৎ শতবর্ষের অধিক আগের চারটা পাকা কাচারি ভবন আমার চোখে পড়েছে।আরো ছিল। নিশ্চয়ই টিকে আছে এখনো কোথাও।
এখানে রাণী এসেছিলেন।সেই থেকেই গোসাইরগাঁও গ্রামের শীতলক্ষ্যা, ব্রহ্মপুত্র এবং বানার তীরবর্তী এই গঞ্জের নাম রাণীগঞ্জ।
১৯০১ সালে রাজা রাজেন্দ্রর এবং ১৯০৭ সালে রাণী বিলসমণির মৃত্যু হয়।
সেজন্য আমি ধরে নিলাম জমিদারি দেখাশোনার কাজে ১৯০১ থেকে ১৯০৭ সালের মধ্যবর্তী কোন এক সময়ে রাণী এসেছিলেন এখানে।
যেহেতু ভাওয়াল সন্ন্যাসী রাজা সহ তিন ছেলেই তখনো নাবালক এবং রাজা হয়ে উঠেননি কেউ।
1 week ago | [YT] | 2
View 1 reply
Nazib Mahfuz Khan
৯৮ বছর(ভেরিফাইড)। মাত্রই হঠাৎ দেখা বলখেলার হাটে। চায়ের কাপ হাতে গল্প হল আধাঘণ্টা।
ধান ব্যবসায়ী তিনি ট্রেন/সড়ক পথে হালুয়াঘাট যেতেন।তবে নৌকা যেত গাজীপুরের মধ্যাঞ্চল থেকে মেঘনা হাওর নেত্রকোনা ঘুরে।
আসা-যাওয়ায় ১২/১৩ দিন লাগতো মাঝিদের।বেশ ইন্টারেস্টিং।
বিস্তারিত শুনেছি। লিখবো পাণ্ডুলিপিতে।
ফিরে আসার সময় তিনি দোয়া চাইলেন, আমিতো অবশ্যই।
বৃদ্ধের তুলতুলে হাতে হাত রাখার সময় অপার্থিব অনুভব কাজ করছিলো।
1 week ago | [YT] | 0
View 1 reply
Load more